শনিবার, আগস্ট ২৪

‘আমি শিখ, সন্ত্রাসবাদী নই,’ ব্রিটেনে হেনস্থা দশের শিশুকে, ভিডিয়ো বার্তায় জবাব মুন্সিমারের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিদেশের মাটিতে শিখদের হেনস্থার তালিকা দিনে দিনে বাড়ছে। পাগড়ি পরার ‘অপরাধে’ এ বার হেনস্থার শিকার হলো ১০ বছরের মুন্সিমার কউর।  “মাথায় পাগড়ি মানেই তুমি সন্ত্রাসবাদী! আমাদের সঙ্গে খেলতে পারবে না,” এই বলেই  মুন্সিমারকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে খেলার মাঠ থেকে বার করে দিয়েছিল তার চার বন্ধু ও তাদের মায়েরা। তবে বিন্দুমাত্র কান্নাকাটি না করে উত্তরে দশের মেয়েটি যা বলেছিল, তাই মন জয় করেছে নেটিজেনদের। মুন্সিমারের উত্তর ভিডিয়ো রেকর্ড করে নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছিলেন তার বাবা। সেই ভিডিয়ো ভাইরাল হয়ে এখন ঝড় তুলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের প্লামস্টেড পার্কে এই ঘটনা ঘটে গত সপ্তাহে। মুন্সিমারের কথায়, পার্কে প্রায়শই খেলতে যায় সে। ইদানীং অনেকেই তাকে দেখে নাকি অদ্ভুত আচরণ করছিল। মেয়েটির কথায়, “পার্কে আসা দুই দাদাকে বলি আমার সঙ্গে খেলবে। তাদের বয়স ১৭ বছরের আশপাশে। সঙ্গে সঙ্গেই তারা আমাকে বলে, তুই মাঠ থেকে বেরিয়ে যা। তুই সন্ত্রাসবাদী, এখানে আসবি না।”

মুন্সিমার জানায়, প্রথমে খুব কষ্ট হলেও, মাথা উঁচু করেই পার্ক থেকে বেরিয়ে যায় সে। তার কথায়, শিখরা মাথা নোয়াতে শেখেনি।

পরের দিনও ফের একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়। একই সময় পার্কে মুন্সিমারকে চেপে ধরে দুই তরুণী ও তাদের মায়েরা। গলা তুলে সকলকে শুনিয়ে তারা বলে, “এই মেয়েটির মাথায় পাগড়ি। এতএব মেয়েটি সন্ত্রাসবাদী। এরা খুব বিপজ্জ্নক। এদের বার করে দেওয়া উচিত। ”

ঘটনাটা হয়তো সেখানেই ধামাচাপা পড়তে পারত। তবে হয়নি। বাড়ি ফিরে পরিবারকে সবটা জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফোকাস করার কথা বলে শিশুটি নিজেই। ভিডিয়ো বার্তায় সে জানায়, “এই অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে এখনও অনেক মানুষের মধ্যেই শিক্ষা এবং মুক্ত চিন্তাভাবনার খামতি রয়েছে। সংযত আচরণ করতে জানেন না অনেকেই। তাঁরা ভুলে যাচ্ছেন, শিখরা কর্তব্যপরায়ণ হন, তাঁরা অন্যকে ভালোবাসতে জানেন। আমি শিখ, তাই আমি গর্বিত।”

সেই পার্কে আবার খেলতে যাবে বলেই জানিয়েছে মুন্সিমার। আরও বেশি সাহস নিয়ে এবং আগের মতোই মাথা তুলে। কারণ তার কথায়, “শিখরা ভয় পেতে শেখেনি। আমার মতোই এমন হেনস্থার শিকার হলে মুখ বন্ধ রাখবেন না, পরিবারকে জানান। মাথা তুলে বাঁচুন।”

বিদেশের মাটিতে শিখদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বিদ্বেষের ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও মাথায় পাগড়ি থাকায় মেলবোর্নে স্কুল বাসের মধ্যে ১৩ বছরের কিশোর হরজিৎ সিংকে খুনের হুমকি দিয়েছিল তিন জন। মেক্সিকো সিটি বিমানবন্দরের নিরাপত্তারক্ষীরা বিমানে উঠতে বাধা দিয়েছিলেন ওয়ারিশ অহলুওয়ালিয়া (৪১) নামে এক শিখ অভিনেতাকে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে বিমানকর্মীদের মধ্যে ধর্মীয় সচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিলেন তিনি।

Comments are closed.