বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৫

#Breaking: বিধায়ক খুনে এফআইআর-এ নাম, হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন মুকুলের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনের ঘটনায় এফআইআর-এ নাম রয়েছে বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের। সেই মামলাতেই আগাম জামিনের আবেদন নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে গেলেন একদা তৃণমূলের সেকেন্ড ম্যান।

মুকুল রায়ের অভিযোগ, তৃণমূল ভয় পেয়েছে। তাই লোকসভা ভোটের আগে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পোরার চেষ্টা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অতীতে সিপিএম নেতা কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়কে এ ভাবে একবার ফাঁসানোর চেষ্টা হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি।

২০১৭ সালের নভেম্বরে তৃণমূল ছাড়েন মুকুলবাবু। তারপর রাজ্যের বিভিন্ন থানা এলাকায় মুকুলের বিরুদ্ধে ২৫ টি মামলা দায়ের করা হয়। যার মধ্যে ১২টি মামলা খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। যার সবকটিই চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা মামলা। তারপর একই ধরনের আরও সাতটি মামলা দায়ের করা হয় মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে। আগামী বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি হতে পারে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে।

শনিবার রাতে সরস্বতী পুজোর অনুষ্ঠানে গিয়ে খুন হন বিধায়ক তথা নদিয়া জেলা যুব তৃণমূল সভাপতি সত্যজিৎ বিশ্বাস। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাঁকে নিয়ে যান শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে। তরুণ নেতার নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে নদিয়া জেলা তৃণমূলের সভাপতি গৌরীশঙ্কর দত্ত বলেন, “এরপর নদিয়া জেলায় মুকুল রায় ঢোকার সাহস দেখালে তার পরিণাম ভয়ঙ্কর হবে।” একই ভাবে মুকুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি তথা নদিয়ার অন্যতম পর্যবেক্ষক অনুব্রত মণ্ডল। সোমবার হাঁসখালিতে সত্যজিতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে নাম না করে মুকুলের বিরুদ্ধেই অভিযোগ করেন যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, “যদি কেউ ভাবে দিল্লির নেতাদের পাজামা ধরে ঝুলে পার পেয়ে যাবে, তাহলে সে মূর্খের স্বর্গে বাস করছে। পুলিশমন্ত্রীর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলার ধরে শ্রীঘরে ঢোকাব।”

যদিও ঘটনার পরের দিন অর্থাৎ রবিবারই বিজেপি নেতা মুকুল রায় সাংবাদিক বৈঠক করে খুনে মদত দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকারে করে বলেছিলেন, “চাইলে অন্ধ্রপ্রদেশের পুলিশ দিয়ে তদন্ত করাতে পারে।” বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, গোষ্ঠী কোন্দলেই খুন হয়েছেন সত্যজিত। মুকুল রায়কে এই মামলায় জড়িয়ে রাজনৈতিক প্রতিহংসা চরিতার্থ করতে চাইছে বলেও মত গেরুয়া শিবিরের নেতাদের। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে রবিবার রাতেই কলকাতা ছেড়ে দিল্লি চলে যান মুকুলবাবু।

রাজনৈতিক শিবিরের মতে, মুকুলবাবু হয়তো আশঙ্কা করছিলেন তিনি আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার আগেই তাঁকে গ্রেফতার করে নিতে পারে রাজ্য পুলিশ। তাই আগেই দিল্লি চলে যান। হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পেলেই তিনি হয়তো কলকাতায় ফিরে আসবেন।

কেন্দ্রীয় বিজেপি মুকুলবাবুকে নির্বাচনী কমিটির আহ্বায়ক করেছে। গেরুয়া শিবিরের নেতাদের মতে, মুকুলবাবু ভোটটা যে ভাবে বোঝেন তা অনেকেই বোঝেন না। তাই তাঁদের আশঙ্কা, ভোটের আগে মুকুল রায়ের নড়াচড়া থামিয়ে দিতেই সত্যজিৎ খুনে প্রাক্তন রেলমন্ত্রীর নাম জড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল। এক বিজেপি নেতার কথায়, “মানস ভুইঞাঁকেও কংগ্রেসে থাকার সময় সবং-এ তৃণমূল কর্মী খুনে জড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। তারপর শিবির বদলাতেই সেই মামলা থেকে তাঁর নাম বাদ চলে যায়। মুকুল রায়ের ক্ষেত্রেও একই স্টাইল নিয়েছে বাংলার শাসকদল।”

Comments are closed.