রেস্তোরাঁয় খেয়ে ওয়েট্রেসকে নতুন গাড়ি উপহার দিলেন দম্পতি, কারণ জানলে চমকে উঠবেন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিনের শুরুতেই যে এমন চমক অপেক্ষা করছে সেটা আগে জানতেন না আদ্রিয়ানা । প্রতিদিনের মধ্যে ঠিক সময় ঘুম থেকে উঠেছিলেন। ২২ কিলোমিটার রাস্তা পায়ে হেঁটে পৌঁছেছিলেন নিজের কাজের জায়গায়। তারপরেই বদলে গেল সবকিছু। চমক না বলে বরং স্বপ্নপূরণ বলাই ভাল। কারণ আদ্রিয়ানা বলেছেন, এই ঘোর কাটতেই চাইছে না তাঁর।

    আদ্রিয়ানা এডওয়ার্ড। টেক্সাসের বাসিন্দা এই তরুণী গালভেস্টনের ডেন্নি’স রেস্তোরাঁয় ওয়েটারের কাজ করেন। গালভেস্টনের যেখানে ওই রেস্তোরাঁ আছে সেখান থেকে আদ্রিয়ানার বাড়ির দূরত্ব প্রায় ২২ কিলোমিটার। পাঁচ ঘণ্টা পায়ে হেঁটে প্রতিদিনই কাজে যেতেন তিনি। তাও একেবারে সঠিক সময়। কাজে গাফিলতিও দেখা যায়নি কখনও।

    “একটা গাড়ি কিনব বলে পয়সা জমাচ্ছিলাম। তবে আমার দেনা রয়েছে অনেক। টানাটানির সংসার, নিজের পড়ার খরচ, পরিবারের খরচ মিলিয়ে সঞ্চয়ের ভাঁড়ার শূন্যই ছিল,” বলছেন আদ্রিয়ানা। ভাগ্যকে দোষারোপ করেননি কখনও, কারণ পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জেদ ছিল অদম্য। আদ্রিয়ানার কথায়, “একদিন জানতাম ঠিক স্বপ্ন সত্যি হবে। তবে এইভাবে হবে আগে ভাবিনি। ঈশ্বরের আশীর্বাদ।”

    আদ্রিয়ানার ভাগ্য বদলে যায় দিন কয়েক আগে। ডেন্নি’স রেস্তোরাঁয় প্রাতরাশ সারতে আসেন টেক্সাসেরই এক দম্পতি। ব্রেকফাস্টের থানা সাজিয়ে পরিবেশন করেন আদ্রিয়ানাই। তাঁর মিষ্টি ব্যবহারে মুগ্ধ হন দম্পতি। বিল মিটিয়ে ফিরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরে ফের তাঁরা রেস্তোরাঁ ফিরে আসেন। আদ্রিয়ানাকে বলেন, তাঁর জন্য একটা উপহার অপেক্ষা করছে রেস্তোরাঁর বাইরে। হতবাক আদ্রিয়ানা বাইরে বেরিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে যান। এ কী দেখছেন তিনি! রেস্তোরাঁর দরজায় দাঁড়িয়ে রয়েছে ঝাঁ চকচকে নতুন গাড়ি। আদ্রিয়ানার জন্য উপহার— ২০১১ নিসান সেন্ত্রা।

    “আমি ভাবতেও পারিনি এমন উপহার পাব। তার থেকেও বড় কথা এমন সুন্দর, নিঃস্বার্থ মনের মানুষের দেখা পাওয়াটা সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার,” বলেছেন আদ্রিয়ানা। ওই দম্পতি অবশ্য তাঁদের নাম, পরিচয় সামনে আনতে চাননি। তাঁরা বলেছেন, “আদ্রিয়ানার প্রতিদিনের সংগ্রাম আমাদের আশ্চর্য করেছিল। পেশার প্রতি কোনও কুণ্ঠা ছিল না তরুণীর। হাসি মুখে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল। তাই আমরা এই উপহার তাঁকে দেব ঠিক করি। “

    তবে উপহারেরও একটা শর্ত আছে, জানিয়েছেন আদ্রিয়ানা। ওই দম্পতি চান তিনিও যেন একইভাবে অন্যদের সাহায্য করেন, নিজের সাধ্যমতো। দুঃস্থদের পাশে দাঁড়ান। আদ্রিয়ানার কথায়, “আমার জীবন বদলে গেছে। স্বার্থপরতা আর হানাহানির পৃথিবীতে এমন মুক্ত মনের পরিচয় বিরল। নিজেকেও সেভাবেই গড়ে তুলব।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More