বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

ফের জুনিয়র ডাক্তার নিগ্রহ, এ বার এইমসে, তোলপাড় রাজধানী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের জুনিয়র ডাক্তার নিগ্রহ। এ বার রাজধানীতে। সোমবার সকালে দেশজোড়া ধর্মঘটের মধ্যেই দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এইমস)-এর এক জুনিয়র ডাক্তারকে শারীরিক ভাবে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠল।

দেশজোড়া ধর্মঘটে সামিল না হওয়ারই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এইমস)। জরুরি পরিষেবা চালু রেখে সকাল থেকেই হাসপাতালে চিকিৎসকদের ভিড় ছিল। কিন্তু ডাক্তার নিগ্রহের জেরে নতুন করে আন্দোলনে সামিল হলো এইমস।

সকাল থেকেই অ্যাপেক্স ট্রমা সেন্টারে রোগী দেখছিলেন জয় প্রকাশ নারায়ণ। আচমকাই হাসপাতালে শোরগোল ওঠে, বেছে বেছে রোগীদের জরুরি বিভাগে ঢোকানো হচ্ছে। পক্ষপাতিত্ব করছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। এই অভিযোগে হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন রোগীর পরিজনরা। আক্রান্ত হন জয়প্রকাশ। রেসিডেন্ট ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন (আরডিএ)-এর প্রধান ডঃ অমরেন্দ্র সিং মালহির কথায়, “মদ্যপ অবস্থায় হাসপাতালে এসেছিলেন রোগীর আত্মীয়েরা। ডাক্তারদের হুমকি দেওয়া হয়, তাঁদের রোগীদের না দেখলে খুন করে ফেলা হবে।” সংগঠনের দাবি, “মুমূর্ষু রোগীকে চিকিৎসা করার ফল পেলেন জয়প্রকাশ। ফের হাসপাতালে ডাক্তার নিগ্রহের মতো অমানবিক ঘটনা ঘটল। আমরা বৃহত্তর আন্দোলন করবো।”

এনআরএসের আন্দোলনের ঢেউ আছড়ে পড়েছে গোটা দেশে। বাংলার বিক্ষোভরত ডাক্তারদের পাশে দাঁড়িয়ে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন দেশজোড়া চিকিৎসকদের সংগঠন। মাথায় প্রতীকি ব্যান্ডেজ বেঁধে, হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাজ্যে রাজ্যে শুরু হয়েছে প্রতিবাদ মিছিল। নাগপুর থেকে বারাণসী, মুম্বই থেকে অন্ধ্র-তেলঙ্গানা সার্বিক ছবিটা একই।

আরও পড়ুন: আলোচনার অনুরোধ করে আন্দোলনকারীদের কাছে চিঠি পাঠাল নবান্ন, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক দুপুর আড়াইটেয়

গত বৃহস্পতিবার দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট মেডিক্যাল সায়েন্সেস-এর চিকিৎসকদের তরফে দাবি করা হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গে জুনিয়র ডাক্তারদের উপরে যে আক্রমণ চলেছে তা দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। এটা রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি। এনআএসের ডাক্তারদের সমর্থনে হেলমেট পরে এবং মাথায় ব্যান্ডেজ বেঁধে প্রতীকী প্রতিবাদ শুরু করেছিলেন তাঁরা। রেসিডেন্ট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের তরফে রাজধানী জুড়ে চিকিৎসা পরিষেবা বন্ধের ডাক দিয়েছিলেন তাঁরা। তার পরের দিনও দেখা গিয়েছিল একই ছবি। কার্যত আউটডোর ও জরুরি বিভাগ বন্ধ রেখে যন্তরমন্তর অবধি মিছিলও বার করেছিলেন ডাক্তাররা। এইমস ও সফদরজঙ্গ হাসপাতাল মিলিয়ে রেসিডেন্ট ডক্টরস অ্যাসসিয়েশনের প্রায় সাড়ে তিন হাজার সিনিয়র ও জুনিয়র ডাক্তার আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন।

এইমস জানিয়েছে, প্রতিবাদ চললেও মুমূর্ষু রোগীদের কথা ভেবে আজ, সোমবার জরুরি পরিষেবা চালু রাখারই সিন্ধান্ত নিয়েছিলেন ডাক্তাররা। খোলা ছিল আউটডোরও। কিন্তু কার মধ্যেও এক জুনিয়র ডাক্তারকে অন্যায় ভাবে হেনস্থা করা হলো। প্রতিবাদে এ দিন সকাল ৮টা থেকে ৯টা এক ঘণ্টা প্রতীকী মিছিল করেছেন এইমসের সিনিয়র ও জুনিয়র ডাক্তাররা। সেই মিছিলে সামিল হয়েছিলেন, সফদরজঙ্গ হাসপাতাল, লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ, আরএমএল হাসপাতাল, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত জিটিবি, ডঃ বাবা সাহেম আম্বেডকর, সঞ্জয় গান্ধী মেমোরিয়াল, দিনদয়াল উপাধ্যায় হাসপাতালের ডাক্তাররা।

দিল্লি মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (DMA) ও ফেডারেশন অব রেসিডেন্ট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (FORDA)-এর তরফে জানানো হয়েছে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন ডাক্তাররা। আগামীকাল সকাল ৬টার পরেও কর্মবিরতি চলতে পারে।

Comments are closed.