পুলিশই যখন বিক্ষোভকারী! সহকর্মী মার খাওয়ায় দিল্লি উত্তাল তাঁদের অবস্থানে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন সদর দফতরে কামান দাগা!

    দিল্লি পুলিশের সদর দফতরের সামনে মঙ্গলবার সকাল থেকে ভিড় করতে শুরু করেছিলেন পুলিশ কর্মীরা। কেউ সাদা পোশাকে। কেউ বা উর্দি পরেই। দুপুর থেকে বেনজির পুলিশি বিক্ষোভের সাক্ষী থাকল দিল্লি।

    আইনজীবীদের সঙ্গে পুলিশের গণ্ডগোলের সূত্রপাত। তা নিয়ে উত্তাল হয় রাজধানী। আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয় পুলিশের গাড়িতে। শনিবার ওই ঘটনার পর সোমবার দিল্লির আদালতগুলিতে শুরু হয়ে যায় কর্মবিরতি। আইনজীবীদের বক্তব্য ছিল, পুলিশ গুণ্ডামি করেছে। পাল্টা পুলিশের বক্তব্য ছিল। কালো কোটের অপব্যবহার করে প্রকাশ্যে মাস্তানি করেছেন আইনজীবীরা।

    এই চাপানউতরের মধ্যেই আগুনে ঘি পড়ে সোমবার। একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেখানে দেখা যাচ্ছে দিল্লির রাস্তায় এক পুলিশকর্মীর মোটরসাইকেল আটকে দেন কয়েকজন আইনজীবী। তারপর চলে মারধর। কিল, চড়। ঘুষির পাশাপাশি মারা হয় হেলমেট দিয়েও। ওই ফুটেজে দেখা যায়, কোনওরকমে মোটর সাইকেল ঘুরিয়ে পালাচ্ছেন আক্রান্ত পুলিশকর্মী।

    এদিন নীরব প্রতিবাদে সামিল হয় রাজধানীর পুলিশ। তাঁদের হাতে পোস্টার। যার কোনওটায় লেখা, ‘আমরা দুঃখিত। আমরা পুলিশ। আমাদের কোনও অস্তিত্ব নেই। আমাদের পরিবার নেই। আমাদের কোনও মানবিক অধিকারও নেই।’ অনেকের হাতে প্ল্যাকার্ড, ‘আমরা বিচার চাই।’

    বিচারেরে জন্য যাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকেন সাধারণ মানুষ, তাঁরাই কিনা বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন! দিল্লি পুলিশের প্রাক্তন কর্তারাও তোপ দেগেছেন এই ঘটনায়। অনেকের বক্তব্য বাহিনীতে এখন কোনও যোগ্য নেতাই নেই। নাহলে এই পরিস্থিতি হয় না।  পুলিশের বিক্ষোভ দেখে দফতর থেকে বেরিয়ে আসেন কমিশনার অমূল্য পট্টনায়েক। তিনি আশ্বাস দেন, উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    শনিবার তিস হাজারি কোর্টের বাইরে এক আইনজীবী গাড়ি পার্ক করা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। পুলিশ তাঁকে হেপাজতে নিতে চেষ্টা করে। কয়েকজন আইনজীবী তাঁকে পুলিশের হাত থেকে ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করতে থাকেন। আইনজীবীদের অভিযোগ, তাঁদের হঠানোর জন্য পুলিশ গুলি চালায়। তখনই একটি গাড়িতে আগুন দেয় উত্তেজিত জনতা। ১০ টি দমকলের গাড়ি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    আইনজীবীরা কোর্ট চত্বরে ব্যারিকেড করে রাখেন। ফলে পুলিশ ও সাংবাদিকরা আদালতে ঢুকতে পারছিলেন না। বাইরে থেকে দুষ্কৃতীরা যাতে কোর্ট চত্বরে ঢুকে যাতে গোলমাল না বাধাতে পারে, সেজন্য পুলিশ কয়েকটি গেট বন্ধ করে দেয়। তাতে উত্তেজনা আরও বাড়ে। এখন দেখার রাজধানীর পুলিশ-আইনজীবী যুদ্ধ এর পর কোন দিকে মোড় নেয়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More