লক্ষ্য লোকসভা ভোট, সন্ত্রাসের ছবি নিয়ে কমিশনে মুকুল

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোট-সন্ত্রাসে কী ভাবে পুড়েছে বাংলা, গত এক মাস ধরে তা দেখেছে সবাই। পঞ্চায়েত নির্বাচনে হিংসার সেই ছবি ও ভিডিও নিয়ে এখন থেকেই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দরজায় কড়া নাড়তে চলে গেলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়।

শুধু মুকুল রায় বা দিলীপ ঘোষ নন, পঞ্চায়েত নির্বাচনে ‘সাফল্যের’ পর বাংলায় এ বার লোকসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন খোদ বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। তাঁর লক্ষ্য আগের বারের তুলনায় অনেক বেশি আসন বাড়ানো। কারণটা পরিষ্কার, উত্তর ও পশ্চিম ভারতের রাজ্যগুলিতে আর আসন বাড়ানোর সুযোগ নেই বিজেপি-র। সেখানে সম্পৃক্ত হয়ে গিয়েছে। বরং আসন কমার আশঙ্কা রয়েছে উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, দিল্লি, হরিয়ানা, গুজরাত ও মহারাষ্ট্রে। ঘাটতি কমাতে তাই এ বার পূবে নজর পড়েছে বিজেপি-র। ফলে মুকুলবাবুদের উপর চাপ রয়েছে অমিতেরও। সূত্রের খবর, দলের রাজ্য নেতাদের সঙ্গে বসে কৌশল নির্ধারণের জন্য এ মাসের শেষে বা আগামী মাসের গোড়ায় কলকাতা সফরে আসতে পারেন বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি।

আরও পড়ুন:  এত হিংসা, অথচ পঞ্চায়েতের সেরার তালিকায় নেই বাংলা

এ প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখা ভাল, নির্বাচন কমিশন বলে প্রতিষ্ঠানটি কী ভাবে চলে, তথ্য ও পরিসংখ্যান দিয়ে কী ভাবে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায় বা প্রভাবিত করা যায় তা মুকুল রায়ের এক্কেবারে গুলে খাওয়া। তাঁর পুরনো দল তৃণমূলে তাঁর অতি বড় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষও আড়ালে আবডালে সে কথা স্বীকার করেন। একদা সিপিএমের সন্ত্রাসের মোকাবিলায় নির্বাচন কমিশনের চোখ খুলে দিতে কার্যকরী ভূমিকা ছিল তার। কমিশনের দফতরে তখন আকছার হত্যে দিয়ে পড়ে থাকতেন মুকুল। সেই পুরনো সলতে পাকানোটাই আবার শুরু করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন: অভিষেকের কাছে ক্ষমা চান মুকুল রায়, নির্দেশ আদালতের

মুকুলবাবু রবিবার বলেন, “পঞ্চায়েত নির্বাচনে কী ধরনের বল্গাহীন সন্ত্রাস হয়েছে, তা তিন পর্বে ভিডিও করে রেখেছি। প্রথম খণ্ড মনোনয়ন পর্বে সন্ত্রাস নিয়ে। দ্বিতীয় খণ্ডে রয়েছে ভোট গ্রহণের দিনে সন্ত্রাসের ছবি। এ ছাড়া আরও এক সেট ভিডিও তৈরি করেছি গণনার দিন গণনাকেন্দ্রে ঢুকে পড়ে কী ভাবে ছাপ্পা মেরে, আগুন জ্বেলে, বোমা মেরে সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে তা নিয়ে।“ মুকুলবাবু জানান গত পরশু শুক্রবার নয়াদিল্লির অশোক রোডে কমিশনের সদর দফতরে গিয়েছিলেন তিনি। পঞ্চায়েত ভোটে হিংসা ও সন্ত্রাসের ব্যাপারে একটি নথিও পেশ করেছেন। সেই সঙ্গে জানিয়েছেন, ভিডিও ফুটেজগুলিও তিনি শিগগির পাঠাবেন। তাঁর কথায়, “জাতীয় নির্বাচন কমিশনকেও ভাবতে হবে, কর্নাটকে ৫ কোটি মানুষ ভোট দিলেন, ভোটের আগে পরে কারও জীবনহানি হল না। অথচ বাংলায় পঞ্চায়েত ভোটের কেন বলি হলেন কুড়ি জনের বেশি নিরীহ প্রাণ!”

আরও পড়ুন: এত হিংসা, অথচ পঞ্চায়েতের সেরার তালিকায় নেই বাংলা

গত অক্টোবর মাসে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপি-তে যোগ দিয়েছিলেন মুকুলবাবু। তার কয়েক মাস পরেই দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁকে পঞ্চায়েত ভোটের দায়িত্ব দেন। মুকুলবাবুর বক্তব্য, “একশো শতাংশ সফল হয়েছি বলব না। তবে পরিসংখ্যান হাতের সামনেই রয়েছে। গত বার গ্রাম পঞ্চায়েতে ৫৮৪টি আসন পেয়েছিল বিজেপি। এ বার পেয়েছে তার দশ গুণ বেশি আসন। তা ছাড়া পঞ্চায়েত সমিতিতে প্রায় আটশো আসনে জিতেছে। এতো সন্ত্রাস সত্ত্বেও জেলা পরিষদে আসন জিতেছে বিজেপি। মনোনয়নের দিন থেকে শুরু করে গণনা কেন্দ্রের মধ্যে যে রকম শাসক দলের হামলা হয়েছে, তা রুখতে পারলে আসন আরও বাড়ত।“

যদিও প্রশ্ন থেকে যায়, তৃণমূলকে এ ধরনের সন্ত্রাসে হাতে খড়ি দিয়েছেন কে? বরং ঘরোয়া মহলে তৃণমূলের অনেক নেতাই বলছেন, সন্ত্রাসের যে পরম্পরা চলছে বাংলায় তা তৃণমূলে মুকুলায়নের জন্যই হচ্ছে। বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের অবশ্য বক্তব্য, তিনি যখন তৃণমূলে ছিলেন তখন অর্থাৎ ২০১৩ সালে ১১ শতাংশ আসনে বিরোধী মনোনয়ন পেশ করতে পারেনি। এ বার তা ৩৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এবং এ প্রসঙ্গেই বারবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিতে চাইছেন মুকুল।

প্রসঙ্গত, গত লোকসভা নির্বাচনে পাঁচ দফায় ভোট হয়েছিল বাংলায়। ২০১৬ সালে সব রেকর্ড ভেঙে ভোট সাত দফায়। প্রশ্ন হল, এ বার কি তবে আরও কড়া হবে কমিশন?  মুকুলবাবুর দাবি, ”কমিশন কী ব্যবস্থা নেবে তা আগাম বলা সম্ভব নয়, তবে নির্বাচন প্রক্রিয়া অবাধ ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে পারলে বাংলায় কম করে ২১টি লোকসভা আসনে জিততে পারে বিজেপি।“

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More