শুক্রবার, ডিসেম্বর ৬
TheWall
TheWall

দেশকে পিছনে নিয়ে যাচ্ছেন মোদী, ধর্মান্ধতা ও অবিচারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠুন: সনিয়া গান্ধী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার সকালে সুপ্রিম কোর্ট থেকে আর এক প্রস্থ অক্সিজেন পেয়েছে কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকার। কংগ্রেসের জন্য তা মোটেই স্বস্তির নয়। কিন্তু রাজনৈতিক ভাবে এই সংকটের প্রহরেও তাঁর লড়াকু মেজাজে যেন ছটাক মাত্র আঁচ পড়তে দিলেন না কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী। বরং জওহরলাল নেহরু স্মৃতি বক্তৃতার মঞ্চ থেকে ঝাঁঝালো সমালোচনা করলেন গেরুয়া শিবিরের উদ্দেশে। বললেন, দেশের বহুত্ববাদ ও বৈচিত্র্যকে উপেক্ষা করে দেশকে ক্রমাগত পিছনে নিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রে বর্তমান সরকার। গত ৬ বছর ধরে যে ধর্মান্ধতা ও অবিচারের বাতাবরণ তৈরি করা হয়েছে, যে অব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে চলছে সরকারিতন্ত্র তার বিরুদ্ধে সমস্বরে প্রতিবাদ জানানোর সময় আসন্ন।

জওহরলাল নেহরুর ১৩০ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এ দিন নেহরু মিউজিয়াম ও লাইব্রেরিতে ওই অনুষ্ঠানে অন্যতম বক্তা ছিলেন সনিয়াই। কংগ্রেস সভানেত্রী বলেন, নেহরুর দর্শন চারটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত- গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি এবং জোট নিরপেক্ষ বিদেশনীতি। ভারত ও ভারতীয়ত্বের মূল কথাও তাই। কিন্তু এখন যাঁরা ক্ষমতায় রয়েছেন তাঁরা এই সত্যিটা দেখতে পান না। তাঁরা এতোটাই অন্ধ! সনিয়ার কথায়,“নেহরুর ঐতিহ্যকে বহন করে নিয়ে যাওয়ার জন্য জন্য জ্ঞান, বুদ্ধি, মেধা ও ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে যাঁরা শাসক তাঁরা চান শুধু তাঁদের কথাই শোনা হোক। তাঁরা যা ভাবছেন, মানুষও যেন তাই ভাবেন”।

বস্তুত শুধু মোদী সরকার নয়, সনিয়া আসলে আঘাত হানতে চেয়েছেন সঙ্ঘ পরিবারের ঘরানার উপরেও। কংগ্রেস সভানেত্রী বলেন, “ওরা ঐক্য বলতে একটা কথাই বোঝে। সবার জন্য এক নিয়ম। সবকিছুকে এক গতে ফেলে দাও। ভারতের বৈচিত্র্যকে ওরা ভয় পায়, আর সেই কারণেই বহুত্ববাদকেও অস্বীকার করে। অথচ আমাদের বাকস্বাধীনতা ও বেছে নেওয়ার অধিকার সংবিধান সম্মত”।

কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকার গঠনের পর থেকে নেহরুর ঐতিহ্যকে খাটো করে দেখানোর একটা সুচিন্তিত প্রয়াস যে শুরু হয়েছে তা অনেকেই মনে করেন। বিশেষ করে সর্দার বল্লভভাই পটেলের মূর্তি গড়ে তোলা, তাঁর স্মৃতিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করার ইত্যাদির মধ্যে দিয়ে তা বার বারই প্রকট হয়েছে। সনিয়া অবশ্য সে প্রসঙ্গ সরাসরি এ দিন তোলেননি। তবে তিনি বলেন, নেহরুর ঐতিহ্যকে কেউ চাইলে ভুলে যেতেই পারেন। কিন্তু দেশ ও জাতি গঠনের তাঁর অবদান ছিল অসীম। সেই সঙ্গে বলেন, ঐক্য আর উন্নয়নের নামে পৃথিবীতে বহু দেশে গণতন্ত্রকে খাটো করা হয়েছে। তার পর সেখানে স্বৈরাচারী শাসন মাথা তুলেছে। তবে নেহরুই শিখিয়েছেন, এই পরিস্থিতির মোকবিলায় গণতান্ত্রিক পথে থাকাটাই বাঞ্ছনীয়।

Comments are closed.