রবিবার, সেপ্টেম্বর ২২

এবার ‘ঠেক’-এই জমুক আড্ডা

মধুরিমা রায়

চাইনিজ়, ওরিয়েন্টাল, কনটিনেন্টাল  বা মুঘল খানা– পেটুকদের নজর থাকে সব দিকেই।  স্বাদকোরকের উপর অগাধ ভরসা রেখে এদিক সেদিক, নতুন খাবারের জায়গায় তাঁরা পৌঁছেও যান ঝক্কি সামলে।  বাঙালি, অথচ খাবার ভালোবাসেন না, বা আড্ডা ভালোবাসেন না –এমন খুঁজতে দূরবীন লাগতে পারে।  আর পকেট সামলে যদি খাবারের সাথে কিছু সময় বসে আড্ডা না দেওয়া যায় তাহলে সে খাবার আবার হজম হয় না।

আড্ডা মারার জায়গা বলতে একদা এক মাত্র জায়গা ছিল কলেজ স্ট্রিট বা চাঁদনি চক লাগোয়া কফি হাউস। এক কাপ কফি নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকো। বন্ধুবান্ধব নিয়ে চুটিয়ে আড্ডা মারো, যুক্তি তক্কো গপ্পের মেলা বসাও কেউ কিছু বলবে না।  এ গুলোর পাশাপাশি ইদানীং কিছু কফি শপ সেই মেজাজ টা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। ঠেক ও এই দর্শনে বিশ্বাস করে। খাওয়া দাওয়ার সঙ্গে যদি ভরপুর আড্ডাই না থাকে, তা হলে আর কী হলো! আড্ডা বললেই আমাদের কিছু শব্দ মাথায় চলে আসে।  আর এই ফিউশনের যুগে বাংলা অভিধানে আড্ডার সঙ্গে সঙ্গেই যে কটা শব্দ পরপর চলে আসে তারমধ্যে একটা ‘ঠেক’।  ঠেকে বসে আড্ডা তো আজকের বিষয়, তবে বাংলার ইতিহাস তো কফি হাউস চেনে।  সময়ের সাথে সাথে আজাকাল আড্ডার ধরণ থেকে বিষয় সবই যাচ্ছে বদলে।  আর বাংলা তো আর শুধু বাঙালিতে আটকেও নেই আজকাল।
ঠেক খুঁজলে আপনার গন্তব্য হতেই পারে চিনারপার্কের পিনাকল বিল্ডিংয়ের দোতলা।

কেন? কারণ এখানেই আপনি ঠেকের সন্ধান পাবেন।  এই ঠেকে এ বছরেরই ২০শে জানুয়ারিতে খুলেছে।  এখানে আপনি নর্থ ইণ্ডিয়ান ফুড যেমন  পনীর মাখানি, ডাল মাখানি, মাশরুম মাসালা, চিকেন টিক্কা বাটার মাসালা পাবেন।  আবার চীইনিজ় কনটিনেন্টালে গ্রিলড ফিশ, চিকেন ডায়নামাইটস বা পাস্তাও পাবেন।  এছাড়াও বান্ধবীর মন জোগাতে নুরানি বিরিয়ানি অর্ডার করে দিতে পারেন।  যেখানে মাটন পাবেন পুদিনা ফ্লেভারের সাথে।  হজমের কোনও গোলযোগের ভয়ও নেই, আবার স্বাদেও নতুনত্ব।  সঙ্গে নিয়ে নিন স্মোকি চিকেন টিক্কা।  এই স্মোকি চিকেনে আবার আলাদা ধোঁয়ার গন্ধও পাবেন যা কয়লার উনুনে বিশেষভাবে তৈরি করা হয় শুধুমাত্র এই স্মোকি ফ্লেভার আনার জন্য।  এরপর যখন পেট আঁইঢাঁই অথচ আরও একটু আড্ডা দিতে ইচ্ছে করছে ‘ঠেক’ এ বসে, তখন মেনু কার্ডটা নিয়ে ডেজ়ার্টে চোখ বুলিয়ে নিয়ে নিতেই পারেন স্মোকি ব্রাউনি উইথ ভ্যানিলা আইসক্রিম।  জমল তো! আর তাতেও যদি না জমে, অন্য যে কোনও আইসক্রিম বা জুস্ নিয়ে বসুন না আরও কিছুক্ষণ।  আপনি হয় তো কফিহাউসের মতো অতটা সময় ব্যয় করতে চাইবেন না এতটা রকেট যুগে।  তবে কাঁচের দেওয়ালের বাইরে যখন দেখবেন গাড়ি ছুটছে জীবনের ছন্দে তাল মেলাতে, আপনি ততক্ষণ আড্ডার ছন্দ মেলাতেই পারেন ঠেকে বসে।

এবার আপনার মনে হচ্ছে, সবই তো হল, কিন্তু পকেটের অবস্থা কি খুব খারাপ হতে পারে? না।  ঠেকের আউটলেট ইনচার্জ সুবীর দত্ত বলছেন, “কোনও আইটেমই পকেটে ছ্যাঁকা লাগাবে না।  এখানে কোনও কিছুরই সবচেয়ে বেশি দাম ৩৫০ থেকে ৪০০ পেরোয়নি।  তাই ঠিকঠাক খাবার খেতে আর জমিয়ে আড্ডা দিতে চাইলে ঠেকে এসে ঘুরে যেতে পারেন। ”

কাজেই যদি আপনার ঠেকে আড্ডা দিতে ইচ্ছে করে তাহলে অবশ্যই চিনারপার্কের কাছে এই ‘ঠেক’ই আপনার গন্তব্য হতেই পারে।

Comments are closed.