মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২

নিষিদ্ধ ১৫: ভুলেও ফ্রিজে রাখবেন না এই সব খাবার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজকাল প্রায় সব বাড়িতেই ফ্রিজের উপর নির্ভরশীলতা ভীষণরকম।  সারা সপ্তাহের রান্না অনেকেই করে রেখে দেন ফ্রিজে।  ব্যস্ততার মাঝে আটা, ময়দা, আলু, পেঁয়াজ, কফি, আপেল সবই আমরা ফ্রিজে রাখি।  কিন্তু এমন কিছু খাবার আছে, যা আপনি ফ্রিজে রাখলে তার দফারফা হয়ে যায়।  কারণ ফ্রিজে রাখার পরে আপনি কিন্তু এগুলোয় তার আসল স্বাদ পাবেন না।  ভুরু না কুঁচকে বরং জেনে নিন সেগুলো ঠিক কোন কোন খাবার, যা আপনি ফ্রিজের বাইরে রাখবেন।

আলু

ফ্রিজে আলু রাখলে অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় আলুর স্টার্চ ভেঙে যেতে শুরু করে।  সেটা আস্তে আস্তে সুগারে পরিণত হয়।  আর আলু এতটাই বালি বালি হয়ে যায় ভেতর ভেতরে যে, আপনার আর তাতে স্বাদ লাগবে না।  বাইরে থাকলে যতটা ভালো লাগবে, ফ্রিজে থাকলে ততটাই খারাপ।  তাই চেষ্টা করুন আলু ফ্রিজে না রাখতে।

পেঁয়াজ
পেঁয়াজ ফ্রিজে রাখলে ভেপসে যায়।  বাকি অনেক সব্জির চেয়ে পেঁয়াজ বেশি খারাপ হয় ফ্রিজে।  রুম টেম্পারেচারে থাকলে ভালো থাকে পেঁয়াজ।  তবে সরাসরি সূর্যের আলোয় রাখবেন না পেঁয়াজ।  এতেও ক্ষতি হবে এর।  একবার পেঁয়াজ কাটলে বা ছাড়ালে আপনি হয় তো চাইবেন ফ্রিজে রাখতে, একেবারেই সেটা ঠিক না।  বরং, একটা সিল করা ব্যাগে ভরে শাক সব্জির ড্রয়ারে রেখে দিন এই কাটা, ছাড়ানো পেঁয়াজ।

রসুন
রসুন শব্দটা শুনলেই একটা ঝাঁজালো গন্ধ মাথায় আসে সকলের।  তবে এই রসুনের এই গন্ধ পুরোপুরি উবে যায় ফ্রিজে রাখলে।  এর কোয়াগুলোর মাথা ছাড়ানো হয়ে গেলেই সেই গুণ আস্তে আস্তে কমতে থাকে, তাই কোয়ার মাথা ছাড়ানোর পরে ১০ দিনের মধ্যে অবশ্যই রসুন ব্যবহার করবেন।  ফ্রিজে না রেখে রুম টেম্পারেচারে কোনও শুকনো মুখ আটকানো কৌটোয় রাখুন, সবচেয়ে ভালো হয় যদি পেপার ব্যাগের মতো এমন কিছুতে রসুন রাখতে পারেন।  তাতে রসুনের স্বাদ গন্ধ বজায় থাকে অনেকদিন।

তরমুজ, খরমুজ
এ জাতীয় কোনও ফল কখনোই ফ্রিজে রাখবেন না।  কিছু গবেষণা বলছে, এতে এই ফলের অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের গুণ নষ্ট হয়ে যায়।  এগুলো রুম টেম্পারেচারে রাখলে সবচেয়ে বেশি সুস্বাদু লাগে।  আর এর পুষ্টিগুণও বজায় থাকে।  তাই খুব প্রয়োজন না হলে ফ্রিজে রাখবেন না তরমুজ, খরমুজ।  আর রাখলেও তা ৩ থেকে ৪ দিনের বেশি একেবারেই নয়।

মধু
মধু রোজ সকালে খান? তাহলে ফ্রিজে রাখার দরকারটাই বা কি! ফ্রিজে রাখলে মধু অনেকটাই ক্রিস্টালাইজড বা জমাটবদ্ধ হয়ে যায়।  ফলে ব্যবহার করাও শক্ত হয়ে যায়।  ফ্রিজে না রাখলে আপনি অনেকদিন পর্যন্ত মধু ব্যবহার করতে পারেন।  তবে ফ্রিজে রেখে জমাট বেধে গেলে মধুর শিশিটা হাল্কা গরম জলে রাখলেই, সেই মধু আবার ব্যবহার করতে পারবেন।

পাঁউরুটি
রোজ সকালে ব্রেকফাস্টে পাঁউরুটি চাই, এমন অনেক বাড়িই আছে।  তাঁরা ফ্রিজে রাখলে পাঁউরুটি যে শক্ত হয়ে যায় তা তো ভালোই জানেন।  তাই খুব প্রয়োজন ছাড়া পাঁউরুটি একেবারেই রাখবেন না ফ্রিজে।  আর যদি রাখতেই হয়, তাহলে এক বা দু স্লাইস বের করে টোস্টারে ভালো করে সেঁকে নেবেন।  আর নয় তো চেষ্টা করতে পারেন ব্রেডের ড্রয়ারে বা প্যান্ট্রিতে রাখতে।

বাদাম

অনেকেই বাদাম বা বাদাম জাতীয় খাবার ফ্রিজে রাখেন, কিন্তু রাখবেন না।  এতে এগুলোর তৈলাক্ত যে গুণ তা নষ্ট হয়ে যায়।  তাছাড়াও ফ্রিজ থেকে অন্য খাবারের যে গন্ধ সেটাও অনেক সময়ে বাদামে ধরে যায়।  তাই চেষ্টা করবেন, ফ্রিজে বাদাম না রাখতে।  আর রেখেই ফেলেন যদি, তাহলে চেষ্টা করুন খাওয়ার আগে একটু শুকনো কড়ায় সেটা নেড়ে নিতে।  এমনিতে ঘরের সাধারণ টেম্পারেচারে মুখবন্ধ কোনও কৌটোতে রাখতে পারেন বাদাম।  বেশ ভালো থাকবে বহুদিন।

কফি
কফি খেতে খুব ভালোবাসেন কি? তাহলে তো আপনার গুড কফি আর ব্যাড কফির স্বাদ সম্পর্কে ধারণা আছে।  কফি যদি ফ্রিজে রাখেন, তাতে একটা জোলো ব্যপার চলে আসে।  তাই কফির স্বাদ অনেকটাই চলে যায়।  ঘরেই এয়ারটাইট কৌটোতে রাখুন এই কফি।  আর গরম কফির স্বাদ নিন বহুদিন।

টোম্যাটো
টোম্যাটোর গন্ধ-স্বাদ সবই উবে যায় যদি ফ্রিজে রাখেন একে।  টোম্যাটোর চামড়াগুলো কুঁচকে যায়।  তাই ঘরেই সব্জির ঝুড়িতে রাখুন টোম্যাটো।  কাঁচা অবস্থায় থাকলে রাখুন জানলার রোদে।  আর পাকা হলে রান্না করে ফেলুন।  তারপর ফ্রিজে রাখতে পারেন টোম্যাটো।

সস্
হট সস্ জাতীয় কিছু ফ্রিজে রাখবেন না।  এতে তার ঝাল স্বাদে ভাঁটা পড়ে।  তবে এ জাতীয় সস্-এ ভিনিগার দেওয়া থাকে, তাই এগুলোয় ফ্রিজের ঠাণ্ডাতেও ব্যাকটিরিয়া বাসা বাধতে পারে না।  এ জাতীয় সস্ আপনি বিভিন্ন খাবারেই ব্যবহার করতে পারেন, তবে ফ্রিজে থাকলে জমাট বেধে যায়।  তাই রুম টেম্পারেচারে রাখাই ভালো।


কোল্ড চকোলেট-হেজেলনা
ট স্প্রেড
কোল্ড চকোলেট-হেজেলনাট স্প্রেডও তার নিজস্ব স্বাদ হারায় ফ্রিজে রাখলে।  সাধারণভাবে, খোলা কনটেনার এবং প্যান্ট্রির মধ্যে দু মাস পর্যন্ত রাখতে পারেন এগুলো। এগুলো খোলার পরে খুব বেশি হলে এক মাস পর্যন্ত খেতে পারেন আপনি।  তাই বেশি দিন ফ্রিজে রেখে খাবেন একেবারেই ভাববেন না।

আপেল
দেখতে যাকে এত সুন্দর তাকে অযথা ফ্রিজে রাখতে যাবেন কেন? টেবলের উপর সাজিয়ে রাখুন, বা ফলের ঝুড়িতে রাখুন।  ফ্রিজে রাখলে এর পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়।  তবে বহুদিন যদি আপনি একে টেবলে রাখার পরেও কেউ না খেলে তখন না হয় ফ্রিজে রাখার কথা ভাবতে পারেন।


অ্যাভোকাডো

অ্যাভোকাডো এমন এক অদ্ভুত ফল, যা বেশি পাকলে খাওয়া যায় না, আবার কাঁচা থাকলে কামড়ালে আলুর মতো লাগে।  তাই সঠিক সময়ের অ্যাভোকাডো খাওয়া বেশ মুশকিল।  চেষ্টা করুন ফ্রিজে অ্যাভোকাডো না রাখতে, তবে খুব বেশি পেকে গেল অথচ আপনি খেতে পারছেন না তখনই আপনি সেই অ্যাভোকাডোকে এক দুদিনের জন্য ফ্রিজে ঠাঁই দিতেই পারেন।

বেরি
যেদিন খাবেন, সেদিনই কিনবেন।  নইলে সমস্যা।  বলছি বেরি জাতীয় ফলের কথা।  ফ্রিজে রাখলে তাতে যে জোলোভাব আসে, তাতে বেশিদিন ঠিক থাকে না বেরি।  তাই একেবারে এক ক্রেট বেরি খুলে ফেলবেন না।  নইলে ফ্রিজে রাখতে অসুবিধে হবে, তার স্বাদ চলে যাবে।

সবসময়ে চেষ্টা করবেন রান্না করা খাবার বা পেকে যাওয়া ফল ফ্রিজে রাখতে।  তাতে এক দুদিন সেগুলোর আয়ু বাড়বে।  তবে কাঁচা সব্জি, ফলের ক্ষেত্রে তার ক্ষতিকর দিকগুলো মনে রাখার চেষ্টা করবেন।

Comments are closed.