নতুন বৌ ইতস্তত করবেন, সেটাই স্বাভাবিক, শ্বশুরবাড়িরই দায়িত্ব আপন করে নেওয়া: দিল্লি হাইকোর্ট

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ের পরে নতুন বৌকে সহজ ভাবে গ্রহণ করা, তাঁর কী প্রয়োজন খেয়াল রাখা, এটা তাঁর স্বামীর ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদেরই দায়িত্ব। নতুন বৌ যদি নিজে আলাদা ঘরে নিজের মতো থাকে, গৃহকর্মে উৎসাহ না দেখায়, তবে সেটাকে কখনওই ‘নিষ্ঠুরতা’ বলা যায় না। বৃহস্পতিবার একটি মামলার শুনানিতে এমনই রায় দিল দিল্লি হাই কোর্ট।

    বিচারপতি হিমা কোহলি এবং আশা মেননের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের তরফে বলা হয়, “কোনও মেয়ে বিয়ের পরে শ্বশুরবাড়িতে এসে নিজের ঘরে থাকলে, নিজে থেকে কাজেকর্মে হাত না লাগালে সেটাকে কখনওই স্বামীর প্রতি তার ‘নিষ্ঠুর’ আচরণ বলে কল্পনা করে নেওয়া উচিত নয়।”

    সম্প্রতি দিল্লি হাইকোর্টে একটি পিটিশন দায়ের করেছিলেন বিশাল সিং নামের এক যুবক। দায়রা আদালতে তাঁর ডিভোর্সের আবেদন খারিজ হয়ে গেছে, তাই তিনি পুনরায় ডিভোর্স চেয়ে পিটিশন দাখিল করেন। জানা গেছে, ২০১২ সালে হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী বিয়ে হয় বিশাল ও প্রিয়ার। তাঁদের কোনও সন্তান নেই। বিশালের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই প্রিয়া তাঁর পরিবারের সদস্য হয়ে উঠতে ব্যর্থ হয়েছেন। স্ত্রীর আচরণ নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন তিনি বারবার।

    বিশালের আরও দাবি, ২০১৩ সালে একটি চিঠি লিখে, নিজের সব গয়নাগাঁটি ও দামী জিনিসপত্র নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে গেছিলেন প্রিয়া। এক সপ্তাহ পরে বিশালকে ফোন করে ওই চিঠি গদির তলা থেকে বার করে পড়তে বলেছিলেন। চিঠিতে লেখা ছিল, তিনি আর শ্বশুরবাড়ি ফিরবেন না, নিজের প্রেমিককে বিয়ে করবেন। এর পরে যদিও প্রিয়ার ভাই প্রিয়াকে বিশালের কাছে ফিরিয়ে দিতে আসেন, কিন্তু বিশাল তাঁকে ঘরে ঢুকতে দেননি।

    এর পরে প্রিয়া একাধিক বার ক্ষমা চান বিশালের কাছে। কিন্তু বিশাল তাতেও মেনে না নিয়ে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেন।

    সব শুনে দিল্লি হাইকোর্ট জানিয়েছে, প্রিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাভিচার ও নিষ্ঠুরতার অভিযোগ তুলেছে বিশালের আবেদন। কিন্তু বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও প্রিয়া অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছেন বা বিয়ের প্রতি অবিচার করেছেন, এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিয়ের আগে প্রিয়ার কোনও প্রেমের সম্পর্ক থাকলে তা আইনের চোখে অপরাধের আওতায় পড়ে না।

    এর পাশাপাশি প্রিয়াকে তাঁর স্বামী ‘নিষ্ঠুর’ ও ‘নির্দয়’ বলে দায়ী করেছেন। তার কারণগুলি হল, বিশালের বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে বনিবনা না করতে পারা, বিয়ের ঠিক পরেপরেই বিশালের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করতে রাজি না হওয়া– ইত্যাদি। এগুলিকে ‘নিষ্ঠুর আচরণ’ বলা যায় না বলেই জানিয়েছে কোর্ট। দিল্লি হাইকোর্টের বেঞ্চ বলেছে, “এগুলি কোনওটিই প্রিয়ার নিষ্ঠুর আচরণ হতে পারে না। একজন নতুন বৌ অপরিচিত পরিবারে মানিয়ে নিতে সমস্যার মুখে পড়বে, এটাই স্বাভাবিক। শ্বশুরবাড়ির সদস্যদেরই উচিত তাকে আরও সহানুভূতিশীল হয়ে গ্রহণ করা।”

    বিয়ের পরেই শারীরিক সম্পর্কে রাজি না হওয়া নিয়েও কোর্টের মত, “অভিযোগকারী নিজেই জানিয়েছেন, বিয়ের পরপরই এই ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তী কালে তাঁদের বিবাহ জীবনে যে বারবার এমনটাই ঘটেছে অর্থাৎ প্রিয়া শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে আপত্তি তুলেছেন, তা তো নয়। ফলে এক্ষেত্রেও প্রিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা ‘নিষ্ঠুরতা’র অভিযোগ সত্য নয়।”

    শুধু তাই নয়। বিশালের আরও অভিযোগ, প্রিয়া তাঁর ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে পণ নেওয়া, খুনের চেষ্টা করা ও আরও নানা মিথ্যে অভিযোগ তুলেছে। আদালতের বক্তব্য, তার তদন্ত এখনও চলছে। আইন এখনও প্রমাণ করতে পারেনি, প্রিয়ার দায়ের করা অভিযোগ আদতেই মিথ্যে কিনা। তা যতক্ষণ না হচ্ছে, ততক্ষণ বিশালের পাল্টা অভিযোগ মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।

    দিল্লি হাইকোর্টের বেঞ্চ রায় দিয়েছে, “অভিযুক্ত প্রিয়ার বিরুদ্ধে যে আইনি পদক্ষেপ বিশাল করেছেন, তা খারিজ করে দিয়ে ঠিক কাজ করেছে নিম্ন আদালত। কারণ প্রিয়ার পরকীয়া বা নিষ্ঠুরতার অভিযোগগুলি একটিও প্রমাণিত নয়। অন্য কথায় বলতে গেলে, বিশাল যে সমস্ত আচরণগুলি দেখিয়ে স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন, সেই একটি আচরণও আইনের চোখে নিষ্ঠুরতা বা বিশ্বাসভঙ্গ নয়। ফলে বিশালের বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন খারিজ করা হচ্ছে।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More