রবিবার, অক্টোবর ২০

যদি মিথ্যা অভিযোগই হয়, আপনি ক্ষমা চেয়েছিলেন কেন, তেজপালকে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার মামলা প্রত্যাহার করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানিয়েছিলেন সাংবাদিক তরুণ তেজপাল। এক সহকর্মী তাঁর বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ আনেন। সাংবাদিকের দাবি, ওই অভিযোগ মিথ্যা। কিন্তু বিচারপতি প্রশ্ন করলেন, যদি মিথ্যা অভিযোগ করা হয়ে থাকে, তিনি মেয়েটির কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন কেন?

সুপ্রিম কোর্ট সোমবার তরুণ তেজপালের আর্জি নাকচ করে বলেছে, তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আছে, তা গুরুতর এবং নৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত দূষণীয়। গোয়া কোর্টে তাঁর বিচার হবে। সর্বোচ্চ আদালত সেই কোর্টকে নির্দেশ দিয়েছে, বিচার শেষ করতে হবে ছ’মাসের মধ্যে।

এর আগে মুম্বই হাইকোর্টের গোয়া বেঞ্চ তরুণ তেজপালের বিরুদ্ধে মামলা খারিজ করতে রাজি হয়নি। তখন সাংবাদিক সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। তিনি একসময় তহেলকা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। তাঁর এক সহকর্মী অভিযোগ করেন, ২০১৩ সালের নভেম্বরে গোয়ায় পত্রিকার একটি অনুষ্ঠান চলার সময় সম্পাদক তাঁর শ্লীলতাহানি করেন। পাঁচতারা হোটেলের এলিভেটরের মধ্যে ওই ঘটনা ঘটেছিল।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে উত্তর গোয়ার মাপুসা শহরে এক আদালতে তরুণ তেজপালের বিরুদ্ধে চার্জ গঠিত হয়। অভিযোগ, তিনি এক সহকর্মীকে যৌন হেনস্থা করেছেন এবং বেআইনিভাবে আটকে রেখেছেন। তেজপাল হাইকোর্টে মামলা খারিজের আর্জি জানিয়ে বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, যে সময় যৌন হেনস্থা হয়েছিল বলে অভিযোগ, তার ঠিক পরে অভিযোগকারিণী স্বাভাবিক আচরণ করছেন।

সুপ্রিম কোর্টে তেজপাল ওই সিসিটিভির কথা উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট পালটা বলে, অভিযোগ যদি মিথ্যাই হবে, তাহলে তরুণ তেজপাল ই-মেলে মেয়েটির কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন কেন? বিচারপতি মিশ্র বলেন, অবাঞ্ছিত কিছু নিশ্চয় ঘটেছিল।

গোয়া পুলিশের হয়ে তরুণ তেজপালের বিরুদ্ধে সওয়াল করেন সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি বলেন, এখনও বিচার শুরুই হয়নি। পুলিশের কাছে এমন কয়েকটি ই-মেল আছে যা তরুণ তেজপালের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসাবে গণ্য করা যেতে পারে।

Comments are closed.