অমিত শাহ-র ব্যাপারে কি হঠাৎ নরম মমতা? এনআরসি সম্মেলনে নেতাজি ইনডোর দিতে রাজি নবান্ন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র কয়েক মাস আগের কথা মনে পড়ে? লোকসভা ভোটের আগে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ প্রচার করতে আসবেন বাংলায়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপি সভাপতি বারবার অভিযোগ করছেন, তাঁদের হেলিকপ্টার নামার অনুমতি দিচ্ছেন না জেলা শাসক। কোথাও বা আবার সভা করার জন্য মাঠ পাচ্ছেন না অমিত শাহ। সবেতেই রাজ্য প্রশাসন বাগড়া দিচ্ছেন বলে অভিযোগ।

    তার পর হঠাৎ কী হল, কে জানে! লোকসভা ভোটের পর এই প্রথম ১ অক্টোবর কলকাতা সফরে আসছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। তিনি সে দিন শহরে জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ তথা এনআরসি নিয়ে সম্মেলন করবেন। সে জন্য নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়াম বিজেপি-কে ভাড়া দিতে রাজি হয়ে গেল রাজ্য সরকার।

    তাৎপর্যপূর্ণ হল, অমিত শাহ এমন বিষয় নিয়ে সম্মেলন করবেন যে ব্যাপারে তৃণমূল ঘোর বিরোধী। বাংলায় এনআরসি হতে দেবেন না বলে এরই মধ্যে কয়েক বার হুমকি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    বস্তুত কয়েক বছরের ঘটনা পরম্পরাই জানাচ্ছে, কলকাতায় কোনও সভা করার জন্য রাজ্য সরকার, কলকাতা পুরসভা বা তৃণমূলের দখলে থাকা কোনও ট্রাস্টি বোর্ডের সভাগৃহ আবেদন করেও পায়নি বিজেপি। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে থাকা সায়েন্স সিটি প্রেক্ষাগৃহ বা আইসিসিআর সভাঘরই ছিল দিলীপ ঘোষেদের ভরসা। এমনকি গত বছর আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের নেতৃত্বে সম্মেলনের জন্য নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়াম ও পরে মহাজাতি সদন চেয়েও পায়নি সঙ্ঘ পরিবার। কখনও বলা হয়েছে ওখানে পূর্ব নির্ধারিত অনুষ্ঠান রয়েছে বা মেরামতির কাজ চলবে।

    স্বাভাবিক ভাবেই এ বার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়াম বিজেপি-কে এক কথায় ব্যবহার করতে দিতে নবান্ন রাজি হওয়ায় অনেকেই ভ্রুঁ কুঁচকেছেন। এমনকী তৃণমূলের মধ্যেও একাংশ নেতা কর্মী এতে কিছুটা বিভ্রান্ত। তাঁরা অনেকে সন্দেহ করছেন, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নয়াদিল্লি সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত পরই এই পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তা হলে কি কোনওরকম সমঝোতার চেষ্টা হচ্ছে? এতে তৃণমূলের বিজেপি বিরোধিতার ধার ভোঁতা হয়ে যাবে না তো!

    তৃণমূলের মধ্যে বিভ্রান্তি এখানেই থেমে নেই। এক দিকে নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে যখন অমিত শাহ-কে সভা করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে তখন দেখা যাচ্ছে তৃণমূলের পেশাদার পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোর নরেন্দ্র মোদীর কৌশলের প্রশংসা করছেন। তা দেখে দলের কেউ কেউ আবার বলছেন, সেতু বাঁধার কাজটি কি তা হলেই উনিই করছেন!

    এ ব্যাপারে তৃণমূল অবশ্য দলীয় তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। দলের নেতারা ঘরোয়া আলোচনায় বলছেন, সভা করার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল, তা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি নেতাদের প্রশ্ন করলে তাঁরা মুচকি হাসছেন। বলছেন, আগে কেন অনুমতি দেওয়া হত না, আর এখন কেন অনুমতি দেওয়া হচ্ছে তার কারণ রাজ্য সরকারই ভাল ব্যাখ্যা করতে পারবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More