রবিবার, মার্চ ২৪

নেত্রী হেলিকপ্টার চড়েন, আমি দামি গাড়ি চড়লেই দোষ!

দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: ৩৫ লক্ষ টাকার গাড়ি চড়েন রামপুরহাট পুরসভার চেয়ারম্যান। লোকে বলছেন, এই ৩৫ লক্ষ টাকার পুরোটাই নাকি পুরসভার, অর্থাৎ জনগণের। তিনি নিজেও অবশ্য তাই বলছেন। যুক্তিও দিয়েছেন। বলেছেন নেত্রী যদি সময় বাঁচাতে হেলিকপ্টার চড়তে পারেন, তবে তিনি একটা দামী গাড়ি চড়বেন, এতে আর কার কী এল গেল?
বীরভূম জেলা মানেই যেন তৃণমূলের পিছু ছাড়ে না বিতর্ক। দলের জেলা সভাপতি সেই দায়িত্ব নিয়ে রেখেছেন একার কাঁধে। কখনও কোটি টাকায় পার্টি অফিস সাজিয়ে, কখনও নানান নিদান দিয়ে। পারিষদরাও যে কম যান না, তার প্রমাণ দিলেন রামপুরহাট পুরসভার চেয়ারম্যান অশ্বিনী তেওয়ারি।
দলের নেত্রী সাধারণ জীবনযাপনে বিশ্বাসী হলেও সেই আদর্শে ততটা আস্থা নেই অশ্বিনীর। তাই ৩৫ লক্ষ টাকা দিয়ে কিনে ফেলেছেন মহিন্দ্রা আলটুরাস জি-৪। তাতে আবার লাগিয়ে নিয়েছেন নীল বাতি। শখ পূরণের জন্য রাজ্যের মানুষের টাকাতেই ভরসা রেখেছেন তিনি। কখনও কলকাতা যেতে হয়, কখনও যেতে হয় নিজের গ্রামের বাড়িতে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে কখনও অল্প দামের গাড়িতে সওয়ার হলে চলে? কিন্তু মানুষের টাকায় এ ভাবে গাড়ি চড়া যায়?
শুনে হেসে ফেললেন চেয়ারম্যান। ‘‘আমাদের নেত্রী সময় বাঁচাতে হেলিকপ্টার চড়েন। আমিও সময়ের থেকে এগিয়ে থাকতেই এই দামী গাড়ি কিনে ফেলেছি। পুরসভার টাকাতেই। আমি সবার থেকে আলাদা।’’
আর গাড়িতে নীল বাতি?
‘‘রাস্তায় যাতে টোল ট্যাক্স না দিতে হয়।’’
চেয়ারম্যানের এ হেন কাণ্ডকারখানায় বিরোধীরা তো বটেই, তিতিবিরক্ত তাঁর দলের কাউন্সিলররাও। রামপুরহাট পুরসভার ১৮টি আসনের মধ্যে ১৬টাই তৃণমূলের দখলে। বাকি দুটির একটি সিপিএম ও একটি বিজেপির। বিজেপি কাউন্সিলর শুভাশিস চৌধুরী ও সিপিএম কাউন্সিলর সঞ্জীব মল্লিক বললেন, ‘‘দালালি করে চলছে পুরসভা। জনগণের টাকার চেয়ারম্যান গাড়ি কিনেছেন। অনেকবার অভিযোগ করেছি। কেউ কানে তোলেনি।’’
এমন কী ক্ষোভে ফুঁসছেন তৃণমূলের ১৬ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ১৪ জনই। চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাঁরাও। সব মিলিয়ে ৩৫ লাখের গাড়ি নড়িয়ে দিয়েছে রামপুরহাট পুরসভাকে।

Shares

Comments are closed.