বাধার পাহাড় ঠেলে স্বপ্নের উড়ান দুই কন্যার

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো একই জেলার মেয়ে আফরোজা আর মধুরিমা। একজনের বাবা সামান্য জমিতে চাষবাস করেন। আরেক জনের বাবার ছোট্ট দর্জির দোকান। কোনওমতে জোগাড় হয় প্রতিদিনের খাবার। পড়াশোনার জন্য টাকার সংস্থান, সে তো আকাশকুসুম। কিন্তু শুধুমাত্র মেধা আর ইচ্ছেশক্তির জোরেই সাফল্যকে হাতের মুঠোয় এনে ফেলল জলপাইগুড়ির দুই কন্যা।

    উচ্চমাধ্যমিকে নবম হয়ে রাজ্যের মেধা তালিকায় এ বার জায়গা করে নিয়েছেন আফরোজা বানু। আর মেধা তালিকায় নাম তুলতে না পারলেও এ বারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৬৬৬ নং পেয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে জলপাইগুড়ির মধুরিমা রায়ও।

    রাজগঞ্জ ব্লকের সুখানি গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়বাড়ি গ্রামে বাড়ি আফরোজার। ভোলাপাড়া হাই মাদ্রাসার এই ছাত্রীর বাবা আয়ুব আলি সামান্য জমিতে চাষ করে সংসার চালান। মেয়ের জন্য নিয়মিত বই-খাতা কিনে দেওয়া বা গৃহশিক্ষক রাখা কোনওটাই সম্ভব হয়নি তাঁর। স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের সাহায্য নিয়েই কলা বিভাগে ৪৮২ নম্বর পেয়েছেন আফরোজা। উচ্চমাধ্যমিকের মেধা তালিকায় তাঁর স্থান নবম। ভবিষ্যতে অধ্যাপনা করতে চান এই মেধাবী ছাত্রী। কীভাবে হবে মেয়ের স্বপ্নপূরণ সেই চিন্তাই কপালে ভাঁজ ফেলেছে আয়ুব আলির।

    কৃষি বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার ইচ্ছে পোড়াপাড়া গ্রামের মেয়ে মধুরিমার। এ বারের মাধ্যমিকে মধুরিমা পেয়েছে ৬৬৬ নম্বর। জলপাইগুড়ি শহর লাগোয়া খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পোড়াপাড়া গ্রামেই ছোট্ট দর্জির দোকান মধুরিমার বাবা জিতেন রায়ের। নুন আনতে পান্তা ফুরনো সংসারে মধুরিমার লড়াইটাও ছিল রীতিমতো দাঁতে দাঁত চেপেই। জলপাইগুড়ি সুনীতিবালা সদর বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী মধুরিমা জানান, ভবিষ্যতে কৃষি বিজ্ঞানে গবেষণা করার স্বপ্ন বুকে নিয়ে এগোতে চান। তবে আপাতত লক্ষ্য উচ্চ মাধ্যমিকে আরও ভাল ফল। মেয়ের লড়াইয়ে পাশে থাকা জিতেনবাবুর কাছেও এই মুহূর্তের সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More