বুধবার, জানুয়ারি ২৯
TheWall
TheWall

২৯৯ টাকায় ১৫ মিনিট অক্সিজেন! দূষণের বিষে ভরেছে বাতাস, তাই বিশুদ্ধ শ্বাস নিতে বারে ছুটছেন দিল্লিবাসী

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মে মাসে আত্মপ্রকাশ করেছিল তারা। নভেম্বর মাসে, শীত পড়ার মুখে তাদের কদর বুঝল সাধারণ মানুষ। সৌজন্য, সহ্যের সীমা পেরিয়ে যাওয়া বায়ুদূষণ। দিল্লির মানুষকে একটু স্বস্তি দিতে রমরম করে চলছে ‘অক্সিজেন বার’। ২৯৯ টাকার বিনিময়ে ১৫ মিনিট ধরে বিশুদ্ধ অক্সিজেন নেওয়ার জন্য এই বারে ভিড় জমাচ্ছেন মানুষ।

এমনিতেই দিনের পর দিন মাত্রাছাড়া দূষণের আখর হয়ে উঠেছে রাজধানী শহরটি। মাস্ক ছাড়া পথে বেরোনোই দায়। চোখ জ্বলছে মানুষের। বাড়ছে হৃদরোগ। পথঘাটে আবছা স্তর পড়ে রয়েছে সব সময়। এমনকি স্কুল-কলেজ বন্ধ করে রাখতে হয়েছে দফায় দফায়। দূষণ ঠেকাতে গাড়ির জোড়-বিজোড় নীতি চালু করেও খুব একটা সুবিধে করে উঠতে পারেননি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

এই পরিস্থিতিতে সাকেত এলাকায় সিটি ওয়াক মলের অক্সিজেন বার ‘অক্সিপিওর’-এ ভরসা রাখছেন দিল্লিবাসী। খোলা জায়গা ছেড়ে, বদ্ধ বারের ভিতরে গিয়ে নাকে নল লাগিয়ে অক্সিজেন টানছেন তাঁরা। দিল্লিতে তো বটেই এই দেশেও এমন বার এই প্রথম। লেমনগ্রাস, অরেঞ্জ, সিনামন, স্পিয়ারমিন্ট, পেপারমিন্ট, ইউক্যালিপ্টাস এবং ল্যাভেন্ডার– এই সাতটি ফ্লেভারে অক্সিজেন টানতে পারবেন মানুষ।

স্টোর অপারেটর অজয় জনসন জানিয়েছেন, প্রতিদিন কাস্টমারের সংখ্যা বাড়ছে। এখানে এসে ১৫ মিনিট বা ৩০ মিনিট ধরে অক্সিজেন নিচ্ছেন তাঁরা। এছাড়া অনেকে পোর্টেবেল অক্সিজেন সিলিন্ডারও কিনছেন, যা সব সময় সঙ্গে নিয়ে ঘোরা যায় এবং যে কোনও জায়গায় ব্যবহার করা যায়।

মানুষকে আকৃষ্ট করতে খুব সুন্দর ভাবে সাজানোও হয়েছে এই বার। ভিতরে সবুজ গাছপালা লাগিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। আরামদায়ক নাতিশীতোষ্ণ পরিবেশে বুক ভরে অক্সিজেন নিচ্ছেন মানুষ।   

অক্সিপিওর কর্তৃপক্ষের তরফে দাবি, বিশুদ্ধ অক্সিজেনের অভাবে শুধু হৃদরোগ বা চোখ জ্বালা করা নয়, শরীরে হাজার সমস্যা দেখা যায়। প্রতিদিন নিয়ম করে বিশুদ্ধ অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারলে শরীরে বাড়তি শক্তি পাওয়া যায়, ভাল ঘুম হয়, ত্বক সুন্দর থাকে, মানসিক অবসাদ কমে, হজম শক্তি বাড়ে। সব মিলিয়ে শরীর ও মন ভালো থাকে।

এই ভয়াবহ দূষণের তাড়নায় বিশুদ্ধ অক্সিজেনের চাহিদা এত বাড়ছে, যে দিল্লি বিমানবন্দরেও একটি বার খোলা হবে বলেও জানানো হয়েছে অক্সিপিওরের তরফে। তথ্য বলছে, কলকাতা-সহ দেশের অন্য শহরগুলিও দূষণের দিক থেকে পিছিয়ে নেই খুব একটা। সেক্ষেত্রে কি অন্য শহরেও এই বার খোলার পরিকল্পনা রয়েছে? সে বিষয়ে এখনই কিছু জানায়নি অক্সিপিওর।

Share.

Comments are closed.