নববর্ষে রোগমুক্ত হোক বিশ্ব

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    এমন দুঃখের নববর্ষ কি আর কখনও এসেছে?

    নববর্ষের হালখাতার ভিড় নেই। মন্দিরে গিয়ে যাওয়া নেই। চারদিকে শুধু ভয়। অজানা এক ভাইরাসের জন্য সংকটে মানবসভ্যতা। আমাদের জীবনকালে এমন নিরানন্দ পয়লা বৈশাখ কখনও আসেনি।

    ইতিহাসের বই ঘাঁটলে দেখা যায়, গত শতকের চারের দশকে এমন হয়েছিল। তখন বিশ্বযুদ্ধের আমল। তার ওপরে বাংলায় হয়েছিল দুর্ভিক্ষ। কত মানুষ রাস্তাঘাটে মরে পড়ে থাকত। তখনকার নববর্ষও ছিল এবারের মতো বিষণ্ণ, মলিন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে এই লড়াই অনেকটা বিশ্বযুদ্ধের মতো। তিনি আমাদের সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বযুদ্ধের পরে যেমন সব বদলে গিয়েছিল, এই অতিমহামারীর পরেও তাই হবে।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে কী বদলে গিয়েছিল?

    মূলত বদলে গিয়েছিল অর্থনীতি। বিশ্বযুদ্ধের আগে বেশিরভাগ দেশ বিশ্বাস করত উদারনীতিতে। যার মূল কথা হল, বাজারই হবে সবকিছুর নিয়ন্তা। এর পরিণামেই এসেছিল ’২৯ সালের মহামন্দা। তারপর ফ্যাসিবাদের অভ্যুদয়। সেই থেকে বিশ্বযুদ্ধ।

    যুদ্ধ শেষ হলে রাষ্ট্রনায়করা বুঝলেন, বাজার অর্থনীতির একটা বিপজ্জনক দিক আছে। তা উৎপাদনে নৈরাজ্য ডেকে আনে। তার পরিণতিতে দেখা যায় নানারকম অশান্তি, যুদ্ধবিগ্রহ।

    মহাযুদ্ধের পর থেকে অর্থনীতিতে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ বাড়তে লাগল। শিল্পের নানা ক্ষেত্রে সরকার বিনিয়োগ করল পুঁজি। তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক মডেলকে কিছু পরিমাণে অনুসরণ করতে লাগল অনেক দেশ।

    আমাদের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুও ছিলেন সমাজতান্ত্রিক মডেলের অনুরাগী। তিনি ভাবতেন প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপে এগিয়ে চলবে অর্থনীতি। ভারত রাষ্ট্র সেই মডেলটি পরিত্যাগ করে ১৯৯১ সালে। মনমোহন সিং-এর নেতৃত্বে বাজার অর্থনীতির পথে যাত্রা শুরু হয়। তারপর থেকে দেশ ওই পথেই চলছে।

    কিন্তু করোনা সংকট এক বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে বাজার অর্থনীতিকে। দেখা যাচ্ছে, মহামারীর মতো বিপর্যয়ের সময় সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থাই ভরসা। জনস্বাস্থ্যের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকার যত বেশি ভূমিকা নেয়, মানুষের ততই মঙ্গল।

    অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যেভাবে উদার অর্থনীতিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছিল, করোনা সংকটও তাই করেছে। মোদী সঠিকভাবেই আজকের সংকটকে বিশ্বযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

    মানব সভ্যতা অতীতে বহু সংকট পেরিয়ে এসেছে। করোনা সংকটও একদিন না একদিন উত্তীর্ণ হবে। মনে হয়, তার পরে অর্থনীতির নানা ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়বে। যে রাষ্ট্র নাগরিকের কল্যাণ চায়, সে নিশ্চয় ব্যয়বরাদ্দ বাড়াবে স্বাস্থ্যখাতে।

    অর্থনীতিবদরা একবাক্যে বলছেন, অতিমহামারীর পরে আসছে মন্দা। তার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বহু শিল্পই সরকারের দ্বারস্থ হবে। তারা সরকারের কাছে করছাড় চাইবে। আর্থিক প্যাকেজ চাইবে।

    নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য বাঁচানোর জন্য শিল্পপতিরা যদি সরকারের ওপরে নির্ভর করেন, সরকারের কথাও তাঁদের আরও বেশি বেশি করে শুনতে হবে। ওই জন্যই মনে হয়, আগামী দিনে শিল্পে সরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়বে। খোলা বাজার অর্থনীতির পথ থেকে অনেকাংশে সরে আসতে বাধ্য হবে দেশ তথা বিশ্ব।

    কিন্তু সে হল ভবিষ্যতের কথা। আগে এই অতিমহামারী থেকে রক্ষা পাওয়া যাক। পরের কথা ভাবা যাবে পরে। পয়লা বৈশাখ সকালেই মোদী আরও ১৯ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছেন। সেই সঙ্গে বলেছেন, ২০ এপ্রিল থেকে কয়েকটা জায়গায় ছাড় দিয়ে দেখবেন। যদি ফের রোগ ছড়ায়, তাহলে নতুন করে শুরু হবে কড়াকড়ি।

    এবারের নববর্ষে একটাই প্রার্থনা। সেরকম পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়। রোগের সংক্রমণ কমুক। করোনা গ্রাফ নিম্নমুখী হোক। আর যেন প্রাণহানি না হয়। নববর্ষ সারা পৃথিবীর জন্য সুস্বাস্থ্য নিয়ে আসুক।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More