বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮

মেরিন ড্রাইভে উত্তাল ঢেউ, তলিয়ে গেলেন ২ জন, বানভাসি মুম্বইতে বিপর্যস্ত জনজীবন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্বাভাস ছিলই। সেটাই সত্যি হয়ে দেখা দিল শনিবার। মেরিন ড্রাইভে আছড়ে পড়ল বিরাট উচ্চতার ঢেউ। আশঙ্কা করা হচ্ছে তলিয়ে মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজের চেষ্টা চালাচ্ছে বিপর্যয় মোকাবিলা দল। পৌঁছেছে নৌ সেনা ও দমকল কর্মীরাও।

শনিবার বিকেল নাগাদ মুম্বইয়ের এনএস রোডের কাছে মেরিন লাইনসে আচমকাই আছড়ে পড়ে বিশাল উচ্চতার ঢেউ। পাড়ে যাঁরা ছিলেন তাঁদের মধ্যে দু’জন তলিয়ে যান। বিপর্যয় মোকাবিলা কর্মীরা জানিয়েছেন, সমুদ্রের কাছাকাছে যেতে নিষেধ করা হয়েছে মানুষজনকে।

গত একসপ্তাহ ধরে বৃষ্টি থামার নাম নেই। জলের তোড়ে কোথাও দেওয়াল ভেঙে মানুষ মরছে, আবার কোথাও হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ছে বাঁধ। ভেসে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। বানভাসি মুম্বইতে শুরু হয়েছে মৃত্যুমিছিল। উনিশের বর্ষা ফিরিয়ে এনেছে ২০০৫ সালের সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতি।

পুরসভা সূত্র জানিয়েছে, রবিবার রাত থেকে শহরে বৃষ্টি হয়েছে ৫৪০ মিলিমিটার। মুম্বইয়ের পুর কমিশনার প্রবীণ পরদেশির কথায়, শহরে জুন মাসে বৃষ্টি হয় গড়ে ৫১৫ মিলিমিটার। জুলাইয়ের শুরুতে দু’দিনেই ৫৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। মুম্বই-সহগোটা মহারাষ্ট্রে৩৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে উত্তর মুম্বইয়ের মালাডে দেওয়াল ধসে পড়ে মৃত্যু হয়েছে ২৩ জনের।বাড়ি বা দেওয়াল ভেঙে পড়ার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৮০ জন আহত হয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় জলবন্দি হয়ে রয়েছেন বহু মানুষ।

এই পরিস্থিতি থেকে রেহাই মিলবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।এখনও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।সেই সঙ্গেই পূর্বাভাস উপকূলবর্তী এলাকায় আছড়ে পড়তে পারে প্রায় ৫ মিটার উচ্চতার ঢেউ।

নাগাড়ে বৃষ্টিতে জলের তলায় রাস্তাঘাট। তছনছ হয়ে গেছে বিমান ও রেল পরিষেবা। স্কুল, কলেজ-সহ সমস্ত সরকারি অফিস আজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। মুম্বই হাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃষ্টি এখনই থামার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।২০০৫-এর ২৬ জুলাই এমনই ভয়াবহ অবস্থার সাক্ষী হয়েছিল মুম্বইবাসী। টানা ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ডুবে গিয়েছিল মুম্বই ও শহরতলি এলাকা। তৈরি হয়েছিল বন্যা পরিস্থিতির।

Comments are closed.