২৩ লক্ষ পশুপাখি পুড়ে মরেছে বলিভিয়ার আমাজন অরণ্যে! ব্রাজিলে কত, হিসেব নেই এখনও

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগুন নিভে গেছে, কিন্তু এখনও রয়ে গিয়েছে ধিকিধিকি আঁচ। পুরোপুরি ভিতরে ঢোকা যাচ্ছে না। বিশেষ করে ব্রাজিলের অংশে তো নয়ই। কিন্তু তুলনামূলক ভাবে নিভেছে বলিভিয়ার অংশের অরণ্য। আর সেখানকার হিসেব বলছে, বলিভিয়ার ৪২ লক্ষ একর বনভূমি ধ্বংস হয়ে গেছে এই আগুনে। সেই সঙ্গে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে ওই এলাকায় বসবাসকারী বিরল প্রাণী জাগুয়ার, পুমা ও লামা-সহ ২৩ লক্ষেরও বেশি পশু-পাখি। বলিভিয়া সরকারের অরণ্য মন্ত্রক সূত্রে পাওয়া খবর এমনটাই বলছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলিভিয়ার চিকুইতানিয়া গ্রীষ্ম সাভানা অঞ্চল ও সান্তা ক্রুজ প্রদেশের সুরক্ষিত প্রাকৃতিক এলাকা ও বনভূমি। উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, সেখানকার বিশাল এলাকা জুড়ে শুধু ভস্মীভূত গাছপালা ও ছাই পড়ে আছে। আগুনে পুড়ে মারা গেছে লাখ লাখ পশু-পাখি।

সান্তাক্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সান্দ্রা কুইরোগা বলেন, “আগুনের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে আমরা জীববিজ্ঞানীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের হিসেব অনুযায়ী, চিকুইতানিয়ার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অন্তত ২৩ লাখ প্রাণী পুড়ে মারা গেছে।

ল্যাটিন আমেরিকার ওসলোট, পুমা ও জাগুয়ারের মতো বনবিড়াল ছাড়াও হরিণ, লামা এবং অ্যান্টইটার, ব্যাজার, তাপির ও রোডেন্টের মতো ছোট প্রাণীদের প্রজাতি একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তাদের পুড়ে কালো হয়ে যাওয়া মৃতদেহের ছবি প্রকাশ করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।

প্রায় মাস দুয়েক হয়ে গেল, একের পর এক দাবানলে পুড়ে যাচ্ছে আমাজন অরণ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। ৪০ হাজারেরও বেশি প্রজাতির গাছ, ২৫ লক্ষ প্রজাতির পতঙ্গ, হাজার দুয়েক পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর প্রজাতি এবং আড়াই হাজার প্রজাতির মাছের বাসভূমি এই আমাজন। দক্ষিণ আমেরিকায় আমাজন নদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা চিরসবুজ আমাজন অরণ্যে হাজার হাজার বছর ধরে বসবাস তাদের। নিঃশব্দে পুড়ে যাচ্ছে তারা।

উপগ্রহ চিত্রে ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হয়েছে, এই আগুন প্রাকৃতিক নয়, ‘ম্যানমেড’। বিশ্ব জুড়ে সমালোচিত হয়েছে ব্রাজ়িলের প্রেসিডেন্ট বোলসোরানোর অরণ্য-নীতি নিয়ে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তিনি পদে বসার পরেই অরণ্য নষ্ট করে চাষাবাদের জমি তৈরি করা এবং খননের কড়াকড়ি আলগা হয়েছে। দৌরাত্ম্য বেড়েছে জমিমাফিয়া ও খনিমাফিয়াদের। তারই জেরে এই আগুনের পালা বলে মনে করছেন অনেকেই।

সরকারি হিসেবই বলছে এ বছরের প্রথম আট মাসে আমাজনের জঙ্গলে ৭৫ হাজারের বেশি দাবানল হয়েছে। ২০১৩ সালের পরে এই সংখ্যা সব চেয়ে বেশি। ২০১৮ সালে বনাঞ্চলে মোট আগুন লাগার সংখ্যা ছিল ৩৯ হাজার ৭৫৯।ভৌগোলিক ভাবে বিশ্বের বৃহত্তম এই বৃষ্টিচ্ছায় অরণ্য পৃথিবীর ২০ শতাংশ অক্সিজেন সরবরাহ করে। তাই দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন নদীর অববাহিকীয় গড়ে ওঠা এই গভীর রেনফরেস্টকে পৃথিবীর ফুসফুসও বলা হয়। কিন্তু লাগাতার আগুনে নিঃশব্দে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে এই ফুসফুস! ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে আমাজনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। এতে গোটা বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনেও প্রবল প্রভাব পড়তে পারে।

আরও পড়ুন…

জ্বলন্ত আমাজনের বুকে প্রতিবাদে জ্বলে উঠেছেন যে আদিবাসী মানুষটি, গর্জে উঠেছেন অরণ্যের অধিকারে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More