বিয়ের চার মাসেই মা, তাই শিক্ষিকাকে কাজে ফেরাচ্ছে না স্কুল!

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ের চারমাসের মধ্যে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন, এই অপরাধে স্কুলশিক্ষিকাকে কাজে ফিরতে দেয়নি স্কুল।  কেরলের কোটাক্কলের একটি সরকারি স্কুলের প্রাক প্রাথমিক বিভাগের এক শিক্ষিকা পুলিশের কাছে এই অভিযোগই করেছেন।  তাঁকে স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং স্কুলের অভিভাবক-শিক্ষক সমিতি মাতৃত্বকালীন ছুটির পরে কাজে ফিরতে বাধা দিয়েছেন।  কারণ তিনি বিয়ের মাত্র চার মাস পরেই শিশুকে জন্ম দিয়েছেন!

বছর ৩৩-এর ওই শিক্ষিকা জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছর ধরে তিনি ওই স্কুলে চাকরি করছেন।  তাঁর আগের বিয়ের বিচ্ছেদের মামলা চলছিল এবং তা বাস্তবায়িত হওয়ার ক্ষেত্রে ক্রমাগত সময় পেরিয়ে যাচ্ছিল।  পরবর্তী বিয়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন তিনি।  সে সময়েই আইনত বিচ্ছেদের আগেই নতুন পার্টনারের সাথে থাকতে শুরু করেন তিনি।  ইতিমধ্যে তাঁর আগের বিয়ের বিচ্ছেদও সম্পূর্ণ হয়ে যায়।

২০১৮-এর জুনে বিয়ের কিছুদিন পরে তিনি চারমাসের মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন করেন।  ছুটির আবেদনের দ্বিতীয় দিনেই তিনি সন্তানের জন্ম দেন।  ২০১৯ এর জানুয়ারির শেষে তিনি তাঁর ছুটি কাটিয়ে কাজে যোগ দিতে এলে চরম অপমান এবং লাঞ্ছনার শিকার হন তিনি।  স্তম্ভিত ওই শিক্ষিকা তাঁর অভিযোগে বলছেন, ঠিক কী কারণে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে পেরেন্ট-টিচার্স মিটিংয়ে তাঁকে অপদস্থ করা হয়েছে তিনি জানেন না এবং বুঝতে পারছেন না।  তিনি শিশুর অধিকার কমিশনে পুরো বিষয়টি জানিয়েছেন।  কমিশন ডেপুটি ডিরেক্টর অফ এডুকেশনের কাছে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে।  গরমের ছুটির পরে স্কুল খুললে, ডেপুটি ডিরেক্টর অফ এডুকেশন স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন এবং ওই শিক্ষিকাকে কাজে ফিরিয়ে নিতেও নির্দেশ দিয়েছেন।  কিন্তু এই নির্দেশও মেনে নেয়নি স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং পেরেন্ট-টিচার অ্যাসোসিয়েশন।

ভুক্তভোগী শিক্ষিকা বলছেন, এতকিছুর পরেও আমাকে রিজয়েন করতে দেওয়া হয়নি এবং বারবার আমাকে অপমান করা হয়েছে।  তাই ১৪ই জুন আমি পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে বাধ্য হয়েছি।  কোট্টাক্কলের সাবইন্সেপেক্টর সন্ধ্যা দেবী বলছেন, আমরা অভিযোগ লিখে নিয়েছি, তদন্ত শুরু করেছি।  ওই শিক্ষিকাকে তদন্তের স্বার্থেই আরও কিছুটা জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই সেই কেরল, যেখানে শিক্ষার হার ভারতের অন্য যে কোনও জায়গার চেয়ে বেশি।  সেখানেই যদি একজন শিক্ষিকার ব্যাক্তিগত জীবন এভাবে বিচার করা হয়, তাহলে কপালে চিন্তার ভাঁজ যে বাড়বে তা স্বাভাবিক।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More