মুসলিমদের পাকিস্তানে পাঠিয়ে হিন্দুদের এদেশে আনা উচিত ছিল! ফের বিতর্কিত মন্তব্য গিরিরাজের

সিএএ বিরোধিতার নামে ভারতবিরোধী কর্মসূচি চলছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরিস্থিতি যাই হোক, তিনি যেন বিতর্কিত মন্তব্য করবেনই। মোদীর মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে বারবারই তাঁর নাম এই কারণে প্রথম সারিতে এসেছে। এবার তিনি বলে বসলেন ১৯৪৭ সালের আগেই এ দেশের সমস্ত মুসলিমকে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত ছিল। গিরিরাজ সিং-এর এই মন্তব্যে স্বাভাবিক ভাবেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে সব মহলে।

    কিছুদিন আগেই গিরিরাজ সিং মন্তব্য করেছিলেন, এ দেশের তরুণ-তরুণীরা বিদেশে পড়তে গিয়ে গোমাংস খাচ্ছেন। সেই ‘অনাচার’ রুখতে গীতাপাঠের নিদান দিয়েছিলেন তিনি। কয়েক দিন আগে বললেন, শাহিনবাগ আন্দোলন স্থলে আত্মঘাতী জঙ্গিদের জন্ম হচ্ছে। এবার তাঁর সাম্প্রতিকতম মন্তব্যে আরও স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ল মুসলিম-বিদ্বেষ।

    বৃহস্পতিবার একটি অনুষ্ঠানে নাগরিকত্ব আইন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে গিরিরাজ বলেন,”আমাদের পূর্বপুরুষরা একটি বড় ভুল করেছেন। কারণ, ১৯৪৭ সালের আগে আমাদের পূর্বপুরুষরা স্বাধীনতার জন্য যখন লড়াই করে যাচ্ছিলেন, জিন্নাহ তখন দেশকে একটি ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত করার পরিকল্পনা করছিলেন। সে সময়েই যদি মুসলিম ভাইদের পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া হতো এবং সব হিন্দুকে এখানে নিয়ে আসা হত, তবে আজকের দিনটি দেখতে হত না।”

    তিনি আরও বলেন, ভারতের হিন্দু জনগণ যদি ভারতেই আশ্রয় না পান, তবে পৃথিবীতে কোন দেশই বা তাদের আশ্রয় দেবে?” এখানেই শেষ নয়। গিরিরাজ সিং বলেন, “সিএএ বিরোধিতার নামে ভারতবিরোধী কর্মসূচি চলছে। কংগ্রেস, জেডিইউ এবং কমিউনিস্টরা পাকিস্তানের মতো ভাষায় কথা বলছে। শাহিনবাগে দাঁড়িয়ে শারজিল ইমাম যখন বলেন যে তিনি একটি ইসলামী রাষ্ট্র তৈরি করবেন এবং ভারতের গলা কেটে ফেলবেন, তখন এটা আর গণতান্ত্রিক আন্দোলন থাকে না, এটা খিলাফৎ আন্দোলনে পরিণত হয়।”

    সিএএ-র পরে এনপিআর নিয়েও মুখ খোলেন তিনি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “আধার কার্ডের সময়ে যা যা তথ্য চাওয়া হয়েছিল, এনপিআর-এর সময়েও তাই চাওয়া হচ্ছে। তবু এপিআর-এৎ বিরোধিতা চলছে। আদতে দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে দেশের ভিতরেই। সরকার এখনও পর্যন্ত তার সমস্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে, তবু কানহাইয়া কুমারের মতো নেতারা বলছেন, সরকারি ব্যর্থতা থেকে দৃষ্টি ঘোরাতে নাগরিকত্ব আইন আনা হয়েছে।”

    গিরিরাজ সিংয়ের এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অবশ্য পাল্টা জবাব দিয়েছেন কানহাইয়া কুমারও। তিনি বলেছেন, “উনি সবাইকেই পাকিস্তানে পাঠানোর কথা বলন। ওঁর পশুপালন মন্ত্রী না হয়ে ভিসামন্ত্রী হওয়া উচিত ছিল, লাহোরে পর্যটন কেন্দ্র খুলতে পারতেন উনি। পাকিস্তান ছাড়া ওঁর মুখে আর কোনও কথাই নেই।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More