মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৫

জলে প্রচণ্ড ঘূর্ণি, যখন-তখন আসছে বান! বেআইনি ফেরি চলাচল নিয়ে সতর্কবার্তা নবান্নের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রূপনারায়ণের পরে বৃহস্পতিবার মালদহের চাঁচল-১ নম্বর ব্লকে মহানন্দায় নৌকাডুবির ঘটনায় নড়েচড়ে বসল সরকার। বেআইনি ঘাটগুলি থেকে যাতে সাধারণ মানুষ নৌকা পারাপার না করেন, নবান্নের তরফে নির্দেশিকা জারি করে সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই বেআইনি ফেরি সার্ভিস রুখতে জেলা প্রশাসনগুলিকে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “জলে এখন প্রচণ্ড ঘূর্ণি। এবং যখন-তখন বান চলে আসছে। ফলে যে কোনও মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আর এই বেআইনি ফেরি পারাপারে যাত্রী সুরক্ষায় ন্যূনতম ব্যবস্থা থাকে না। চাঁচলেও দেখা গিয়েছে, লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা ছিল না।” বিজ্ঞাপন দিয়ে সরকারের তরফে বলা হয়েছে, এই দুর্ঘটনা এড়াতে মানুষের সচেতনতা প্রয়োজন। একটি লঞ্চ বা নৌকার কতটা বহন ক্ষমতা তা জেনে যেন যাত্রী তাতে ওঠেন সেই আবেদনও করা হয়েছে সরকারের তরফে।

মালদহের চাঁচলে নৌকাডুবিতে মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ। বৃহস্পতিবার জগন্নাথধাম ঘাট থেকে উত্তর দিনাজপুরে মুকুন্দপুরে যাচ্ছিল নৌকাটি। বহন ক্ষমতা ৩০ জনের হলেও নৌকাটিতে সওয়ার ছিলেন ৭০ জন যাত্রী। অতিরিক্ত যাত্রী হওয়ার ফলেই এই দুর্ঘটনা ঘটে।

গতকাল জগন্নাথধাম ঘাটে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর যাত্রীরা, ইটাহারের বাইচ প্রতিযোগিতা দেখতে যাচ্ছিলেন। ঘাটে উপস্থিত ছিলেন চাঁচোল থানার আইসি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আইসি বারবার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে নৌকা চলাচলে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু, তাঁকে অগ্রাহ্য করেই যাত্রী নিয়ে এগিয়ে যায় নৌকাটি।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান মালদহের জেলাশাসক কৌশিক ভট্টাচার্য। যান তৃণমূল নেত্রী মৌসম বেনজির নুর। নিখোঁজ যাত্রীদের খোঁজে সন্ধেয় ডুবুরি নামানো হয়েছিল। রাতে তল্লাশি বন্ধ থাকে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরন দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। নৌকার মালিকের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই এফআইআর করেছে প্রশাসন।

Comments are closed.