চিনে ফের বিপদ, এঁটুলি পোকা থেকে ছড়াচ্ছে নতুন বুনিয়াভাইরাস! সংক্রামিত ৬০, মৃত ৭

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার প্রথম দফার ধাক্কা শেষ করে দ্বিতীয় দফার আক্রমণও চলেছে চিনের বিভিন্ন শহরে। এবার আরও এক নতুন ভাইরাসের সংক্রমণের জেরে ফের ছড়াল আতঙ্ক। জানা গেছে, ইতিমধ্যেই নতুন ওই ভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত ৬০ জনের বেশি। মারাও গিয়েছেন অন্তত ৭ জন। মূলত চিনের আনহুই ও দেজিয়াং প্রদেশে ওই ভাইরাসের প্রকোপ দেখা গিয়েছে বলে জানিয়েছে বেজিং।

এসএফটিএস নামের এই নতুন ভাইরাসটি এক ধরনের রক্তচোষা পোকার কামড়ের ফলে মানুষের শরীরে প্রবেশ করেছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানিয়েছে বেজিংয়ের স্বাস্থ্যকর্তারা। সাধারণত গাছে, ঘাসে বা পাতায় থাকে এই রক্তচোষা পোকা, অনেকটা এঁটুলির মতো। বাড়িতে পোষা কুকুর বা বিড়ালের শরীরেও দেখা যায় এই পোকা। যদিও এমনিতে এই পোকা কামড়ালে কোনও সমস্যা হয় না। তবে যদি এদের শরীরে ভাইরাস থাকে, তাহলে সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Tick-borne virus: New virus in China infects 67 people, kills 7

জানা গেছে, এই বছরের গোড়ার দিকেই জিয়াংসু প্রদেশের রাজধানী নানজিং শহরের এক মহিলার শরীরে এই ভাইরাসটির সন্ধান পান চিকিৎসকরা। প্রথমে করোনার মতোই জ্বর ও কাশির উপসর্গ দেখা গিয়েছিল আক্রান্ত ওই মহিলার শরীরে। পরে রক্তকণিকার সংখ্যাও হু হু করে কমতে দেখা যায়। প্রায় একমাস চিকিৎসা চলার পর সুস্থ হন ওই মহিলা। এই ভাইরাসের সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, সর্দিকাশি, সেইসঙ্গে লিউকোসাইটের সংখ্যা হ্রাস। যাকে একসঙ্গে বলা হচ্ছে এসএফটিএস, অর্থাৎ ‘সিভিয়ার ফিভার উইথ থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া সিনড্রোম’।

এর পর থেকে গত ৬ মাসে জিয়াংসু প্রদেশে ৩৭ জন ও আনহুই প্রদেশে ২৩ জন এই মারণ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। উহান শহর থেকে সংক্রামিত করোনাভাইরাসের বিশ্বব্যাপী চরম তাণ্ডবে অতটা সামনে আসেনি এই নতুন ভাইরাসের সংক্রমণ। কিন্তু একে একে সাত জন মারা যাওয়ায় এবার নড়ে বসেছে বেজিং।

মৃতেরা প্রত্যেকেই আনহুই ও দেজিয়াং প্রদেশের বাসিন্দা বলেই জানা গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত অন্য কোন প্রদেশে এই ভাইরাসের কথা শোনা না গেলেও করোনার মতো এটিও সংক্রামিত রোগ বলেই সতর্ক করা হয়েছে। তবে চিন ছাড়াও জাপান, কোরিয়া, ভিয়েতনাম এবং তাইওয়ানেও এই ভাইরাসের খোঁজ মিলেছে।

Tick-borne virus spreads across East China, infecting 60 and ...

যদিও এই ভাইরাসটিও নোভেল করোনাভাইরাসের মতোই মারণ রোগ সৃষ্টি করছে কিনা তা এখনও পরীক্ষা-নিরীক্ষার স্তরে আছে। তবে, কোভিড থেকে শিক্ষা নিয়ে এ বার আর গা-ছাড়া মনোভাব দেখাচ্ছে না চিন, বিশেষ করে ইতিমধ্যেই যখন সাতটি মৃত্যু ঘটে গেছে।

তবে এই ভাইরাসটি যে একেবারেই নতুন আবিষ্কৃত তা নয়। ২০১১ সালেই এই ভাইরাসের খোঁজ মেলে। জানা যায়, এটি বুনিয়াভাইরাস গোত্রে পড়ছে। ভাইরোলজিস্টদের ধারণা, পোকা থেকে ছড়ালেও, মানুষ থেকে মানুষের শরীরে সংক্রামিত হওয়ার আশঙ্কা এখনই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। রক্ত বা মিউকাস থেকে ছড়িয়ে পড়ারও যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে বলে মনে করা হচ্ছে।

চিকিত্‍‌সকেরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, পোকার দংশনই হল প্রধান সংক্রমণ রুট। তাই একটু সাবধানে থাকতে হবে। তবে, এই ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই, এটি বলে। তবে, এই বুনিয়াভাইরাস নিয়ে এখনই আতঙ্কিত হয়ে পড়ার মতো কিছু ঘটেনি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More