হই চই প্রচুর আছে, মজা আছে তো? যদিও প্রচুর চেষ্টা করেছেন দেবরা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

শমীক ঘোষ

গল্পের গরু ‘উজবুক’-ই-স্তানে। হ্যাঁ, তাইই। উজবেকিস্তানে নিয়ে এই পানটাও শোনা গেল ছবিতেই। বেশ কয়েকবার।
কোনও যুক্তি নেই, সেই অর্থে কোনও নিটোল গল্পও নেই। থাকার কথাও নয়। পরিচালক তাই তো চেয়েছিলেন। একদম স্ল্যাপস্টিক – সিচুয়েশনাল কমেডি বানাতে।

কুমার – দেব ঘরজামাই। স্মার্ট, সুদর্শন, ধান্দাবাজ অথচ মজার। তাঁর বদমায়েশিতে জেরবার বড়লোক শ্বশুর কাজল সেন (দুলাল লাহিড়ী)। তাঁর সঙ্গে এসে জুটলেন দুই বউ নিয়ে জেরবার বিজন চিড়িমার (খরাজ), মোটর মেকানিক আজম খান (অর্ণ) এবং রিটায়ার্ড এয়ারফোর্স অফিসার অনিমেষ চাকলাদার (শাশ্বত)। চারজনের আলাপ উঁচু বাড়ি থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করতে গিয়ে। আর সেখানেই তাঁদের আলাপ অদ্ভুত এক চরিত্রের (রজতাভ দত্ত) সঙ্গে। আত্মহত্যাপ্রবণ এই চারজনকে তিনিই পরামর্শ দেন জীবন ‘সার্ভিসিং’ করতে উজবেকিস্তানে যাওয়ার জন্য। রজতাভর অভিনীত চরিত্রটি আসলে ঠগ। কখনও তিনি আত্মহত্যা করতে যাওয়া লোকদের বাঁচান। তো কখনও আবার গৃহশিক্ষক জোগাড়ের এজেন্সি চালান। আবার কখনও তিনি ট্র্যাভেল এজেন্ট। আবার শেষে গোয়েন্দা রূপেও দেখা যায় তাঁকে।

আরও পড়ুন: প্রসেনজিতের এমন একটা স্মরণীয় পারফর্ম্যান্সের সর্বনাশ করলেন খোদ কৌশিক!

আর এই উজবেকিস্তান যেতে গিয়েই গোলমালে এই চারজনই হয়ে ওঠেন প্লেন হাইজ্যাকার হিসাবে সন্দেহভাজন। আবার নিজেদের স্বামীদের খুঁজে বার করতে উজবেকিস্তানে গিয়ে হাজির হন বিজনের দুই বউ (কনীনিকা ও মানসী), কুমারের বউ (কৌশানী) এবং আজমের বউ (রোজা)।

মিডিয়া থেকে মোদী, অনেককেই খোঁচা দিলেন অনিকেত। আর এই সব নিয়েই আনলিমিটেড হই চই হওয়ার কথা ফিল্ম জুড়ে। হয়। কিন্তু হয় না। কারণ ইন্টারভালের আগে অবধি মাঝে মাঝে হাসি পেলেও শেষ অবধি পুরোটাই যেন কেমন কাতুকুতু দিয়ে হাসানোর চেষ্টা বলে মনে হয়। ‘ছ-এ ছুটি’, ‘বাই বাই ব্যাঙ্কক’-এর মতো হাসির ছবি করা অনিকেত চট্টোপাধ্যায় স্ল্যাপস্টিক করতে গিয়ে কোথায় যেন খেই হারিয়ে ফেললেন। খুব কড়া ধাতের সমালোচক হয়ত বলবেন বেমক্কা ফেল করলেন। একে গল্পের মাথামুণ্ডু তিনি রাখতে চাননি। তার ওপর স্ল্যাপস্টিক করতে গিয়ে কোথায় যেন ব্যাপারটা দর্শকের জন্য স্ল্যাপ এবং স্টিক হয়ে গেল।

আরও পড়ুন: গ্র্যাঞ্জারে অনবদ্য পিরিয়ড পিস, ভাওয়াল রাজা যেন জীবন্ত

এই ধরনের ছবি করতে সিদ্ধহস্ত একজন আমাদের অনেকেরই প্রিয়। তিনি প্রিয়দর্শন। সবার সেটা পারার কথা নয়। অনিকেত নিজেকেই একবার জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন তিনি পেরেছেন কিনা।

নিজের স্টিরিওটাইপ ভাঙার বার বার চেষ্টা করছেন দেব। এক্ষেত্রেও তিনি ভীষণ সফল। তাঁর ভক্তদের জন্য এই ছবিতেও তিনি ষোলআনার উপর আঠারো আনা। তাঁকে দেখতেই হলে ছুটবেন তাঁরা।

পাওনা উজবেকিস্তানের মহিলা গাইড লোলার চরিত্রে পূজাও। দেবের সঙ্গে তাঁর কেমিস্ট্রি দারুণ। বিকিনি দৃশ্যে হোক বা মিলিটারি পোশাকে, মোহময়ী তিনি।

বিকিনি দৃশ্যে মোহময়ী কৌশানীও।

দ্য ওয়াল পুজো ম্যাগাজিন ১৪২৫ পড়তে ক্লিক করুন

এই ধরনের অভিনয়ে মোক্ষম খরাজ। এ ছবিতেও তিনি তাঁর প্রমাণ দিলেন।

রজতাভ, মানসী, কনীনিকা। তিনজনেই যতটা সুযোগ পেয়েছেন ততটাই দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। স্ক্রিপ্টে শাশ্বতর জন্য বিশেষ কিছু করার ছিল না। তাই তার মতো প্রতিভাবান অভিনেতাও কিছু করতে পারলেন না। অর্ণ ঠিকঠাক।

এই ছবি ভালোলাগার দুটোই শর্ত। এক, লজিক খুঁজলে চলবে না। আর দুই, দেবের ভক্ত হতে হবে। তা না হলে… টিকেটের সঙ্গে পপকর্ণ বা চিলি গার্লিক পোটাটো পপ-এর টাকাটা একটু বেশি করেই ধরে রাখুন। বারে বারে অর্ডার দিতে হতে পারে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More