রবিবার, নভেম্বর ১৮

বিরোধী জোট তৈরি করতে দেবগৌড়ার কাছে চন্দ্রবাবু

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন আগেই দিল্লি গিয়ে দেখা করেছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে। বৃহস্পতিবার তেলুগু দেশম প্রধান চন্দ্রবাবু নাইডু গেলেন বেঙ্গালুরুতে । দেখা করলেন জনতা দল সেকুলারের নেতা এইচ ডি দেবগৌড়া ও তাঁর ছেলে তথা কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামীর সঙ্গে। চন্দ্রবাবুর উদ্দেশ্য একটাই, বিজেপির বিরুদ্ধে আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে যত বেশি সম্ভব দলকে জোটে শামিল করা । সেজন্য ইতিমধ্যে এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার ও ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ফারুক আবদুল্লার সঙ্গেও কথা বলেছেন।

এদিন বিকালে পদ্মনাভ নগরে দেবগৌড়ার বাড়িতে যান চন্দ্রবাবু । সাড়ে তিনটে নাগাদ দেবগৌড়া ও কুমারস্বামীর সঙ্গে চন্দ্রবাবুর বৈঠক শুরু হয় । তার পরে সাংবাদিক বৈঠকে তিন নেতা বলেন, গণতন্ত্র বাঁচাতে এখন সব বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে । রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া এবং সিবিআইয়ের মতো জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলি এখন বিপন্ন । সিবিআইকে স্বশাসিত সংস্থা হিসাবে গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু এখন বিরোধীদের জব্দ করার জন্য ওই সংস্থাটিকে ব্যবহার করা হচ্ছে । নোটবন্দির নিন্দা করে তাঁরা বলেন, ওই সিদ্ধান্তের জন্য দেশের অর্থনীতির বিকাশ হয়ে পড়েছে ধীর ।

কুমারস্বামী বলেন, আমি নিশ্চিত, ১৯৯৬ সালের ভোটে যা হয়েছিল, তারই পুনরাবৃত্তি হবে ২০১৯ সালে । ’৯৬ সালে বিভিন্ন আঞ্চলিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে কেন্দ্রে কংগ্রেস সরকারের পতন ঘটিয়েছিল । দেবগৌড়া হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী । কুমারস্বামী সেকথাই বলতে চেয়েছেন।

কিছুদিন আগে কর্ণাটকে তিনটি লোকসভা ও দুটি বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে ভালো ফল করেছে কংগ্রেস এবং জে ডি এসের জোট। মঙ্গলবার কুমারস্বামী এমন কথাও বলেছিলেন, আগামী দিনে বিরোধী জোটে নেতৃত্ব দেবেন রাহুল ।

চন্দ্রবাবু কিন্তু এদিন নির্দিষ্ট করে বলতে চাননি কে হবেন জোটের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী । এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জোটের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে আমি এখনই আগ্রহী নই। আমি চাই গণতন্ত্র বাঁচাতে । কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, পরে ঠিক করা যাবে ।

কুমারস্বামীও এদিন বলেন, বিভিন্ন আঞ্চলিক দলে যে নেতারা রয়েছেন, তাঁদের অনেকেই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার উপযুক্ত । কে প্রধানমন্ত্রী হবেন পরে ঠিক করা যাবে । আপাতত বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ করাই প্রধান কাজ।

তিনি ঘোষণা করেন, আগামী দিনে বিরোধী নেতাদের বৈঠকে আহ্বান করবেন । তাঁর মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার সময় যে নেতারা এসেছিলেন, তাঁরা আবার আসবেন । ডিসেম্বরের শেষে অথবা জানুয়ারির শুরুতে হবে মিটিং ।

Shares

Comments are closed.