“প্যারাশুট নামতেই তাঁর দিকে পাথর ছোঁড়া শুরু হল, একজন গুলি চালাল পায়ে,” প্রত্যক্ষদর্শী শোনালেন কী ভাবে ধরা হয়েছিল অভিনন্দনকে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: “প্যারাশুট মাটি ছুঁতেই তিনি জিজ্ঞাসা করলেন আমি কি পাকিস্তানে?” মিগ-২১ থেকে ‘ইজেক্ট’ করে বাইরে বেরনোর পর ভারতীয় বায়ুসেনার উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমানের সঙ্গে ঠিক কী কী হয়েছিল তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দিলেন প্রত্যক্ষদর্শী এক গ্রামবাসী।

পাক জেটে থেকে ধেয়ে আসা গুলিতে মিগ-২১ ফাইটার জেট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে ‘ইজেক্ট’ করে বিমানের বাইরে চলে আসেন অভিনন্দন। তাঁকে নিয়ে ভাসতে শুরু করে প্যারাশুট। নীচ থেকে আকাশে চলতে থাকা ভারত-পাক বায়ুযুদ্ধের সবটাই দেখেছিলেন পাকিস্তানের হরান গ্রামের প্রধান মহম্মদ রেজ্জাক চৌধুরী। অভিননন্দকে নিয়ে প্যারাশুট নেমে আসে এই গ্রামেই।

“একটা ফাইটার জেটে আগুন ধরে গেল। একজন লোক প্যারাশুটে চেপে আমাদের এলাকায় নেমে এল। প্যারাশুটের গায়ে ভারতের জাতীয় পতাকা দেখেই বুঝলাম তিনি ভারতীয়,” অনর্গল বলে চললেন রেজ্জাক। তবে শুধু রেজ্জাক নয়, গ্রামের বাসিন্দারা সকলেই বুঝেছিলেন অভিনন্দন ভারতীয় বায়ুসেনার এক কম্যান্ডার। তাঁকে নামতে দেখেই তাই ঘিরে ধরেন গ্রামবাসীরা।

ভারতীয় সেনাকে দেখেই রাগে ফুঁসতে শুরু করেন গ্রামের কমবয়সীরা, বললেন রেজ্জাক। প্যারাশুটের বাঁধন থেকে তখনও সবটা বার হতে পারেননি অভিনন্দন, তাঁর চোখে মুখে তখন শঙ্কা। সেটাকেই হাতিয়ার করে সেনা কম্যান্ডারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন গ্রামবাসীরা। ঝাঁকে ঝাঁকে ধেয়ে আসতে থাকে পাথর। ক্ষতবিক্ষত হতে থাকেন অভিনন্দন। রেজ্জাকের কথায়, কয়েকজন লাথিও মারেন তাঁকে। সেই সঙ্গে স্লোগান ওঠে, ‘পাকিস্তান যুগ যুগ জিও।’

“আমি বারণ করছিলাম কিন্তু ওরা শোনেনি। পাথর ছুঁড়ছিল, লাথি মারছিল, তারপর আমারই এক ভাইপো তাঁর পা লক্ষ্য করে গুলি চালাল,” রেজ্জাক বললেন, “লোকটা বাঁচার জন্য আকাশের দিকে তাক করে একবার গুলি চালিয়েছিল, কিন্তু কোনও মানুষকে আঘাত করেনি,” ভারতীয় বায়ুসেনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই জানালেন গ্রামপ্রধান রেজ্জাক।

গ্রামবাসীদের রোষ থেকে বাঁচতে তারপর দৌড়নো শুরু করেছিলেন অভিনন্দন। তবে পারেননি। কিছুদূর গিয়েই একটি জলাশয়ে পড়ে যান। রেজ্জাক জানালেন, সেখান থেকে তাঁকে টেনে হিঁচড়ে তুলে আনেন গ্রামবাসীরা। তাঁর কাছে যা যা অস্ত্র ছিল সব কেড়ে নেওয়া হয়। গ্রামপ্রধান বললেন, “সেনা কম্যান্ডারের কাছে যা যা নথিপত্র ছিল তার বেশিরভাগটাই তিনি মুখে পুড়ে গিলে ফেলেন। তবে কিছু কাগজ কেড়ে নিয়ে পাক সেনাদের হাতে তুলে দিয়েছে গ্রামের লোকজন।”

ক্রমাগত মারধর, ভারত বিরোধী স্লোগানের মাঝেই ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয় পাক সেনারা। তারা অভিনন্দনের হাত পিছমোড়া করে বাঁধে, তাঁর চোখে ফেট্টি বেঁধে টেনে নিয়ে যায়। “আমি অনেকবার সবাইকে বারণ করেছিলাম যাতে ওনাকে মারধর, অত্যাচার না করা হয়, তবে কেউ কথা শোনেনি,” সে দিনের ঘটনা এখনও ভুলতে পারছেন না রেজ্জাক, বললেন, “উনি সুস্থ ভাবে দেশে ফিরে যান, এটাই চাই।”

 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More