সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬

১৩ হাজার কোটির বিদ্যুৎ কেলেঙ্কারি, মুকুলের নয়া তোপ মমতাকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা নির্বাচনের মধ্যেই নতুন ইস্যুতে রাজ্য সরকার তথা তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণের নিশানা করল রাজ্য বিজেপি। সিইএসসি (ক্যালকাটা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কর্পোরেশন)-র বিরুদ্ধে গ্রাহকদের থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ মাসুল নেওয়ার অভিযোগ তুললেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। তাঁর দাবি, এর পিছনে শাসক দল ও রাজ্য সরকারের হাত রয়েছে। গোটা বিষয়টির তদন্ত হওয়া উচিত।

মুকুল রায় এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করেন, ২০১০ সালে সিইএসসি বিদ্যুতের মাসুল বাড়াতে চাইলেও রাজি হয়নি তৎকালীর রাজ্য সরকার। কিন্তু পরিবর্তনের সরকার আসার পর থেকেই লাগামছাড়া হারে বেড়েছে ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের দাম। আর এর মাধ্যমে সিইএসসি গ্রাহকদের টাকা লুট করেছে। মুকুল রায় বলেন, ৩২ হাজার গ্রাহকের প্রত্যেকের থেকে গড়ে ৪০ হাজার টাকা করে লুট করেছে সিইএসসি। ২০১১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মোট লুট হয়েছে ১৩ হাজার কোটি টাকা।

সারদা, রোজভ্যালি-সহ বিভিন্ন চিটফান্ড কেলেঙ্কারির মতো এটিও বর্তমান সরকারের আমলে বড় দূর্নীতি বলে উল্লেখ করে মুকুল রায় বলেন, “বিদ্যুতের দাম ঠিক করে স্টেট রেগুলেটরি অথরিটি। ২০১৫ সালে সিইএসসি দাম বাড়াতে চাইলে বিদ্যুৎমন্ত্রী মণীশ গুপ্ত জানিয়েছিলেন বিদ্যুতের দাম কমানো দরকার। কারণ, দেশের মধ্যে এই রাজ্যেই বিদ্যুৎ সব থেকে দামী। রেগুলেটরি অথরিটিও রাজি হয়নি। দাম নিয়ে এক মাসের মধ্যে রিপোর্ট চায় সিইএসসির থেকে। এর পরেই রাজ্য সরকার অথরিটিকে অথর্ব করে দেয়। কোনও ক্ষমতাই আর থাকে না। আর সেই সুযোগে বিদ্যুৎ মাসুল বাড়িয়ে দেয় সিইএসসি।”

মুকুল রায়ের বক্তব্য, সিইএসসিকে পাইয়ে দিতেই সরকার অথরিটির ক্ষমতা কেড়ে নেয়। এর মূল্য দিতে হয়েছে সাধারণ গ্রাহকদের। সেই লুটের টাকার ভাগ সরকার পেয়েছে না শাসকদলের কোনও ব্যক্তিবিশেষের পকেটে ঢুকেছে তা তদন্ত করে দেখা দরকার।

তদন্তের দাবি তোলার পাশাপাশি তিনি বলেন, “বিজেপি ক্ষমতায় এলে বিদ্যুতের দাম কমানো হবে। গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪০ হাজার করে টাকা দেওয়া হবে।” এই ঘোষণাই বুঝিয়ে দিচ্ছে শেষ দফায় বিজেপির প্রচারে নতুন ইস্যু হতে চলেছে বিদ্যুতের দাম। সিইএসসি-এলাকার বড় অংশেরই ভোটগ্রহণ রয়েছে এই দফায়।

Comments are closed.