চিৎকার থামাতে তরুণীর মুখে ঢালা হয়েছিল মদ! হায়দরাবাদ ধর্ষণ কাণ্ডে গ্রেফতারির পরে সামনে এল ভয়ঙ্কর তথ্য

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল  ব্যুরো: চিৎকার থামাতে মুখে হুইস্কি ঢেলে দিয়েছিল ধর্ষকরা। হায়দরাবাদে তরুণী পশু চিকিৎসক ধর্ষণ কাণ্ডে সামনে এসেছে এমনই ভয়ানক তথ্য। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। জেরায় চার অভিযুক্ত জানিয়েছে, ধর্ষণের পর নিজেদের ট্রাকে করেই ওই চিকিৎসকের দেহ নিয়ে গিয়েছিল তারা। রাস্তাতেই কেনা হয় পেট্রল। তারপর পুড়িয়ে দেওয়া হয় তরুণীর দেহ।

    বৃহস্পতিবার হায়দরাবাদ মূল শহর থেকে কিছুটা দূরে চাতানপল্লির কাছে একটি কালভার্টের নীচে থেকে উদ্ধার হয় ওই তরুণীর দগ্ধ দেহ। প্রকাশ্যে আসে ধর্ষণ করে তরুণী পশু চিকিৎসককে পুড়িয়ে দেওয়ার নৃশংস ঘটনা। ক্ষোভে ফুটতে শুরু করে গোটা দেশ। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও বাড়তে শুরু করে জনরোষ। তরুণীর বাবা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, মেয়ের খোঁজ না পাওয়ায় পুলিশের কাছে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু প্রথমে অভিযোগ নিতে চায়নি পুলিশ। অনেক থানায় ঘুরতে হয় তাঁদের। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পরে অভিযোগ দায়ের করে পুলিশ। নির্যাতিতার বাবার এই অভিযোগের পরেই তদন্তে তিন পুলিশকর্মীর গাফিলতি ধরা পড়ায় তাঁদের সাসপেন্ড করা হয়।

    গ্রেফতার হয় চার অভিযুক্তও। পুলিশ জানিয়েছে এদের মধ্যে রয়েছে জুল্লু নবীন, লরি চালক মহম্মদ আরিফ, জল্লু শিবা এবং চিন্তাকুনটা চেন্নাকেশাভুলু। এদের মধ্যে জুল্লু নবীনই মূল অভিযুক্ত। পুলিশ সূত্রে খবর, তরুণীর চিৎকার থামাতে তাঁর মুখে মদ ঢেলে দিয়েছিল এই জুল্লু নবীনই। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে প্রথমে শাদনগর থানায় রাখা হয়েছিল। থানার সামনে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করেন শয়ে শয়ে মানুষ। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে লাঠি চালায় পুলিশ। এই ঘটনার পরে অভিযুক্তদের শাদনগর থানা থেকে সরিয়ে হায়দরাবাদ জেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন শাদনগর নগর আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট। অন্যদিকে বলা হয়েছে, ফার্স্ট ট্র্যাক কোর্টে শুনানি হবে এই মামলার। রবিবার একথা জানিয়েছেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও।

    চার অভিযুক্তকে জেরা করে শনিবারই আদালতে রিপোর্ট জমা দিয়েছে তেলেঙ্গানা পুলিশ। কীভাবে এই নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছিল ওই ট্রাক চালক এবং তার খালাসিরা, কোন সময় ঠিক কী কী হয়েছিল সবিস্তারে সেইসব তথ্য সমেত রিপোর্ট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী অফিসাররা।

    ঠিক কী কী হয়েছিল সেদিন-

    • বুধবার ২৭ নভেম্বর সন্ধে ৬টা ১৫মিনিট নাগাদ টোল প্লাজার কাছে একটি ট্রাকের পাশে স্কুটি দাঁড়িয়ে করে একজন ডার্মাটলজিস্টের ক্লিনিকে গিয়েছিলেন ওই তরুণী। পুলিশের রিপোর্ট অনুসারে, সেইসময় ট্রাকের ভিতর বসে মদ খাচ্ছিল চার অভিযুক্ত। তরুণী স্কুটি রেখে চলে যাওয়ার পর একজন এসে টায়ার পাংচার করে দেয়।
    • রাত ৯টা ১৫মিনিট নাগাদ তরুণী ফিরে এলে তাঁকে সাহায্যের অছিলায় এগিয়ে আসে চার অভিযুক্তের একজন। সেই সময়েই বিপদ আন্দাজ করে নিজের দিদিকে ফোন করেছিলেন ওই তরুণী পশু চিকিৎসক। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের একজন এসে জানায় কোনও মেকানিক পাওয়া যায়নি, দোকান খোলা নেই।
    • এরপরেই তরুণীকে টেনে হিঁচড়ে ট্রাকের পিছনে পরিত্যক্ত জায়গায় নিয়ে যায় ওই চার জন। চলে অমানবিক অত্যাচার। চিৎকার করলে মুখে ঢেলে দেওয়া হয় মদ। গণধর্ষণে অজ্ঞান হয়ে যান তরুণী। জ্ঞান ফিরলে ফের চেঁচানোর চেষ্টা করেন নির্যাতিতা। তখনই তাঁকে গলা টিপে খুন করে অভিযুক্তরা।
    • এরপর কম্বলে মুড়ে ট্রাকে করে প্রায় ২৭ কিলোমিটার দূরে নিয়ে যাওয়া হয় তরুণীর দেহ। রাস্তাতেই পেট্রল কেনে অভিযুক্তরা। গন্তব্যে পৌঁছে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় তরুণীর দেহ।

    আরও পড়ুন…

    আদালতে প্রকাশ্যে কুপিয়ে মারা হয়েছিল আক্কু যাদবকে, কেটে নেওয়া হয়েছিল পুরুষাঙ্গ! ধর্ষণের বিচারের দাবিতে সেই স্মৃতি ফিরে আসছে সোশ্যাল মিডিয়ায়

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More