বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৯

নিজের অস্ত্রেই ঘায়েল মুকুল

দ্য ওয়াল ব্যুরো:  কাঁচড়াপাড়া ষ্টেশনে নেমে একটা ভ্যান কিংবা অটো। চালককে বলতে হবে গয়েশপুর যাব। কিছুটা যাওয়ার পর আপনাকে একটা বড় নর্দমার কালভার্ট পেরোতে হবে। ব্যাস! ওটাই সীমানা। উওর চব্বিশ পরগনা থেকে আপনি ঢুকে গেলেন নদিয়ায়।

কাঁচড়াপাড়া যদি মুকুল রায়ের ঘরের মাঠ হয় তাহলে নদিয়া ছিল সিপিএম-এর প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক প্রয়াত অনিল বিশ্বাসের মাটি। গয়েশপুরের ওই কালভার্টের নিচ দিয়ে গত এক দশকে বয়ে গিয়েছে গ্যালন গ্যালন জল। অনিল বিশ্বাসের জীবনাবসান ঘটেছে। এ বাংলায় প্রায় দেহ রাখার অবস্থা তাঁর পার্টিরও। এরই মাঝে অনিল বিশ্বাসের সুযোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে মুকুল তৃণমূলের সংগঠন সামলেছেন। নিশ্চুপে করে গিয়েছেন ভোট ম্যানেজারের কাজ। এখন তিনি বিজেপিতে। কিন্তু এই পঞ্চায়েত ভোটে মুকুল রায় হাড়ে হাড়ে টের পেলেন তাঁর বিদ্যা দিয়েই তাঁকে ঘায়েল করল তৃণমূল কংগ্রেস।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে মনোনয়ন থেকে গণনাকেন্দ্রে তৃণমূল যা যা করেছে তা সবটাই মুকুলের হাত ধরে শেখা। কথায় বলে স্রষ্টা ‘দিকভ্রান্ত’ হলেও সৃষ্টি থেকে যায়। মুকুল রায় এখন জোড়াফুল থেকে পদ্ম শিবিরে। কিন্তু তৃণমূলের অনেকে তাঁর শেখানো বিদ্যাতেই পিএইচডি করে ফেলেছে। ফলাফলে  এ দিক থেকে ও দিক হলে গণনা কেন্দ্রে গুলিয়ে দেওয়ার ব্লু-প্রিন্ট নাকি মুকুলেরই মস্তিষ্ক প্রসূত। ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটে নদীয়া জেলা পরিষদ দখল ইতিহাসে লেখা আছে বলে মনে করেন অনেকেই। কারণ হারা জেলা পরিষদ তৃণমূল জিতে নিয়েছিল শুধু গণনা কেন্দ্রে গুলিয়ে দেওয়ার মুকুল ম্যাজিকেই। আর এ বার এখনকার মুকুল রায়ের পার্টি বিজেপি অনেক জায়গায় জিতেও জিততে পারল না ওই একই কায়দায়। মুকুল দল বদলেছেন ঠিকই কিন্তু তৃণমূল ভোলেনি মুকুলীয় শিক্ষা। ফলে আজ নব্য বিজেপি মুকুল রায় অভিযোগ করেছেন গণনা কেন্দ্রে সন্ত্রাস চালাচ্ছে তৃণমূল। গুলি বোমা নিয়ে ভয় দেখাচ্ছে, মানুষ মারছে, গণনা কেন্দ্রে বসে ছাপ্পাও মারছে।

তবে মুকুল রায় কি নিজে কোনও কেরামতি দেখালেন না? তৃণমূলের সন্দেহ নির্বাচনের দিন বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি কর্মীরা যে ব্যালট নিয়ে হরির লুটের বাতাসার মতো ওড়ালেন বা জল ঢেলে দিলেন বা আগুন লাগালেন এ সবই হতে পারে মুকুলের শেখানো।

Leave A Reply