বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২
TheWall
TheWall

দেবশ্রী-দিলীপ-মহুয়া, ফোন রহস্যে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঝে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক দেবশ্রী রায়, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র। শোভন-বৈশাখী রাজনৈতিক ঝড়ের মাঝে যেভাবে দেবশ্রী রায় মঞ্চে এসেছেন, তেমন ভাবেই এলেন আর এক রাজনীতিক মহুয়া মৈত্র। তৃণমূল কংগ্রেসের কৃষ্ণনগরের সাংসদ।

রায়দিঘির বিধায়ক দেবশ্রী রায় বিজেপিতে যোগ দিতে চান। আর সেই চাওয়াটা জানাজানি হয়েছিল একেবারে নাটকীয় ভাবে। যেদিন শোভন-বৈশাখী দিল্লিতে বিজেপি সদর দফতরে, সেদিনই দেখা যায় হলুদ শাড়ির দেবশ্রীকে। মনে করা হয়েছিল দুই ঘনিষ্ঠ বৈশাখী ও দেবশ্রীকে এক সঙ্গে বিজেপিতে নিয়ে গিয়েছেন কলকাতার প্রাক্তন মহানাগরিক শোভন চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু সেই মনে করা মিথ্যা হয়ে যায়। বরং জানা যায়, শোভন ও বৈশাখী চানই না যে দেবশ্রীও আসুন পদ্ম বাহিনীতে।

এর পর থেকে নাটকের পর নাটক। দেবশ্রী এলে থাকবেন না বলে জানান বৈশাখী। সঙ্গ দেন শোভনও। আর তার পরেই জল্পনা আরও উস্কে দিতে দেবশ্রী চলে যান দিলীপ ঘোষের বাড়িতে। মধ্যরাতের সেই সাক্ষাৎ হতে হতেও হয়নি। পরে অবশ্য দিলীপ-দেবশ্রী ফোনে কথা হয়।

এবার সেই রাজনৈতিক নাট্যে নতুন সংযোজন মহুয়া মৈত্র। সংসদে বিজেপিকে ফ্যাসিস্ট বলে জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিয়ে রাতারাতি সোশ্যাল মিডিয়ার আলোয় চলে আসা মহুয়া মৈত্র। তিনি বিজেপিকে ফ্যাসিস্ট দল মনে করলেও বান্ধবীকে এখন সেখানেই পাঠাতে চাইছেন। এমনই অভিযোগ এখন মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে। দেখে নেওয়া যাক এই প্রসঙ্গে কার কী দাবি।

বিজেপির রাজ্য সভাপতির দাবি, তিনি তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের অনুরোধেই দেবশ্রী রায়ের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। দ্য ওয়ালকে তিনি বলেন, ‘‘মহুয়া আমায় ফোনে তৃণমূল বিধায়ক দেবশ্রীর সঙ্গে দেখা করার অনুরোধ জানান। বলেন, দেবশ্রী খুবই ভালো মেয়ে। ও এখন তৃণমূল কংগ্রেসে থাকতে পারছে না, এদিকে বিজেপিতেও যোগ দেওয়া হয়নি। খুবই মনোকষ্টে আছেন দেবশ্রী। আমি যেন দেখা করি।’’

এর পরেই গত বৃহস্পতিবার দিলীপবাবুর সল্টলেকের বাড়িতে গিয়ে দেবশ্রী দেখা করেন। তার পরে রায়দিঘির বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে দিলীপবাবু বলেছিলেন, ‘‘দেবশ্রীর সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। দলে সকলের সঙ্গে আলোচনা করে ওঁর যোগদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’ এদিনও সেই একই কথা বলেন দিলীপ ঘোষ।

তবে মহুয়া মৈত্র এমন অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁর দাবি, তিনি কখনও ফোনই করেননি দিলীপ ঘোষকে। মহুয়ার দাবি, লোকসভা ভোটের প্রার্থী হওয়ার সময় থেকে তাঁর সঙ্গে দেবশ্রীর আর কোনও যোগাযোগ নেই।

মহুয়ার অনুরোধের কথা প্রকাশ্যে আসায় অস্বস্তি বেড়েছে তৃণমূলেরও। এদিন মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘মহুয়া সাংসদ। ওঁর ব্যাপারে যদি কিছু করার বা বলার থাকে, তা সংসদীয় দলই বুঝবে।’’

সব মিলিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ এনে দিল ফোন-রহস্য। এদিকে আবার শোভন চট্টোপাধ্যায় এর পিছনে তৃণমূলের চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছেন। সব মিলিয়ে শোভন-বৈশাখী পালায় একের পর এক চরিত্র সংযোজন হয়েই চলেছে।

Comments are closed.