জীবন জুড়ে ধাক্কা, তবু অটো নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন ‘দাবাং’ মহিলা চালক! কুর্নিশ জানাচ্ছে নেট-দুনিয়া

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোঁড়া, দরিদ্র এক মুসলিম পরিবারে জন্মেছিলেন শিরিন। কিন্তু কখনও ভাবেননি, এমন ভাবে জীবনের মোড় ঘুরে যাবে, যে তাঁকে রোজগারের জন্য অটোচালক হিসেবে কাজে নামতে হবে শহরের পথে। সরাতে হবে ধর্মীয় আব্রু, ভাঙতে হবে সামাজিক ট্যাবু, এমনকী ত্যাগ করতে হবে পারিবারিক পদবীটিও! সম্প্রতি তাঁর লড়াইয়ের কথা প্রকাশিত হয়েছে ফেসবুকের একটি পেজে। তার পরেই শিরিনকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন হাজার হাজার নেটিজেন।

    ছোটবেলায় খুব কাছ থেকে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ দেখেছিলেন শিরিন। অসম্ভব তিক্ত, দুঃসহ এক পর্ব পার করেছিল ১১ বছরের ছোট্ট মেয়েটি। এর পরে তাঁর মা ফের বিয়ে করেন এবং প্রবল ভাবে সামাজিক লজ্জার শিকার হন। রেহাই পায়নি ছোট্ট শিরিনও। মানুষজনের ক্রমাগত ব্যঙ্গ-বিদ্রুপে প্রায় আত্মহত্যা করার মতো অবস্থা হয় শিরিনের। কিন্তু শিরিন সামলাতে পারলেও, তাঁর মা পারেননি। প্রতিবেশী-পরিবারের তীব্র অপমানে আত্মঘাতী হন শিরিনের মা।

    এই ঘটনার কিছু দিন পরেই বিয়ে হয় শিরিনের। এবং তার আর কয়েক দিন পরে মারা যান শিরিনের প্রাণের চেয়ে প্রিয়, তাঁর যমজ বোন। “আমার সব কিছু শূন্য হয়ে গেছিল। বেঁচে থাকার কোনও মানে ছিল না আর। আমি টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে গিয়েছিলাম, মা আর বোনকে হারিয়ে। আমিও হয়তো আত্মহত্যাই করতাম। কিন্তু তত দিনে আমার পেটে বেড়ে উঠছে আমার সন্তান। ওর কথা ভেবে, আমার আবার উঠে দাঁড়ানো ছাড়া আর কিছু করার ছিল না।”

    মায়ের সঙ্গে শিরিন ও তাঁর যমজ বোন।

    কিন্তু সেই দফা জীবনের গতি খানিক অনুকূল হলেও, কয়েক বছর পরে ফের বিপর্যয়। তৃতীয় সন্তানের জন্ম দেওয়ার পরে, শিরিনের দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করলেন তাঁর স্বামী। “তিনটে ছোট ছোট সন্তান নিয়ে এক কাপড়ে বাড়ি ছাড়তে হল। সঙ্গে কিচ্ছু নেই। বাড়ি যাওয়ার পথও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল মা চলে যাওয়ার পরে। পথে নামলাম। আমি বুঝতে পেরেছিলাম, এই পথেই বাঁচতে হবে আমায়। কী ভাবে বাঁচব, সেটা আমায় ঠিক করতে হবে।”

    নানা রকম চেষ্টা করতে করতে, অটো চালানোটা শিখে ফেলেন শিরিন। এবং ঠিক করেন, এই কাজ করেই তিন সন্তানের অন্ন সংস্থান করবেন। কিন্তু পেশায় নামতে গিয়ে বোঝেন, শুধু ভাল অটো চালাতে পারাটাই এই পেশায় আসার একমাত্র যোগ্যতা নয়। এই পেশার অলিখিত নিয়ম, চালককে ‘পুরুষ’ হবে!

    তিন সন্তানের সঙ্গে শিরিন।

    “আমি খুবই ভাল চালাতে শিখেছিলাম, রোজগারও করছিলাম ভাল। কিন্তু প্রচুর মানুষ প্রচুর নানা ভাবে হেনস্থা করেছে। অমান করেছে, নিচু করেছে। শুধু আমি একটি মেয়ে বলে সকলের কাছে টিটকিরির পাত্রী হয়ে থেকে গেছি। কিন্তু এক দিন, এক সহযাত্রীর কথা আমায় বদলে দিল। আমায় উনি বলেছিলেন, কোনও কিছুর পরোয়া না করে এগিয়ে যেতে। আমার জীবনের লড়াই শুনে আমার নাম দিয়েছিলেন, ‘দাবাং’ অর্থাৎ নির্ভীক।”– বলেন শিরিন।

    পড়ুন শিরিনকে নিয়ে ফেসবুকে প্রকাশিত সেই ভাইরাল পোস্টটি।

    *TRIGGER WARNING*“I was born into a conservative and poor Muslim family. By the time I was 11, my parents started…

    Humans of Bombay এতে পোস্ট করেছেন সোমবার, 8 জুলাই, 2019

    শিরিন জানান, সেই প্রথম আত্মবিশ্বাস ফিরে পেলেন তিনি। নিজেকে চিনতে পারলেন অন্য ভাবে। এখন তিনি অন্য মহিলাদেরও বলেন, “আমি দাবাং হতে পারলে তোমরাও পারবে!” তাঁর জীবনের গল্প সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হতেই অভিনন্দন ও প্রশংসার জোয়ারে ভরে গেছেন ‘দাবাং’ অটোচালক। সকলেই তাঁর সাহস ও জেদকে কুর্নিশ জানিয়েছেন, শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আগামীর।

    আরও পড়ুন…

    জুতো হোক বা জীবন, সেলাই করে ঠিক জুড়ে ফেলতে পারেন বিদর্ভের ‘চামার’ বৃদ্ধা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More