এপ্রিল পর্যন্ত দেশে করোনা আক্রান্তদের ২৮ শতাংশই ছিল উপসর্গহীন, জানাল আইসিএমআরের রিপোর্ট

আইসিএমআর-এর পরিসংখ্যাণ বলছে, ২২ জানুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত কোভিড টেস্টিংয়ে যতজন পজিটিভ রোগীর খোঁজ মিলেছিল তাঁদের ৪০,১৮৪ জনের মধ্যে অন্তত ২৮ শতাংশই ছিল উপসর্গহীন। অর্থাৎ যাঁদের শরীরে করোনা পজিটিভ অথচ বাইরে সে রোগের কোনও লক্ষণ নেই।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের অন্তত ৭৫টি জেলায় কোভিড টেস্টের বৃহত্তর কর্মসূচী নিয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)। জুন মাস অবধি দিনে গড়ে ২ লাখের বেশি কোভিড টেস্ট করা হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। আইসিএমআর জানিয়েছে যত বেশি কোভিড টেস্টিং হবে, আক্রান্তদের ততটাই তাড়াতাড়ি চিহ্নিত করা যাবে। বিশেষত লক্ষণহীন বাহক বা উপসর্গহীন কোভিড রোগীদের শনাক্ত করতে র‍্যাপিড ও র‍্যান্ডম টেস্ট ছাড়া অন্য গতি নেই। আর ভারতে এই উপসর্গহীন কোভিড রোগীদের সংখ্যাও নেহাত মন্দ নয়।

    আইসিএমআর-এর পরিসংখ্যাণ বলছে, ২২ জানুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত কোভিড টেস্টিংয়ে যতজন পজিটিভ রোগীর খোঁজ মিলেছিল তাঁদের ৪০,১৮৪ জনের মধ্যে অন্তত ২৮ শতাংশই ছিল উপসর্গহীন। অর্থাৎ যাঁদের শরীরে করোনা পজিটিভ অথচ বাইরে সে রোগের কোনও লক্ষণ নেই। সর্দি, জ্বর, শুকনো কাশি বা শ্বাসকষ্ট, কোভিড সংক্রমণের প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে যেগুলিকে ধরা হয় তার কোনওটাই ছিল না ওই রোগীদের মধ্যে। বাদবাকি রোগীদের অনেকেরই আবার ‘মাইল্ড সিম্পটম’ বা মৃদু উপসর্গ ধরা পড়েছিল।

    ‘ইন্ডিয়ান জার্নাল অব মেডিক্যাল রিসার্চ’-এর রিপোর্ট বলছে, এপ্রিল মাস অবধি যত সংক্রমণ ধরা পড়েছে তাদের মধ্যে ২৮.১ শতাংশ অ্যাসিম্পটোমেটিক বা উপসর্গহীন, ২৫.৩ শতাংশ হাই রিস্ক কেস এবং ২.৮ শতাংশ সংক্রমণ স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ধরা পড়েছিল যারা নানা সময় কোভিড রোগীদের সংস্পর্শে এসেছিলেন। আইসিএমআরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এপিডেমোলজির ডিরেক্টর মনোজ মুরহেকর বলেছেন,উপসর্গহীন রোগীদের যে হিসেবটা এপ্রিল অবধি দেওয়া হয়েছে বর্তমানে সেই সংখ্যা আরও বেড়েছে। এই ধরনের রোগী যাদের শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ রয়েছে অথচ বাইরে রোগের কোনও উপসর্গ নেই, তারাই মূলত চিন্তার কারণ। এই রোগীদের চিহ্নিত করা না গেলে তাঁদের থেকে আরও অনেকের সংক্রমণ ছড়াবার আশঙ্কা থেকে যায়।

    মনোজ মুরহেকর জানাচ্ছেন,  এই উপসর্গহীন রোগীরা আগেও ছিলেন। কিন্তু এমন ধরনের রোগীদের শুরু থেকেই শনাক্ত করার চেষ্টা হয়নি। যে কারণেই এদের সংখ্যা বেড়েছে এবং এদের থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কাও বেড়েছে। তবে শুধু উপসর্গহীন রোগীরাই নন, যাঁদের উপসর্গ ফুটে ওঠে শরীরে ভাইরাস ঢোকারও দুই থেকে তিনদিন পরে, তাঁদের থেকেও সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি থেকে যায়। এই ভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড অর্থাৎ শরীরে এর সক্রিয়তা কতদিন থাকবে সেটা এখনও স্পষ্ট নয়।  ভাইরোলজিস্টদের মতে, এর ইনকিউবেশন পিরিয়ড অর্থাৎ টিকে থাকার সময় হতে পারে ৭-১৪ দিন আবার কম করে পাঁচদিন। অর্থাৎ ভাইরাস শরীরে ঢোকার পরে এই সময়ের মধ্যে রোগীর উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তার মধ্যে নাক বা গলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করলে রোগী ভাইরাস পজিটিভ কিনা বোঝা যায়। কিন্তু বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে দেখা গেছে, সার্স-কভ-২ এর ইনকিউবেশন পিরিয়ড একমাস বা ৩৭ দিনেরও বেশি। আর এই সময়ের মধ্যে ভাইরাস নাক বা গলাতেও বসে নেই, বরং শ্বাসনালী দিয়ে নেমে গিয়ে ফুসফুস বা অন্য অঙ্গগুলিকে সংক্রমিত করা শুরু করেছে। সুতরাং নাক বা গলা থেকে নেওয়া নমুনার মধ্যে সবসময়েই যে ভাইরাল স্ট্রেন পাওয়া যাবে তেমনটা কিন্তু নয়। এমন উপসর্গহীন রোগীদের সমস্যা হল এঁরা নিজেরাই বুঝতে পারেন না সংক্রামিত হয়েছেন কিনা। এই রোগীদের আশপাশে থাকা মানুষজনও তাই সতর্ক হওয়ার সুযোগ পান না।

    আইসিএমআরের হিসেব বলছে, ২২ জানুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১০,২১,৫১৮ জন রোগীর সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোম ধরা পড়েছিল। মার্চের শুরু থেকে প্রতিদিনে কোভিড টেস্টের সংখ্যা ২৫০টি করে বাড়ানো হয়। এপ্রিলের শেষে ৫০ হাজারের বেশি কোভিড টেস্টিং করা হয়। যাদের মধ্যে ৪০,১৮৪ জনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। আইসিএমআর জানাচ্ছে, বর্তমানে দেশের ৪৩১ টি সরকারি ও ১৭৮টি বেসরকারি ল্যাবে কোভিড টেস্টিং চলছে। প্রতিটি ল্যাবের পরিকাঠামো এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে যাতে প্রতি দিনে প্রায় দেড় লক্ষের মতো স্যাম্পেল নির্ভুলভাবে টেস্ট করা যায়। সেই হিসেবে ফি দিনে ২ লক্ষেরও বেশি কোভিড টেস্ট করার কর্মসূচী নেওয়া হচ্ছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More