‘মাটি’ আমার ভিতরে আটকে থাকা কান্নাটা থেকে হয়তো আমাকে মুক্তি দেবে  

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    ‘মাটি’ মুক্তি পাচ্ছে শুক্রবার, ১৩ জুলাই। তার আগে ছবিটির অন্যতম পরিচালক  লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথোপকথনে শর্মিষ্ঠা গোস্বামী নিধারিয়া। তার সঙ্গে জুড়ে গেল ধারাবাহিক নিয়ে চর্চাও। 

    লীনা গঙ্গোপাধ্যায়

    ‘মাটি’ নামটা থেকে একটা সোঁদা গন্ধ আর অনেকটা ইতিহাস উঠে আসে। মাটি ছবিটাও কি তাই?

    লীনা – মাটি দেশভাগ ও দুটি পরিবারের গল্প। কিন্তু এই গল্পটা হয়তো সে ভাবে কখনও বলা হয়নি, হয়তো অনেকের মধ্যে আছে, অনেকে বলতে চেয়েছে, অনেক মানুষ সেটা ক্যারি করছে।

    আপনিও ক্যারি করেছেন, বলতে চেয়েছেন। প্রথম কবে সেটা মনে হলো যে গল্পটা বলি?

    লীনা – বছর কুড়ি আগে। যখন আমি আমার পিতৃভূমি দেখতে গিয়েছিলাম। অদ্ভুত ছিল জার্নিটা। বিশেষ করে সেই সফরের শেষ অংশটা। সকাল থেকে সন্ধে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছিল অনন্ত। মানিকগঞ্জ থেকে আমার পিতৃপুরুষের গ্রাম ঝিটকায়। কত গ্রাম, নদী, গাং পেরিয়ে সেই যাত্রা। আমাদের ভাদুড়ি বাড়ির ইতিহাস দেশ ভাগের ইতিহাসের সঙ্গে, এলাকার জনজীবনের সঙ্গে মিলেমিশে আছে। এবং ভাদুড়ি বাড়ি বলেই কিন্তু সেই দিন আমাদের বাড়িটাকে খুঁজে পেয়েছিলাম আমি

    দেখুন সাক্ষাৎকারের ভিডিও

    গল্পটার মধ্যে কোথাও একটা কান্না লুকিয়ে আছে, আপনি বলেছেন..

    লীনা – আছে। সেটা সবটা মিলিয়ে। আসলে আমাদের পরিবারের ইতিহাসে একটা দুঃসংবাদ ছিল। আমাদের পরিবারের একজনকে খুন করা হয়েছিল। তিনি কিছুতেই মাটি ছেড়ে আসতে রাজি হননি। তিনি বলেছিলেন কেন আমি আমার স্বজন ছেড়ে যাব, আমার গাইবাছুর, মুনিশ, পুকুর, গাছপালা ছেড়ে যাব। আমি তো এখানকার আকাশে বাতাসেই বেড়ে উঠলাম। কেন আমাকে আমার মাটি ছেড়ে চলে যেতে হবে! আমিও সেই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে চেষ্টা করেছি। গল্প একটা লিখেছিলাম এটা নিয়ে। কিন্তু আরও বৃহৎ পরিসর চেয়েছিলাম। সেই কারণেই শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়, শীর্ষ রায় ও দেবজ্যোতি মিশ্র ও আমার এই একসঙ্গে আসা।

    এ বার হয়তো আমার ভিতরের কান্নাটা থামবে।

    আপনার সিরিয়ালের নামগুলো খুব সুন্দর হয়, ইস্টিকুটুম, জলনুপুর, কুসুমদোলা । কী রকম একটা ওল্ড ওয়ার্ল্ড চার্ম থাকে।

    লীনা – আমার বরাবরই বাংলার হারিয়ে যেতে বসা শব্দ, পুরনো রাস্তা, পুরনো ঐতিহ্য এ সবের প্রতি আকর্ষণ আছে। সেই জায়গা থেকেই হয়তো আমার সিরিয়ালে বারবার এই ধরনের নামগুলো উঠে আসে।

    আপনি রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন। আর আপনার পরমেশ্বরী সিরিয়ালে বার বার করে মেয়েদের এমপাওয়ারমেন্ট-এর ব্যাপারটা দেখতে পাচ্ছি। এই দুটোর মধ্যে কি কোনও যোগ আছে?

    লীনা – হয়তো আছে। চেয়ারপার্সন-এর প্রশাসনিক কাজের সঙ্গে আমার সৃষ্টিশীল কাজের কোথাও একটা গভীর যোগাযোগ আছে। মেয়েরা একটা কমফর্ট জ়োনে বসে, টিভির সামনে বসেও যদি উত্তরণের এই বার্তাটা পায়, এই বার্তাটা পৌঁছতে পারি, সেটাই সার্থকতা। যদি সকলের দেখার চোখ বদলায়। বরের টাকায় খাচ্ছ, অতএব তোমার স্বাধীনতা, আত্মসম্মানবোধ সব সে কিনে রেখে দিয়েছে। এই ভাবনা থেকে মুক্তির একটা রাস্তা। বিশেষ করে প্রান্তিক মেয়েদের জন্য, টিভি তো আজকাল সবাই দেখে। আমি অনেক সময় মেয়েদের কাছ থেকেই শুনি, জানেন তো দিদি, আজকাল আমার বর বা শ্বশুর অন্যায় কথা বললে চুপ করে থাকি না। দুটো কথা শুনিয়ে দিই। জানেন, আপনার পরমেশ্বরী যখন হয়, আমার শ্বশুর-ভাসুরও সোজা হয়ে বসে দেখে।

    আপনার ধারাবাহিকের মেয়েদের সাজ মেগাসিরিয়ালে সাজের ধারণায় একটা বিরাট পরিবর্তন এনেছে। তাঁত, লিনেনের ব্যবহার, ডোকরা মাটির গয়না। সেই আবার মাটির গন্ধ..

    লীনা – হ্যাঁ, আমি এটা সচেতন ভাবে করেছি। আমি প্রান্তিক সমাজের সাজকে মেলাতে চেয়েছি মূলস্রোতের সঙ্গে। নান্দনিকতায়, রুচিবোধে বদল আনতে চেয়েছি। কিছুটা পেরেছিও। সাজ বদলেছে প্রবাসে, এখানেও। সাজের অভিমুখ, সাজের চোখ ফিরেছে সেই মাটির দিকে।

     

     

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More