গরুদের নিয়ে সাফারি করাবে যোগী সরকার! অনুদান, শীতবস্ত্রের পরে আরও এক গো-রক্ষা প্রস্তাব

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গরুদের সুরক্ষার ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন তারা। সংবেদনশীল তো বটেই। তাই মালিকহীন বা হারিয়ে যাওয়া বেওয়ারিশ গরুদের সুরক্ষায় ও নিরাপত্তায় বিশেষ পদক্ষেপ করতে চলেছে যোগী সরকার। এক বিশাল বড় জায়গায় সমস্ত গরুদের একসঙ্গে রেখে, বাঘ-সাফারি, সিংহ-সাফারি বা হাতি সাফারির মতোই গরু সাফারি চালু করতে চলেছে উত্তরপ্রদেশ।

এ কথা শুনে সমালোচনায় ফেটে পড়েছেন নেটিজেনরা। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের উন্নাওয়ের ঘটনায় ক্ষোভের আগুন জ্বলছে দেশ জুড়ে। পুলিশি পরিসংখ্যান বলছে, ধর্ষণের আখড়া হয়ে উঠেছে এই রাজ্য। নারীসুরক্ষা তলানিতে। প্রতিদিন রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে ধর্ষণ, খুনের খবর আসছে। সে সব নিয়ে এখনও সরকারি ভাবে কোনও পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা যায়নি। কিন্তু তার মধ্যেই গরুদের জন্য পর্যটকদের নিয়ে সাফারির আয়োজন করার কথা ভেবে ফেলেছে সরকার।

আরও পড়ুন: ধর্ষণ হোক, তার পরে দেখা যাবে! তিন মাস ধরে পুলিশের কাছে এমনটাই শুনছেন উন্নাওয়ের অন্য এক নিগৃহীতা

সূত্রের খবর, বেপথু গরুদের নিয়ে ভারী চিন্তা সরকারের। সে জন্যই তাদের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উত্তরপ্রদেশের প্রাণী সম্পদ মন্ত্রককে। প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মী নারায়ণ চৌধুরী বলেন, “গোরক্ষার বিষয়ে বিশেষ সচেতন যোগী সরকার। তাই তাদের বাঁচানো ও সুরক্ষিত করা আমাদেরই দায়িত্ব।”

শুধু তাই নয়, মন্ত্রী জানান, উত্তরপ্রদেশের বড়াবাঁকি ও মহারাজগঞ্জ এলাকায় যে বড় খামার রয়েছে, সেখানে ১৫ থেকে ২০ হাজার গরু রাখা যাবে। সেখানেই পরীক্ষামূলক ভাবে পর্যটকদের এনে সাফারি চালু করার কথা ভােবেছেন তিনি। খামার জুড়ে সাফারি স্থাপন করার পাশাপাশি গোমূত্র ও গোবর কাজে লাগিয়ে বায়ো গ্যাস প্ল্যান্টও তৈরি করার ভাবনা আছে তাঁর।

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রীর বক্তব্য, “গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ানো গেরু নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। আমি তা মুখ্যমন্ত্রীর নজরে এনেছি। এক জায়গায় অনেক গরু রেখে পর্যটনের কথাও ভাবছি। লোকেরা বাঘ, সিংহ, হাতি– এ সব প্রাণীর সাফারি দেখতে যায়। আমরা পর্যটকদের গরু সাফারি দেখার ব্যবস্থা করতে পারি। লোকজন এখানে এসে অনেক গরু দেখতে পাবেন। প্রাথমিক ভাবে পাইলট প্রকল্পের মতোই চলবে গো-সাফারি।”

তবে গরুদের নিয়ে এ ধরনের কাজকর্ম উত্তরপ্রদেশে নতুন নয়। কিছু দিন আগেই শীতে গরুদের কষ্ট হতে পারে বলে ভেবে তাদের জন্য শীতবস্ত্র বানানোর ব্যবস্থা করেছে যোগী সরকার। তার আগে অগস্ট মাসে ‘মুখ্যমন্ত্রী নিরশ্রিত বেসাহারা গোবংশ সাহাবিতা যোজনা’ চালু হয়েছে উত্তরপ্রদেশে। এই প্রকল্পে গরুর জন্য নাগরিকদের কাছ থেকে প্রতিদিন ৩০ টাকা করে অনুদান চাওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: মন্দার আবহে আশা বাড়াল খড়্গপুর আইআইটি, পাঁচ পড়ুয়া পেলেন এক কোটি টাকা বেতনের চাকরির প্রস্তাব

তারও আগে এ বছরের বাজেটে গবাদি পশুদের সমস্যা সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসন ও পৌর নিগমগুলিকে গো আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন যোগী আদিত্যনাথ। এ ছাড়াও গ্রামীণ অঞ্চলে পরিত্যক্ত গরুদের কল্যাণে প্রতিটি কর্পোরেট সংস্থা যেন তাদের সিএসআর তহবিল ব্যবহার করে, সে বিষয়ে নির্দেশ রয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকারের।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে এসব তথ্য সামনে আসার পরে। যে রাজ্যে মহিলাদের ন্যূনতম সুরক্ষা নেই, নেই অন্যায়ের বিচার পাওয়ার অধিকার, সে রাজ্যে গরু নিয়ে এত চিন্তাভাবনা কার্যতই বিরক্তি উৎপাদন করছে সকলের।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More