মঙ্গলবার, মার্চ ২৬

মুসলিমদের পাশে আছি, বার্তা নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো : নিউ জিল্যান্ডের মানুষ এমন ঘটনায় অভ্যস্ত নয়। শুক্রবার ক্রাইস্ট চার্চে গুলিবর্ষণে ৪৯ জনের মৃত্যুর পরে মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরদেরন। শনিবার তিনি ক্রাইস্টচার্চ ক্যান্টারবেরি রিফিউজি সেন্টারে ভাষণ দেন। সেখানে তিনি বলেন, আপনারা ঘটনার পরেই বলছেন, এই নিউ জিল্যান্ড আপনাদের কাছে অপরিচিত। আমিও আপনাদের কথায় সায় দিয়ে বলতে চাই, এটা নিউ জিল্যান্ডের চরিত্র নয়।

গত শুক্রবার নিউ জিল্যান্ডের দু’টি মসজিদে নমাজ পড়ার সময় বন্দুকবাজরা হামলা করে। জানা যায়, জাতিগত কারণেই তারা সমবেত জনতার ওপরে ওইভাবে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। আক্রান্ত মুসলিমদের প্রতি সহানুভূতি জানাতে শনিবার প্রধানমন্ত্রী মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁর পরনে ছিল কালো পোশাক। মাথায় ছিল কালো দোপাট্টা। তিনি জানান, ডিনস অ্যাভিনিউ মসজিদ থেকে এখনও মৃতদেহ সরানোর কাজ শেষ হয়নি। আশা করি শনিবারের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে।

মুসলিমরা নিউ জিল্যান্ডের জনসংখ্যার মাত্র এক শতাংশ। তাঁরা ১০০ বছরের বেশি সময় ধরে ওই দেশে আছেন। নিউ জিল্যান্ডকে তাঁরা বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ মনে করেন।

আরদেরন ঘোষণা করেন, যে পরিবারগুলি প্রিয়জনদের হারিয়েছে, তারা ক্ষতিপূরণ পাবে। একইসঙ্গে তিনি জানান, যতক্ষণ না আতঙ্ক দূর হয়, ততক্ষণ প্রতিটি মসজিদে পুলিশ মোতায়েন করা থাকবে। হত্যাকারী সন্দেহে যে অস্ট্রেলীয় নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে, আপাতত তার বিরুদ্ধে শুধু খুনের অভিযোগ এনেছে পুলিশ। পরে তার নামে আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হবে। ২৮ বছরের সেই অভিযুক্তকে শনিবার সকালে আদালতে পেশ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যথাসম্ভব বেশি লোককে হত্যা করাই আততায়ীর উদ্দেশ্য ছিল।

ক্রাইস্টচার্চের ঘটনার পরেই আরদেরন ঘোষণা করেন, দেশের ‘গান ল’ বদলানো হবে। টিভি নিউ জিল্যান্ডের খবর অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী এদিন উপ প্রধানমন্ত্রী উইন্সটোন পিটার্স এবং বিরোধী নেতা সাইমন ব্রিজেসের সঙ্গে ক্যাণ্টারবেরি রিফিউজি সেন্টারে যান।

নিউ জিল্যান্ডের স্থানীয় মানুষ এদিন ক্রাইস্টচার্চ বোটানিক্যাল গার্ডেনের কাছে নিহতদের স্মারক বেদীতে শ্রদ্ধা জানান। অনেকে ফুলের তোড়া রেখে আসেন। কেউ কেউ চক দিয়ে স্মারক বেদীর কাছে লিখে এসেছেন, হৃদয়ের গভীর থেকে বলছি, আমরা দুঃখিত। আর একজন লিখেছেন, মনে হয় সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলাও করে দেখানোর জন্যই শুক্রবার অনেককে হত্যা করা হয়েছিল।

শুক্রবার এক আততায়ীর মাথায় লাগানো ছিল ক্যামেরা। তার সাহায্যে যে মসজিদে হত্যাকাণ্ড সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ দেখিয়েছে।

Shares

Comments are closed.