ধর্মস্থান খুলছে, তবে চরণামৃত বা প্রসাদ বিতরণ নৈব নৈব চ, নির্দেশিকা প্রকাশ কেন্দ্রের

৮ জুন শনিবার থেকে খুলছে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা ধর্মস্থানের দরজা। তবে সেখানে পূজা, উপাসনা, প্রার্থনা করতে যাঁরা যাবেন তাঁদের করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাঁচতে অনেক নিয়ম মেনে চলতে হবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: আনলক ওয়ানে ধর্মস্থান খোলা হবে বলে আগেই জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী ৮ জুন শনিবার থেকে খুলছে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা ধর্মস্থানের দরজা। তবে সেখানে পূজা, উপাসনা, প্রার্থনা করতে যাঁরা যাবেন তাঁদের করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাঁচতে অনেক নিয়ম মেনে চলতে হবে। নিয়ম মানতে হবে ধর্মস্থান কর্তৃপক্ষকেও। বৃহস্পতিবার সেই তালিকা প্রকাশ করল কেন্দ্রীয় সরকার।

    এক নজরে দেখে নিন ধর্মীয় স্থানের জন্য বিধিনিষেধ–

    ১। ধর্মস্থানের প্রবেশদ্বারে স্যানিটাইজার রাখতে হবে। রাখতে হবে থার্মাল স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা।

    ২। শুধুমাত্র কোভিড-১৯ এর উপসর্গ নেই যাঁদের তাঁরাই প্রবেশ করতে পারবেন।

    ৩। মাস্ক পরা না থাকলে প্রবেশ করা যাবে না।

    ৪। ধর্মস্থানে কোভিড-১৯ সম্পর্কে সচেতন করার জন্য পোস্টার, স্ট্যান্ডি ইত্যাদি রাখতে হবে। এছাড়াও সব সময়ে এই অসুখ সম্পর্কে অডিও এবং ভিডিও ক্লিপ চালাতে হবে।

    ৫। জুতো নিজস্ব গাড়িতে রেখে আসতে হবে। দরকার পরলে আলাদা আলাদা জায়গায় ব্যক্তিগত ভাবে অথবা পরিবারের সকলের জুতো রাখা যেতে পারে।

    ৬। মন্দিরের বাইরেও সামাজিক দূরত্বের বিধি বজায় রাখতে হবে। ভিড় সামলানোর জন্য ধর্মস্থান কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে হবে।

    ৭। ধর্মস্থান চত্বরে বা তার বাইরে দোকান, স্টল, কাফেটেরিয়া থাকলে সেখানেও সামাজিক দূরত্বের নিয়ম মেনে চলতে হবে।

    ৮। ধর্মস্থান চত্বরে শারীরিক দূরত্ব বিধি বজার রাখার জন্য দাগ কেটে দেওয়া যেতে পারে।

    ৯। সব সময়ে একজনের থেকে আর একজনের দূরত্ব কমপক্ষে ছ’ফুট রাখতে হবে।

    ১০। ধর্মস্থানে প্রবেশ ও প্রস্থানের আলাদা আলাদা ব্যবস্থা থাকলে ভাল।

    ১১। ধর্মস্থানে প্রবেশের আগে প্রত্যেককে সাবান দিয়ে হাত ও পা ভাল করে ধুতে হবে।

    ১২। ধর্মস্থানে বসার ব্যবস্থাও এমনভাবে করতে হবে যাতে শারীরিক দূরত্ব রাখার নিয়ম বজায় থাকে।

    ১৩। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় গাইডলাইন মেনে চলতে হবে। তাপমাত্রা রাখতে হবে ২৪ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে। সর্বত্র যাতে হাওয়া যাতায়াত করতে পারে সেই ব্যবস্থাও রাখতে হবে।

    ১৪। মূর্তি, প্রতিমা, পবিত্র গ্রন্থ স্পর্শ করায় এখনও নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

    ১৫। বড় রকমের কোনও উৎসব, সমাবেশ বা জমায়েতের উপরেও থাকবে নিষেধাজ্ঞা।

    ১৬। সংক্রমণ ঠেকাতে একসঙ্গে অনেকে মি‌লে সঙ্গীত পরিবেশন, দলবেঁধে কীর্তন করা যাবে না। রেকর্ড করা ভক্তিমূলক সঙ্গীত বাজানোই শ্রেয়।

    ১৭। কাউকে শুভেচ্ছা জানাতে শরীর স্পর্শ করা যাবে না। অর্থাৎ আলিঙ্গন করা যাবে না।

    ১৮। সকলে একই শতরঞ্জি বা চাদরে বসা চলবে না। প্রত্যেককে আলাদা আলাদা আসন নিয়ে আসতে হবে।

    ১৯। কোনও ধর্মীয় স্থানে প্রসাদ বা চরণামৃত ইত্যাদি পরিবেশন করা যাবে না।

    ২০। কমিউনিটি কিচেন, লঙ্গরখানা ইত্যাদির জন্য রান্নার জায়গায় পর্যাপ্ত শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। একই নিয়ম সেই সব খাবার বিতরণের সময়েও।

    ২১। ধর্মস্থান চত্বরকে ভাল ভাবে স্যানিটাইজেশন করতে হবে। নজর রাখতে হবে শৌচাগার এবং হাত, পা ধোওয়ার জায়গার উপরে।

    ২২। ধর্মস্থান চত্বর বারবার পরিষ্কার করতে হবে।

    ২৩। ধর্মস্থানের মেঝেও একই ভাবে বারবার পরিষ্কার করতে হবে।

    ২৪। ধর্মস্থানের কর্মী কিংবা ভক্তদের ব্যবহার করা মাস্ক, গ্লাভস ইত্যাদি যথাযথ জায়গায় ফেলতে হবে।

    ২৫। কোনও ব্যক্তির শরীরে করোনা সংক্রমণের উপসর্গ দেখা গেলে কী কী করতে হবে?

    (ক) সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে কোনও ঘর বা এলাকায় আইসোলেটেড করতে হবে।

    (খ) যতক্ষণ না চিকিৎসক দেখছেন ততক্ষণ যেন ওই ব্যক্তি মাস্ক বা ফেস কভার পরে থাকেন।

    (গ) সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় হাসপাতাল বা ক্লিনিকে খবর দিতে হবে। ফোন করতে হবে রাজ্য বা জেলার হেল্পলাইন নম্বরে।

    (ঘ) স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তারাই সিদ্ধান্ত নেবেন এর জন্য কতটা ঝুঁকি রয়েছে এবং সেজন্য কী কী ব্যবস্থা নিতে হবে। ওই ব্যক্তির সংস্পর্শে যাঁরা এসেছেন তাঁদের কী করতে হবে বা যেখানে ওই ব্যক্তি গিয়েছেন সেই জায়গা কী করে স্যানিটাইজ করতে হবে তা স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মীরাই বলবেন।

    (ঙ) যদি ওই ব্যক্তির রিপোর্ট পজিটিভ আসে তবে গোটা এলাকা ডিসইনফেকশন করতে হবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More