শুক্রবার, জুলাই ১৯

২৫ লক্ষ লিটার জল নিয়ে ভেলোর থেকে চেন্নাই পৌঁছল ৫০ ওয়াগনের ট্রেন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভেলোরের জোলারপেট থেকে রওনা দিয়েছিল শুক্রবার সকালে। বিকেলের মধ্যেই চেন্নাইয়ের ভিল্লিভাক্কাম স্টেশনে পৌঁছল ৫০ ওয়াগনের বিশেষ ট্রেন। সাদার্ন রেলওয়ে জানিয়েছে, দ্বিতীয় আর একটি ট্রেনও জল নিয়ে প্রস্তুত। প্রথমটি ফিরে আসার পর, যাত্রা শুরু করবে দ্বিতীয়টি।

এই ট্রেনে রয়েছে ৫০টি জব ভর্তি ট্যাঙ্কার। প্রতি ওয়াগনে প্রায় ৫০ হাজার লিটার পর্যন্ত জল ভর্তি করা হয়েছে। চেন্নাই মেট্রোপলিটন ওয়াটার সাপ্লাই জানিয়েছে, এই প্রথম জলভর্তি ট্রেন এসে পৌঁছল চেন্নাইতে। বিপুল জলের চাহিদা না মিটলেও, পালা করে ট্রেনে চাপিয়ে জল পৌঁছে দেওয়া হবে শহরে। তাতে হাহাকার মিটবে অনেকটাই। ২৫ লক্ষ লিটার জল পাম্প করে পাম্পিং স্টেশনে পৌঁছে দেওয়ার জন্য রেলওয়ে ট্র্যাকে বসিয়ে রাখা হয়েছিল একশোটিরও বেশি পাইপ। রেলের াদিকারিকরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারই জনভর্তি ট্রেনের চেন্নাই পৌঁছবার কথা ছিল। তবে পাইপে লিক থাকার জন্য মেরামতিতে কিছু সময় লাগে।

প্রায় জলশূন্য চেন্নাই। ভূগর্ভস্থ জলস্তরের ক্রমাগত নেমে যাওয়া এবং বৃষ্টির জল পুনর্ব্যবহারে ব্যর্থতা, সব মিলিয়েই দেশের ‘ওয়াটার স্ট্রেসড সিটি’-র তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে চেন্নাই। শুকিয়ে গিয়েছে শহরের জলাধারগুলি। পানীয় জলের জন্য এলাকার কুয়োই এখন ভরসা চেন্নাইবাসীর। বহুজাতিক সংস্থা থেকে হোটেল-রেস্তোরাঁ সর্বত্রই জল-খরচে রাশ টানার মরিয়া চেষ্টা চলছে। চেন্নাই মেট্রো ওয়াটার তার রিপোর্টে জানিয়েছে, জলসঙ্কট মেটাতে প্রতি দিন প্রায় ১ কোটি লিটার জল আমদানি করা প্রয়োজন। নিজেদের চাহিদা মেটানোর পরেও চেন্নাইকে জল দেওয়ার কথা ভেবেছে কলকাতা।  ইতিমধ্যেই কেরল থেকে চেন্নাইতে নিয়মিত জলের ট্রেন চলাচল করার ব্যবস্থা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ইকে পালানিস্বামী।

রেল সূত্রে খবর, জল ভর্তি এই ট্রেন পৌঁছবে ভিল্লিভাক্কাম স্টেশনে। সেখান থেকে জল পাম্প করা হবে কিলপক ওয়াটার ওয়ার্কস পাম্পিং স্টেশনে। এই পাম্পিং স্টেশনের মারফৎ জল পৌঁছে দেওয়া হবে গোটা শহরে। ফি দিন ভেলোর থেকে চেন্নাই পৌঁছতে এই ট্রেনের সময় লাগবে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা। প্রতিটি ট্রিপের জন্য চেন্নাই মেট্রো ওয়াটারকে সাড়ে ৭ লক্ষ টাকা করে দেবে সাদার্ন রেলওয়ে। গোটা প্রকল্পের জন্য মোট ৬৫ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে তামিলনাড়ু সরকার।

মূলত উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে অক্টোবরে চেন্নাইয়ে বৃষ্টি হয়। আবহাওয়া দফতর সূত্রের খবর, গত বছরের শেষ তিন মাসে দক্ষিণের এই শহরে অত্যন্ত কম বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিপাতের ঘাটতি ৮০ শতাংশের কাছাকাছি। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, যে প্রধান চারটি জলাধার থেকে চেন্নাইয়ে জল সরবরাহ হয়, সে গুলিতে গত বছরের তুলনায় এখন একশো ভাগের এক ভাগ জল রয়েছে। জনসংখ্যার নিরিখে চেন্নাইতে প্রতিদিন প্রায় ৮৩ কোটি লিটার জলের প্রয়োজন হয়। এই ট্রেন চলাচলে সেই বিপুল ঘাটতি না মিটলেও, অন্তত ৫৩ কোটি লিটারের কাছাকাছি জল সঞ্চয় করা সম্ভব হবে।

Comments are closed.