বুধবার, জানুয়ারি ২৯
TheWall
TheWall

রাসায়নিক বর্জ্যে বিষিয়ে যাচ্ছে চূর্ণী নদীর জল, মরছে মাছ, শুশুক

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ও পার বাংলা থেকে দূষিত রাসায়নিক এসে মিশছে এ পার বাংলায়। বাংলাদেশের চিনিকলের বর্জ্য মিশে চেহারাই বদলে গেছে চূর্ণী নদীর। কালো জলে ভেসে উঠছে মাছ, শুশুকের দেহ। পচা গন্ধে অতীষ্ঠ হয়ে উঠেছে নদী পাড়ে বসবাস করা মানুষের জীবন।

বাংলাদেশে পদ্মা থেকে বেরিয়ে দর্শনা হয়ে  এ দেশে ঢুকে কৃষ্ণগঞ্জ থানার মাজদিয়ায় দু’ভাগে ভেঙে গিয়েছে। তার একটি চূর্ণী নাম নিয়ে হাঁসখালি হয়ে রানাঘাট থানার পায়রাডাঙা শিবপুর ঘাটের কাছে ভাগীরথীতে মিশেছে। প্রায় ৩০ কিলোমিটার এই নদীর গতিপথে পড়ে  হাঁসখালি ব্লকের বগুলা, হাঁসখালি, মাজদিয়ার শিবনিবাস, রানাঘাট ২ নম্বর ব্লকের কালীনারায়ণপুর, চক কৃষ্ণপুর, নন্দীঘাট, আইশতলা, কায়েতপাড়া, বলাগড়।  সব মিলিয়ে ১২০টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের বসবাস চূর্ণীর পাড়ে। নদীই তাঁদের কাছে জীবনধারণের অন্যতম উপায়।  “মড়ক লেগেছে মাছের। বিপন্ন নদীর শুশুকও। আমরাও নদীর জল ব্যবহার করতে পারিনা,” জানালেন হাঁসখালির দেবাশিষ।

বাংলাদেশের দর্শনার চূর্ণী নদীর পাড়ে রয়েছে কেরু কোম্পানির প্রচুর চিনি কল। সেই সব চিনি কারখানা থেকে রাসায়নিক বর্জ্যে মেশে নদীর জলে। প্রতিবার বর্জ্যে পরিষ্কার পর দূষিত জল নদী পথে চলে আসে এ দেশে। স্থানীয়দের দাবি, আগে বছরে একবার দর্শনা থেকে জল ছাড়া হতো। এখন সেটা বছরে দু’তিনবারে দাঁড়িয়েছে। ফলে এ দেশে চূর্ণীর জল অনেক বেশি তৈলাক্ত ও জলের রঙও কালো। প্রতিদিন মরছে মাছ। হাঁসখালি, পায়রাডাঙায় নদীর পাড়ে অসংখ্য মানুষের বাস। কারওর বাড়ির উঠোন ঘেঁষে চলে গেছে নদীর জল। ফলে দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে ক্রমাগত। অসুস্থ হয়ে পড়ছেন মানুষজন।

আরও পড়ুন: পাহাড়ে আবার মিছিল। কী কাণ্ড! এ বার মমতার সমর্থনে

বগুলা কলেজ ছাত্রী মন্দিরা দত্তের কথায়, ‘‘নদীর ধারেই আমাদের বাড়ি। ছোটবেলা থেকে নদীর জলে সাঁতার কেটে, স্নান করে বড় হয়েছি। এখন জলে নামতে ভয় পাই।’’ মাছের মড়কের কারণে জীবিকা বিপন্ন হাজার হাজার মৎস্যজীবীর।

নদীর জল বাঁচাতে স্থানীয়দের উদ্যোগেই তৈরি হয়েছে মাথাভাঙ্গা ও চূর্ণী বাঁচাও কমিটি। এই কমিটির সম্পাদক স্বপন ভৌমিক বলেছেন, “নদীর জলে দূষণ মাত্রা ছাড়াচ্ছে। এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি, এমনকী মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। কিন্তু, কোনও ফল হয়নি।” সেই সঙ্গেই তাঁর দাবি, দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য ২০১৫ সালে তৎকালীন নদিয়ার জেলাশসকের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বাংলাদেশের চুয়াডাঙার ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর। তবে বাংলাদেশ প্রশাসনের তরফে এই সমস্যার সমাধানের জন্য কোনও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

পশ্চিমবঙ্গের পরিবেশ নিয়ে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ সম্প্রতি যে-‘স্টেটাস রিপোর্ট’ প্রকাশ করেছে, তাতে বিভিন্ন নদনদীর বেহাল দশার কথা সরাসরি মেনে নেওয়া হয়েছে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, রাজ্যের বেশির ভাগ নদীই স্নানের অযোগ্য। মাথাভাঙা, চূর্ণী ও বিদ্যাধরীর জল কোনও প্রাণীর জীবনধারণের পক্ষে অনুকূল নয়। বহরমপুর, পলতা এবং গার্ডেনরিচে গঙ্গার জলে পেটের রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর পরিমাণ যে মাত্রাছাড়া, সেটাও স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে স্টেটাস রিপোর্টে।

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

Share.

Comments are closed.