বুধবার, নভেম্বর ১৩

ভাঙা তরমুজের খোলায় দলা পাকানো পাঁচ মাসের কন্যাভ্রূণ উদ্ধার নয়ডায়, সচেতনতা সেই তিমিরেই

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নর্দমা সাফ করতে গিয়ে চোখ কপালে উঠেছিল সাফাইকর্মীর। নর্দমার নোংরার মধ্যে পড়ে রয়েছে একটি ভাঙা তরমুজের খোলা, তার ভিতরেই রয়েছে একটি ছোটো খাটো দলা পাকানো দেহ।  খোলাটা হাতে নিয়েই সাফাইকর্মী বুঝতে পারেন সেটি একটি মৃত কন্যা ভ্রূণ।  সম্ভবত গর্ভপাতের পরেই ওই ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে আবর্জনা স্তুপে।

ঘটনা নয়ডার গেজা গ্রামের।  সাফাইকর্মী রবীন্দ্র ওরফে কাল্লু জানিয়েছেন, রোজকার মতোই মঙ্গলবারও গ্রামের রাস্তা সাফাই করছিলেন তিনি।  নর্দমা পরিষ্কার করতে গিয়েই তরমুজের খোলাটা নজরে আসে তাঁর।  সেটা তুলতে গিয়েই দেখেন ভিতরে রয়েছে একটি মৃত ভ্রূণ।  হাত-পায়ের গঠনও সে ভাবে পরিণত নয়।  চিৎকার করে এলাকাবাসীকে জড়ো করে সেই মৃত ভ্রূণ দেখান তিনি।  গ্রামবাসীরাই খবর দেন পুলিশে।

গেজা গ্রামের সেক্টর ৯৩ -র স্টেশন হাউস অফিসার ফারমুদ আলি পুন্ডিরের কথায়, মৃত ভ্রূণটি ছিল কন্যা সন্তানের। বয়স পাঁচ মাসের মতো।  যে বা যাঁরা এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে তাঁদের খুঁজে বার করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।  এমন ঘৃণ্য অপরাধের জন্য অজ্ঞাতপরিচয় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩১৮ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩(২)বি ধারা অনুযায়ী ভ্রূণের বয়স ২০ সপ্তাহ হয়ে গেলে আর গর্ভপাত করানো যায় না। তবে বিশেষ কারণে ২০ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও গর্ভপাতে ছাড়পত্র রয়েছে উত্তরপ্রদেশে। উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, বিহারের মতো রাজ্য কন্যাভ্রূণ হত্যায় প্রথম সারিতেই রয়েছে। ১৯৯১ সালে প্রতি হাজার ছেলে পিছু কন্যা সন্তান জন্মের অনুপাত দেশে ৯৪৫। ২০১১ সালের জনগণনায় উত্তরপ্রদেশে সেই সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ৯০২। বেআইনি গর্ভপাত এবং কন্যাভ্রূণ হত্যা রুখতে ২০১৭ সালে রাজ্যে ‘মুখবীর যোজনা’ চালু করেছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। এই প্রকল্পে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে কড়া নজর রাখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কন্যাভ্রূণ হত্যা রুখতে লিঙ্গ নির্ধারণ নিবারণ আইন বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে আলোচনাসভা-পদযাত্রা-শিবির সবই হয়েছে। কিন্তু সচেতনতা তিমিরেই।

Comments are closed.