মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭

আকাশবাণীর ঘোষণায় ‘উত্তাল বাংলা’, বড় পর্দায় তুলে ধরবে যীশুর ‘মহালয়া’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শরৎকালের শুরু মানেই বঙ্গ জীবনে আসে উৎসবের আমেজ। এই উৎসবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো রেডিও।

যুগ এখন মুঠোফোনের। কানে সারাক্ষণ বাজছে এফএম স্টেশন। প্লে-লিস্টেও রয়েছে রক থেকে ফোক। কিন্তু নীল আকাশে সাদা পেঁজা তুলোর মতো মেঘ দেখা দিলেই, তাক থেকে ধুলো ঝেড়ে নামিয়ে ফেলা হয় সাধের রেডিও। কারণ একটাই। মহালয়া শুনতে হবে। সারাবছর হেডফোনে যতই গান শোনা হোক না কেন, ইউটিউব বা এফএম-এ মহালয়া শোনায় আপত্তি রয়েছে জেন ওয়াইয়েরও। কথায় বলে মহালয়া বঙ্গ জীবনের আবেগ, নস্টালজিয়া। আর মহিষাসুরমর্দিনীর প্রতি আম জনতার এই অমোঘ টানের অন্যতম কারণ, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের গুরুগম্ভীর আওয়াজ।

কিন্তু ১৯৭৬ সালে হঠাৎই যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত হয়েছিল আম বাঙালির মাথায়। আকাশবাণী থেকে মহালয়ার সম্প্রচারে হয়েছিল এক সাংঘাতিক বদল। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের পরিবর্তে সেই বছর মহালয়ার স্তোত্র পাঠ করেছিলেন উত্তম কুমার। মহানায়ক বাঙালির অত্যন্ত প্রিয় হওয়া সত্ত্বেও বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের পরিবর্তে মহালয়ায় তাঁর গলায় স্তোত্র পাঠের ব্যাপারটা ভালো চোখে দেখেননি কেউই। মেনে নিতেও পারেনি ১৯৭৬-এর বঙ্গ সমাজ। আকাশবাণীর বিরুদ্ধে উঠেছিল সমালোচনার ঝড়। কঠোর ভাষায় সমালোচনা লেখা হয়েছিল সংবাদপত্রেও।

১৯৭৬-এর এই ঘটনা নিয়েই এ বার সেলুলয়েডে আসছে সৌমিক সেনের ছবি ‘মহালয়া’। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের প্রযোজনায় এই ছবিতে উত্তম কুমারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন যীশু সেনগুপ্ত। আর বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চরিত্রে রয়েছেন, শুভাশিস মুখোপাধ্যায়। চরিত্রের জন্য নিজেকে নানা ভাবে ভাঙেন যীশু। হালফিলের ‘রাজকাহিনী’ কিংবা ‘এক যে ছিল রাজা’-তেই তার পরিচয় পেয়েছেন দর্শকরা। এ বার উত্তম কুমারের চরিত্রে যীশু কেমন অভিনয় করেন তা দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন দর্শকরা। চ্যালেঞ্জিং রোলে রয়েছেন শুভাশিসও। হারবার্টের পর বিগ স্ক্রিনে যে এই অভিনেতা আবার চমক দেবেন, তেমনটাই আশা করছেন শুভাশিসের অনুরাগীরা।

ইতিমধ্যেই রিলিজ হয়েছে ছবির পোস্টার। সংবাদপত্রের আদলে ‘মহালয়া’ ছবির এই পোস্টার এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। ক্যাপশনে রয়েছে “বীরেন্দ্রকৃষ্ণের বদলে উত্তম, উত্তাল বাংলা”। দেখুন সেই ছবি।

Comments are closed.