বৃহস্পতিবার, জুন ২৭

হুগলির রিটার্নিং অফিসার কি পোস্টিং-এর কথা ভাবছেন, প্রশ্ন তুলে কমিশনের উপর চাপ মুকুলের

দ্য ওয়াল ব্যুরো:  রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে কেন্দ্রীয় বাহিনী রুটমার্চ শুরু করেছে। বাদ নেই শহর কলকাতাও। কিন্তু হুগলিতে কেন এখনও কেন্দ্রীয় বাহিনী নামল না, তা নিয়ে জেলার রিটার্নিং অফিসার (জেলাশাসক) ও  পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে সোজাসুজি অভিযোগ তুললেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়।

প্রার্থী ঘোষণার পর এই প্রথম প্রকাশ্য কর্মসূচিতে নামলেন পোড়  খাওয়া একদা তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড। রবিবার মুকুল গিয়েছিলেন হুগলির জেলা সদর চুঁচুড়ায়। সেখানে হুগলি কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের সমর্থনে একটি সভা করেন মুকুলবাবু। সেই সভার শেষে মুকুল বলেন, “ভবিষ্যতের পোস্টিং-এর কথা ভেবে হুগলির রিটার্নিং অফিসার অবাধ ভোট চান না।” সোমবারই এই জেলার রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রাক্তন রেলমন্ত্রী।

এমনিতেই বিরোধীদের অভিযোগ, আরামবাগ মহকুমা—সহ হুগলির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে শাসক দলেরর দাপটে অন্য কোনও রাজনৈতিক দল স্বাভাবিক রাজনৈতিক কাজকর্ম করতেই পারে না। এ দিনও মুকুলবাবু উদাহরণ দিয়ে বলেন, ধনেখালি ব্লকে দেওয়াল লিখতে দেওয়া হচ্ছে না বিজেপি কর্মীদের। স্বাভাবিক রাজনৈতিকক কর্মকাণ্ড বন্ধ।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এ দিনের মুকুলবাবুর মন্তব্যের তাৎপর্য বৃহৎ। একে শুধু হুগলিতে আটকে রাখলে ঠিক হবে না। আসলে তিনি নির্বাচন কমিশনের উপর চাপ তৈরি করা শুরু করে দিলেন। কারণ অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট করানোর দায়িত্ব কমিশনের। আর তা কমিশনকেই সুনিশ্চিত করতে হবে। দরকার হলে এখানকার আধিকারিকদের সরিয়ে বাইরে থেকে অফিসার এনে ভোট করাতে হবে বলে দাবি বিজেপি-র।

তাঁর মতো ভোট বোঝা রাজনীতিক বাংলায় বিরল। সে ভোটের সংগঠন হোক বা কমিশনের আইনকানুন, সবটাই তাঁর গুলে খাওয়া। তৃণমূলে থাকতেও একই কাজ করতেন মুকুলবাবু। অনেক দিন আগে থেকেই সলতে পাকাতে শুরু করেছিল বিজেপি। কমিশনের ফুল বেঞ্চ যখন কলকাতায় এসেছিল, তখনও পঞ্চায়েত ভোটের হিংসার কথা তুলে ধরা হয়েছিল তাঁদের সামনে। দিন পনেরো আগে গিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আরিজ আফতাবের সঙ্গে দেখা করে মুকুলবাবুর নেতৃত্বে গেরুয়া শিবির স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, বাংলার প্রশাসন দিয়ে নিরপেক্ষ ভোট করানো সম্ভব নয়। এ বার সেই কাজেই আরও গতি আনতে ময়দানে নেমে পড়লেন মুকুল।

যদিও তৃণমূল এ সবে মাথা ঘামাচ্ছেন না। শাসক দলের হুগলি জেলার সভাপতি তথা রাজ্যের মন্ত্রী তপন দাশগুপ্ত বলেন, “কমিশন কাকে রাখবে, কাকে সরাবে সেটা তারাই ঠিক করবে। তবে ভোট তো দেবে মানুষ। মুকুলবাবুরা ভয় পেয়েই এ সব কথা বলছেন।”

Comments are closed.