রবিবার, অক্টোবর ২০

মন্ত্রীদের হুঁশিয়ারি মোদীর, ‘কাকে কী ভাবে ঠিক করতে হয় আমি জানি!’

  • 809
  •  
  •  
    809
    Shares

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক’দিন আগে বিজেপি সংসদীয় দলের বৈঠকে কড়া কথা শুনিয়েছিলেন তিনি। সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, দলে কারও কোনও বেয়াদপি বরদাস্ত করবেন না। তা সে যাঁর ছেলেই হোক না কেন!

মঙ্গলবার যেন ছিল মন্ত্রীদের পালা। সংসদীয় দলের বৈঠকে সতীর্থদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী ও দলের সভাপতি তথা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ-র দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, “মন্ত্রীদের মধ্যে কারা কারা রোস্টার ডিউটি করছেন না তা আমি জানতে চাই। সন্ধ্যের মধ্যে আমার কাছে তালিকা জমা দিন।” এখানেই থামেননি প্রধানমন্ত্রী। সূত্রের খবর, গম্ভীর মুখ করে বলেন, ‘কাকে কী ভাবে ঠিক করতে হয় আমি জানি! সংসদ চলবে আর বিরোধী দলের নেতারা আমাকে চিঠি লিখে জানাবেন যে এই মন্ত্রী সংসদে থাকেন না, ওই মন্ত্রীকে আলোচনার সময় পাওয়া যায় না—এটা চলবে না।”

সংসদের অধিবেশন চলাকালীন মন্ত্রিসভার সদস্যদের সকাল বিকেল ঘুরিয়ে ফিরিয়ে লোকসভা ও রাজ্যসভায় বসতে হয়। সপ্তাহের কোন দিন কোন সময়ে কোন মন্ত্রীকে রাজ্যসভা বা লোকসভায় বসতে হবে তা সংসদ বিষয়ক মন্ত্রক জানিয়ে দেয়। এটাকেই রোস্টার ডিউটি বলে। এ ছাড়াও দুই সভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট মন্ত্রকের প্রশ্ন ওঠে। সাধারণত প্রশ্নোত্তর পর্বের শেষে রাজ্যসভায় ও লোকসভায় কম করে তিন-চার জন মন্ত্রীর রোস্টার ডিউটি থাকে। কিন্তু আকছার দেখা যায় ট্রেজারি বেঞ্চে এক জন মন্ত্রী বসে রয়েছেন। আর যাঁদের রোস্টার ডিউটি রয়েছে তাঁরা সভায় নেই। হয়তো সংসদ ভবনেই রয়েছেন। কিন্তু সেন্ট্রাল হলে বসে সতীর্থদের সঙ্গে আড্ডায় ব্যস্ত। অতীতে ইউপিএ জমানাতেও এমন প্রায়শই হতো। এখন মোদী জমানাতেও হচ্ছে। তবে ইতিবাচক যে তা কড়া হাতে ‘ঠিক’ করার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সপ্তাহ দুয়েক আগে বিজেপি সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কোপের মুখে পড়েছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়। কৈলাসের ছেলে তথা ইনদৌরের বিধায়ক আকাশ বিজয়বর্গীয় ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে সেখানকার এক পুরকর্মীকে পিটিয়েছিলেন। সেই ভিডিও গোটা দেশ জুড়ে ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল। আকাশকে যে শো-কজ করা হবে, দরকার হলে দল থেকে বের করে দেওয়া হবে বলে সে দিন হুঁশিয়ার করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সূত্রের খবর, সে দিনের সঙ্গে মোদীর এ দিন মেজাজের বিশেষ ফারাক ছিল না।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কেন্দ্রে দ্বিতীয় মেয়াদে সরকারের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যেন অধিকতর সচেতন হয়েছেন। তাঁর নিজের কাজের ধারারও কিছু পরিবর্তন তিনি করেছেন বলে অনেকে মনে করছেন। যেমন, অধিবেশন চলাকালীন প্রথম মেয়াদের তুলনায় এখন অনেক বেশি সময় সংসদেও থাকছেন তিনি।

Comments are closed.