ছদ্ম নামে কংগ্রেসের প্রচার, ৬৮৭টি পেজ ডিলিট করল ফেসবুক

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: চোদ্দর ভোটে সোশ্যাল মিডিয়ায় সাইক্লোন বইয়ে দিয়েছিল বিজেপি। তারপর থেকে প্রায় দেশের সব রাজনৈতিক দলই ডিজিটাল মাধ্যমকে ব্যবহারের জন্য সাধ্য মতো চেষ্টা করেছে। সরকারি ভাবে তো বটেই, বেসরকারি ভাবেও গুচ্ছ গুচ্ছ অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন কায়দায় প্রচার করা রাজনৈতিক দলগুলির আইটি সেলের রোজনামচা। কিন্তু ভোটের ঠিক মুখেই এ ব্যাপারে জোর ধাক্কা খেতে হল কংগ্রেসকে। সোশ্যাল মিডিয়ার অন্যতম বড় প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক থেকে মুছে দেওয়া হল ৬৮৭টি পেজ ও প্রোফাইল।

    ফেসবুকের অন্যতম শীর্ষ অধিকর্তা নাদানিয়েল গ্লেইচার সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “অনভিপ্রেত আচরণের জন্য কংগ্রেসের আইটি সেলের সঙ্গে যুক্ত ৬৮৭টি পেজ এবং প্রোফাইলকে মুছে দিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।” তিনি এও জানিয়েছেন এর মধ্যে ফেক বা স্প্যামের থেকেও সবচেয়ে বেশি যেটা ছিল তা হল বেঠিক ব্যবহার।

    ব্যাপারটা কেমন?

    হয়ত একটি পেজের নাম পরিবেশ সংক্রান্ত। শুরুর দিকে সাধারণ ব্যবহারকারীদের টানতে পরিবেশ সংক্রান্ত লেখা বা ছবি তাতে পোস্ট করা হয়েছে। লাইক বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। কিন্তু হঠাৎ দেখা যায়, ভোটের ঠিক আগে আগেই সেখান থেকে ঘুরিয়ে কংগ্রেসের প্রচার চলছে। কোনও খেলাধূলা সংক্রান্ত পেজ থেকে হয়ত তেড়ে নিন্দা করা হচ্ছে বিজেপি-র। ফেসবুকের ওই অধিকর্তা জানিয়েছেন, “দেখা গিয়েছে পেজের অ্যাডমিন কংগ্রেসের আইটি সেলের সঙ্গে যুক্ত।” অটোমেটিক যে সিস্টেমের মাধ্যমে ফেসবুক এই ‘কারসাজি’ ধরতে পারে, তাতেই অনেক ক্ষেত্রে ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে বলে দাবি গ্লেইচারের।

    ভোটকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে ফেসবুকের বদনাম কম হয়নি। তথ্য গোপনের ক্ষেত্রেও এর আগে দেখা গিয়েছে মার্ক জুকারবার্গের সংস্থার দরজা হাট করে খোলা। ফলে ভারতের সাধারণ নির্বাচনের আগে সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কড়া অবস্থানের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। হোয়াটসঅ্যাপকেও বার্তা পাঠিয়েছিল নয়াদিল্লি। সব মিলিয়ে চাপে পড়েই ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে এই পদক্ষেপ নিতে হয়েছে বলে মত অনেকের।

    কংগ্রেস যদিও জানিয়েছে, দলের কোনও অফিশিয়াল পেজ এর মধ্যে নেই। সর্বভারতীয় কংগ্রেস ছাড়াও সমস্ত প্রদেশ কংগ্রেসের একটি করে ফেসবুক পেজ রয়েছে। দলের শাখা সংগঠনগুলিরও রয়েছে অফিশিয়াল পেজ। সেগুলিও রয়েছে বলে জানিয়েছে কংগ্রেস। অর্থাৎ ছদ্ম অ্যাকাউন্টগুলিকেই ডিলিটের তালিকায় ফেলেছে ফেসবুক। পর্যবেক্ষকদের মতে, একটি নির্দিষ্ট পেজ বা প্রোফাইলকে নির্দিষ্ট সংখ্যায় রিপোর্ট করা হলে সেটার ভিত্তিতেই এ ব্যাপারগুলি ফেসবুকের নিজস্ব সিস্টেম ধরে ফেলে। অনেকে মনে করছেন, বিজেপি আইটি সেলের পক্ষ থেকে সংগঠিত ভাবেই এই কাজ করেছে।

    ভারতে এই মুহূর্তে প্রায় ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০ কোটি। ফেসবুকের হিসেব অনুযায়ী যে ৬৮৭টি পেজ বা প্রোফাইল মুছে দেওয়া হয়েছে, সেগুলি থেকে প্রায় ৩৯ হাজার মার্কিন ডলার (ভারতীয় টাকায় কম বেশি সাড়ে সাতাশ লক্ষ টাকা) খরচ করে বিজ্ঞাপন দেওয়া হত ফেসবুকে। অর্থাৎ একটি পোস্টকে বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ফেসবুক টাকার বিনিময়ে বুস্ট করে। তাতেই খরচ হত এই পরিমাণ টাকা। ডিজিটাল লড়াইয়ে খানিকটা পরে দৌড় শুরু করেও, গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছিল কংগ্রেস। রাজনৈতিক সমালোচকদের অনেকের মতে, কংগ্রেসের সাইবার অস্ত্র ভোঁতা করতেই গণ রিপোর্টের কৌশল নিয়েছিল বিজেপি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More