শুক্রবার, নভেম্বর ২২
TheWall
TheWall

১২৯ ঘণ্টায় কন্যাকুমারী থেকে কাশ্মীর, বাইক ছুটিয়ে দেশ জয় করছেন দুই কন্যা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পথের বাধার তোয়াক্কাই করেন না তাঁরা। দূরত্ব কোনও সমস্যাই নয়। পরিশ্রম এবং মনের ফূর্তিই বেঁচে থাকার মূল মন্ত্র। সাহস দুর্জয়। লক্ষ্য স্থির করে স্বপ্নের উড়ান শুরু করেছেন দুই তরুণী। বাইক ছুটিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন অজানাকে ছুঁতে। দেশের উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম চষে ফেলাই তাঁদের লক্ষ্য। সূদূর দক্ষিণের কন্যাকুমারী থেকে হিমশীতল লেহ ছুঁয়ে ফেলেছেন তাঁরা। এগোনোর পথের শেষ হয়নি এখনও। পাহাড়ি পথের ঢাল বেয়ে, উপত্যকা-মালভূমি পেরিয়ে ছুটে চলেছেন অম্রুতা কাশীনাথ এবং শুভ্রা আচার্য।

বাইকআরোহী এই দুই তরুণী এখন দেশের গর্ব। মাত্র ১২৯ ঘণ্টায় চার হাজার কিলোমিটারেরও বেশি পথ বাইকে চেপেই পার করে ফেলেছেন তাঁরা। শুধুমাত্র মহিলা বলে নয়, এই সাহস এবং ক্ষিপ্রতার জন্যই দেশবাসীর মন জয় করেছেন অম্রুতা ও শুভ্রা। দক্ষিণ থেকে উত্তর—সবচেয়ে দ্রুতগামী সফরের জন্য ইতিমধ্যেই ‘লিমকা বুক অব রেকর্ডস’-এ নাম তুলে ফেলেছেন অম্রুতা ও শুভ্রা।

“আমাদের তেমন কোনও পরিকল্পনা ছিল না। বাইকে চেপে অভিযান করাই লক্ষ্য ছিল। কিন্তু পরে চ্যালেঞ্জ করি নিজেদেরই। পাঁচদিনের মধ্যে দক্ষিণ থেকে উত্তরে পৌঁছতেই হবে, আর আমাদের এই জেদই জিতে গেছে,” অম্রুতার হাসিতে গর্ব।

অ্যাডভেঞ্চারের শুরু ২০১৭ সালেই

বাইকে চেপে অ্যাডভেঞ্চারের নেশা ছিল বরাবরই, জানিয়েছেন শুভ্রা আচার্য। ২০১৭ সালে বেঙ্গালুরু থেকে ভুটান– ৪৫ দিনের অভিযান করেছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্বামী। সিকিম হয়ে মধ্য ভারতের বিহার, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরবঙ্গ হয়ে আরও নানা রাজ্য-শহর-জেলা ঘুরে তবে বাড়ি ফিরেছিলেন। সবসময় যে সঙ্গী পেয়েছেন তা নয়, পথের নেশা ডাক দিলে ছুটে গেছেন একাই। রেকর্ড গড়ার উদ্দেশ্যে নয়, দেশ ও দেশবাসীকে আরও কাছ থেকে জানার লক্ষ্যে। অজানা, অচেনা, বিপদসঙ্কুল স্থানে আত্মবিশ্বাসের পরীক্ষা চালাতে ভালোবাসেন ডাকাবুকো শুভ্রা। তার জন্য অনেক চোখরাঙানি সইতে হয়েছে। সমাজের বাঁকা দৃষ্টির তোয়াক্কা না করেই স্বপ্ন ছোঁয়ার অঙ্গীকার নিয়েছিলেন শুভ্রা।

অম্রুতাই হবে যোগ্য অভিযান-সঙ্গী..বুঝেছিলেন শুভ্রা

২০১০ সাল থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ‘ট্রাভেলিং সার্কাস’ নামে একটি সংস্থা চালিয়েছি, জানিয়েছেন শুভ্রা। ভারতের নানা জায়গা, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও হিমালয়ের পার্বত্য এলাকায় বাইক-ট্যুর করিয়েছেন অসংখ্য। এইভাবেই একদিন আসাপ হয় অম্রুতা কাশীনাথের সঙ্গে। অম্রুতাও বাইকে চেপে অ্যাডভেঞ্চারে অভ্যস্ত। দু’জনেরই ভ্রমণের নেশা অদম্য। কাজেই বন্ধুত্ব হতে বেশি দেরি হয়না। দু’জনেই বোঝেন, লক্ষ্যের পথে পাড়ি দিতে হলে একে অপরের পাশে থাকাটা খুবই প্রয়োজন।

“দুটো মেয়ের বাইকে চেপে দুর্গম এলাকা দাপিয়ে বেড়ানোটা অনেকেই ভালো চোখে দেখেন না। আমাদেরও অনেক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল। বাস্তবে কোনও অভিযানই কঠিন নয়, যদি ঠিকঠাক নিয়ম মেনে চলা যায়,” বলেছেন অম্রুতা। তাঁর কথায়, গভীর রাতে জাতীয় সড়ক বা পাহাড়ি এলাকায় একদম নয়, যে কোনও আঞ্চলিক সমস্যা-বিক্ষোভ এড়িয়ে চলা, অযথা বাদানুবাদে জড়িয়ে না পড়া—ইত্যাদি কয়েকটা বিষয় মাথায় রাখলে বাইক-অভিযান অনেক বেশি আনন্দ ও রোমাঞ্চকর অনুভূতি। পথ অবরুদ্ধ থাকতেই পারে, তাতে না দমে বরং নতুন রাস্তার খোঁজ করাটাই শ্রেয়।

নতুন রেকর্ড করে দু’জনেই খুব খুশি। তবে অম্রুতা ও শুভ্রা চাইছেন দেশের আরও বেশি মহিলারা এই অ্যাডভেঞ্চারে এগিয়ে আসুক। নানা জায়গায় প্রশিক্ষণও দেন দু’জনে। নিজেদের কেটিএম ডিউক ৩৯০ চেপে আরও অনেক দেশ ভ্রমণের ইচ্ছা রয়েছে অম্রুতা ও শুভ্রার। বলেছেন, “বিপদ আসবে, ঝড়-ঝাপ্টা আসবে তবে পিছিয়ে গেলে হবে না। ভয়কে জয় করাই আমাদের উদ্দেশ্য। এই পথ চলাতেই আমাদের আনন্দ। ”

পড়ুন দ্য ওয়াল-এর পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…

Comments are closed.