বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮

কর্ণাটকে ইস্তফা আরও ১ বিধায়কের, কংগ্রেসের মিটিং-এ অনুপস্থিত ১২

দ্য ওয়াল ব্যুরো : যত সময় যাচ্ছে, ততই সরকার বাঁচানো কঠিন হয়ে উঠছে কর্ণাটকে শাসক কংগ্রেস-জেডি এস জোটের পক্ষে। মঙ্গলবার কংগ্রেসের আরও এক বিধায়ক ইস্তফা দিয়েছেন। তিনি বেশ কিছুদিন ধরেই বিক্ষুব্ধ ছিলেন। প্রকাশ্যে নিজের দলের নেতাদের বলতেন ভাঁড়। গত মাসে কংগ্রেস তাঁকে সাসপেন্ড করে। এই নিয়ে শাসক জোটের ১৪ জন বিধায়ক ইস্তফা দিলেন। বিধানসভার অধ্যক্ষ রমেশ কুমার মঙ্গলবার ইস্তফাপত্রগুলি খতিয়ে দেখবেন। তিনি যদি ১৪ জনের ইস্তফা গ্রহণ করেন তবে সরকার নিশ্চিতভাবেই সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে।

কংগ্রেস সূত্রে খবর, নেতারা আশঙ্কা করছেন, শীঘ্র আরও কয়েকজন দল ছাড়তে পারেন। এদিন কংগ্রেসের এমএলএ-রা বৈঠকে বসেন। দল নির্দেশ দিয়েছিল, প্রত্যেক বিধায়ককে আসতেই হবে। তারপরেও দেখা যায়, ১২ জন অনুপস্থিত। তিন বিধায়ক জানিয়েছেন, তাঁদের শরীর খারাপ। যাঁরা মিটিং-এ এসেছিলেন, তাঁরাও সবাই শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের প্রতি অনুগত থাকবেন কিনা বলা যাচ্ছে না। মিটিং থেকে বেরিয়ে বিধায়ক সৌম্যা রেড্ডি বলেছেন, জোট সরকার টিকবে কিনা নিশ্চিত নন। এমনকী নিজের দলত্যাগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।

সৌম্যা রেড্ডির বাবা রামলিঙ্গ রেড্ডি গত শনিবার স্পিকারের অফিসে ইস্তফাপত্র দিয়ে এসেছেন। সৌম্যা এদিন বলেন, আমাদের দল দু’মুখো নীতি নিয়ে চলছে। এতেই আমার বাবা বিরক্ত হয়ে উঠেছিলেন।

তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, আপনিও কি দল ছাড়ছেন? তিনি বলেন, এখনও ভেবে দেখিনি। তবে ইস্তফার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছি না। প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের প্রতি আমি বীতশ্রদ্ধ।

কংগ্রেস নেতা সিদ্দারামাইয়া দলত্যাগীদের প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা স্পিকারকে অনুরোধ করেছি, যাঁরা ইস্তফা দিয়েছেন, তাঁদের ছ’বছর ভোটে দাঁড়ানো বন্ধ করে দিন। তবে আমি এখনও তাঁদের কাছে অনুরোধ করছি, রেজিগনেশন লেটার ফিরিয়ে নিন। দলে ফিরে আসুন।

স্পিকার রমেশ কুমার যদি ইস্তফা গ্রহণ করেন, তাহলে ২২৪ আসন বিশিষ্ট কর্ণাটক বিধানসভায় শাসক জোটের বিধায়ক সংখ্যা আসবে ১০২ তে। তখন বিধানসভায় গরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য প্রয়োজন হবে ১০৫ টি আসন। বিজেপির ১০৫ টি আসন আছে। তার ওপর দুই নির্দল বিধায়কও তাদের সমর্থন করেছেন।

কংগ্রেস ও সেকুলার জনতা দলের যে বিধায়করা ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন, তাঁদের মুম্বইতে এক বিলাসবহুল হোটেলে রাখা হয়েছিল। হোটেলের সামনে যুব কংগ্রেসীরা বিক্ষোভ দেখায়। পরে দলত্যাগীদের হোটেল থেকে কোনও গোপন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

Comments are closed.