শুক্রবার, ডিসেম্বর ৬
TheWall
TheWall

‘দিদিকে বলো’র পাল্টা ‘চা-চক্রে দিলীপ দা’, বিধানসভার লড়াইয়ে নয়া রাজনীতি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কিছুদিন আগেই শুরু হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি। এবার তার পাল্টা ময়দানে নামছেন গেরুয়া শিবিরের দাদা। বিজেপির এই কর্মসূচিতে রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ চা পান করবেন সাধারণের সঙ্গে। আর সেখানেই শুনবেন অভাব-অভিযোগ।

রাজ্যে যেন জনসংযোগ-যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে। লোকসভা নির্বাচনের ফলের নিরিখে এখন রাজ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল বিজেপি। ১৮ আসন পাওয়া বিজেপি যে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে আঁচ করে ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিক কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের সাহায্য নিচ্ছেন। এই রাজ্যে এমন নজির এই প্রথম। আর তাই সাধারণ জনসংযোগকেই এখন অসাধারণ করে তোলার চেষ্টা চলছে পেশাদারদের হাত দিয়ে।

সাধারণের কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই শুনতেন। জননেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী হয়ে ওঠার দীর্ঘ পথে তৃণমূলনেত্রী বারবার জনতার দরবারে মুখোমুখি হয়েছেন। অনেক শুনেছেন সাধারণের কথা। মানুষের আবেগ বোঝার ক্ষমতা যে তাঁর অসাধারণ তা জানে রাজনৈতিক মহল। এখন সেই একই কাজের পরিচালনায় পেশাদার সংস্থা। ‘দিদিকে বলো’ নামকরণে ফোন লাইন খোলা হয়েছে সাধারণের অভাব, অভিযোগ, মতামত শোনার জন্য।

শাসকের এমন উদ্যোগের জবাবে রাজ্যে দ্বিতীয় শক্তিধর বিজেপিও এবার আসরে নামতে চলেছে। মমতা যেমন ‘দিদি’ হিসেবে সকলের কাছে ‘আমি তোমাদেরই লোক’ ভাবমূর্তি নিয়ে প্রচারে, তেমন একই পথে দিলীপ ঘোষও। দিদির সামনে দাদা হিসেবেই প্রচার ময়দানে নামছেন তিনি। অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছে– ‘চা চক্রে দিলীপদা’।

চা চক্রে রাজনৈতিক প্রচার অবশ্য গেরুয়া শিবিরে নতুন নয়। গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রচারে এই চা চক্রকেই ব্যবহার করেছিলেন। শোনা যায়, এখন তৃণমূল কংগ্রেস সঙ্গী প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শেই সেই সময়ে ‘চায়ে পে চর্চা’ নামে কর্মসূচি নিয়েছিল বিজেপি।

এটা কি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অনুকরণ, নাকি দিদির পাল্টা দাদার প্রচার? এমন প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ দ্য ওয়ালকে বলেন, “কারও পাল্টা কিছু নয়। আমাদের পাল্টা তৃণমূল কংগ্রেস করে। জনসংযোগ বিজেপির বারোমাসের কর্মসূচি। সেটা ঢাকঢোল পিটিয়ে করতে হয় না। আমি সারা বছরই সাধারণের সঙ্গে কথা বলতে, সাধারণের কথা শুনতে গোটা বাংলা চষে বেড়াই। সেটাই এবার নতুন নামে, নতুন চেহারায়।”

দিলীপ ঘোষ এদিন জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বর থেকেই শুরু হবে এই কর্মসূচি। ইতিমধ্যেই এই কর্মসূচির ভিডিও প্রচার শুরু করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে কবে কোথায় বসবে চা চক্র, তা জানতে স্থানীয় বিজেপি অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, তিনি যখন যে জেলায় বা শহরে দলীয় কর্মসূচিতে থাকবেন, সেখানেই সময় করে চা চক্রে সাধারণের সঙ্গে মিলিত হবেন।

Comments are closed.