বৃহস্পতিবার, জুন ২০

অবাক কাণ্ড! মিশরের ‘মমি জ্যুস’ পান করতে পিটিশনে সই পড়ল ২৩,৪৭৪

রূপাঞ্জন গোস্বামী: প্রস্তরনির্মিত শবাধার, তাতে রক্তবর্ণের তরল। সেই তরলে ভাসছে তিনটে কঙ্কাল! আর সেই তরলটাই পান করার জন্য উন্মত্ত হয়ে উঠেছেন বিশ্বের কিছু মানুষ। সংখ্যাটিও নেহাত ফেলনা নয়। এখনও পর্যন্ত এই ‘মমি জ্যুস’ পান করতে রাজি হয়েছেন  ২৩,৪৭৪ জন!
তা-ও আভার একেবারে অনলাইন পিটিশনে স্বাক্ষর করে। যে সে পিটিশন নয়। পিটিশনটি হোস্ট করছে পৃথিবী বিখ্যাত পিটিশন হোস্টিং ওয়েবসাইট change.org।  আর্কিওলজিস্টরা যতই  আসল রহস্য ফাঁস করে দিন নাছোড়বান্দা হয়ে আছেন অতি উৎসাহী কিছু নেটিজেন। তাঁরা মমি তিনটির  শবাধারে থাকা রক্তবর্ণের  জ্যুস পান করবেনই করবেন। মিশরের আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে করা সেই পিটিশনটির মোদ্দা কথা হলো, স্বাক্ষরকারীরা অভিশপ্ত শবাধারটি থেকে রক্তবর্ণ তরল  পদার্থটি এক প্রকার কার্বনেটেড এনার্জি ড্রিংক হিসেবে পান করতে চান। যাতে তাঁরা মমিদের শক্তি লাভ করতে পারেন এবং সব শেষে মৃত্যুবরণ করতে পারেন।

এই সেই পিটিশন

এ বছরের জুলাই মাসের ১৯ তারিখে,  প্রত্নতাত্ত্বিকেরা আলেকজান্দ্রিয়া থেকে পাওয়া একটি প্রাচীন শবাধার খোলেন। যেটি এর আগে  কোনও দিন খোলা হয়নি। শবাধারটি খুলে দেখা যায়,  তার ভেতরে প্রায় রক্তবর্ণের তরলে ভাসছে ২০০০ বছরের পুরোনো তিনটে কঙ্কাল। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। শবাধারের  তরলটির নাম দেওয়া হয় ‘মমি জ্যুস’।সেই সঙ্গে ইন্টারনেট থেকেই একটা তত্ত্ব খাড়া হয়ে যায়। এই তরলটি প্রকারান্তরে অমৃত। এই তরলের মধ্যে কোনও অপরিমিত শক্তি আছে। সেটি পান করলেই সেই শক্তির অধিকারী হওয়া যাবে।

বিশ্বখ্যাত পিটিশন ওয়েবসাইট  www.change.org -এ  তৈরি হয়ে যায় পিটিশন, দিন পাঁচেক আগে। ইন্নেস ম্যকেনড্রিকের লেখা পিটিশনে মিশরকে  বলা হয় এই পিটিশনের স্বাক্ষরকারীরা  মমি জ্যুস পান করার আবেদন করছেন। সেই আবেদনে সাড়া দিতে সোশ্যাল মিডিয়ায়  অনুরোধ করা হয় বিশ্বের সব মানুষকে। এই চাঞ্চল্যকর পিটিশনটিতে মাত্র পাঁচ দিনে  ২৩,৪৭৪ মানুষ সই করেছেন। পিটিশনটি তার লক্ষ্যমাত্রা ২৫,০০০ সইয়ের থেকে মাত্র কিছু দূরে।

যদিও কিছু স্বাক্ষরকারী দোটানায় আছেন। কারণ  শবাধারের তরল নিয়ে গবেষকদের রিপোর্টl গবেষকরা জানিয়েছেন, লাল তরলটি আসলে শবাধারের ভিতরে চুঁইয়ে ঢুকে পড়া পয়োপ্রণালীর  জল। এই জলের সঙ্গে মমির গায়ের রাসায়নিক ও হাড় মাংস মিশে এই আকর্ষণীয় রক্তবর্ণের তরলটি তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ দোটানায় থাকলেও, বাকি সাক্ষরকারীরা কিন্তু সমান উৎসাহ নিয়ে ইন্টারনেটে পিটিশনটির ব্যাপক প্রচার করে চলেছেন।

পিটিশনের বক্তব্য

আরও একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা বা রটনার মেঘ পাক খেতে শুরু করেছে  আলেকজান্দ্রিয়ার সমাধিটি ঘিরে। এর কারণ হলো,  দু’টি উত্তর না মেলা প্রশ্ন। প্রথমত, একই শবাধারে থাকা এই তিনটি কঙ্কাল কাদের ? দ্বিতীয়ত, তিরিশ টনের  সমাধি মন্দিরটি আসলে কার ? প্রথম প্রশ্নের উত্তর না এলেও দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরটি ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই।

আরও পড়ুনঃওরা হায়না,ওদের কাজ কিশোরীদের জোর করে ভোগ করা

আলেকজান্দ্রিয়ার এখনও পর্যন্ত পাওয়া সব চেয়ে বড় (প্রায় তিরিশ টন) সমাধিটি কি তাহলে গ্রীক বীর আলেকজান্ডারেরই?কারণ  আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট-ই  ৩৩১ খ্রিস্টপূর্বাব্দে  আলেকজান্দ্রিয়া শহরের পত্তন করেছিলেন। বিশ্ববিখ্যাত  ম্যাসিডোনিয়ান বীর ৩২৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ব্যাবিলনে (বর্তমানে ইরাক) মারা যান। কিন্তু তাঁর সমাধি আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি।যদিও অতীতে অনেক আর্কিওলজিস্ট দাবি করেছিলেন যে তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন আলেকজান্ডারের সমাধি। সে দাবিগুলি বিস্তর গবেষণার পর নস্যাৎ করেছেন গবেষকেরা। তা হলে কি অবশেষে খুঁজে পাওয়া গেলো গ্রীক বীরের শেষ আশ্রয়। তাহলে তো আরও ভয়ংকর ব্যাপার!

কারণ আলেকজান্ডারের সমাধি নিয়েও একটি  ভয়ংকর মিথ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ধরে বিশ্ব জুড়ে ঘুরে চলেছে। যিনি আলেকজান্ডারের সমাধি খুঁজে পাবেন, তাঁর অপঘাতে মৃত্যু অনিবার্য। মৃত্যু ঘটবে আলেকজান্ডারের অভিশাপে। ১৯২২ সালে আবিষ্কার হওয়া মিশরের কিশোর ফারাও তুতেনখামেনের সমাধি নিয়েও এ রকমই  মিথ আছে। যাঁরা তুতেনখামেনের সমাধি আবিষ্কার করেছিলেন, তাঁদের অনেকেরই নাকি  অপঘাতে মৃত্যু ঘটেছিলো। মৃত্যুগুলি সত্যি, কিন্ত তা তুতেনখামেনের অভিশাপে কি না তা প্রমাণ করা যায়নি।

সরানো হলো সমাধির ঢাকনা

মিশরের সুপ্রিম কাউন্সিল অফ অ্যান্টিকসের সেক্রেটারি জেনারেল ডঃ মোস্তাফা ওয়াজিরি যদিও বলেছেন, সমাধিতে পাওয়া দেহাবশেষ ও অনান্য নমুনা দেখে তাঁদের মনে হয়েছে, এই সমাধিটি আলেকজান্ডারের দ্য গ্রেটের নয়। তিনি সমাধিটি আবিষ্কার করা সহকর্মীদের ও স্থানীয়দের ভয় পেতে বারণ করেছেন। তাঁর কথায়, “আমরা শবাধারটি খুলেছি এবং পৃথিবী অন্ধকার হয়ে যায়নি। ঈশ্বরকে এর জন্য  ধন্যবাদ জানাই, আমিই প্রথম মানুষ যে প্রথম শবাধারে আমার পুরো মাথা ঢুকিয়েছিলাম। আপনারা দেখুন আমি আজও আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছি, এবং সুস্থ অবস্থায়।”

আরও পড়ুনঃসে কী কথা, আফ্রিকার এই দেশটির সরকারি ভাষা বাংলা ! 

সমাধিটি খোলার সময়ে ও পরে কেউ অপঘাতে মারা না গেলেও এই সমাধিটি এবং লাল রঙা তরলটি এখন ইন্টারনেটে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমাধিটি যাঁরই হোক, কঙ্কাল তিনটি যাঁদেরই হোক, তাতে কোনও মাথা ব্যাথা নেই পিটিশনকারীদের। মিনিটে মিনিটে বাড়ছে স্বাক্ষরকারীদের সংখ্যা। দাবি, তাঁরা ওই মমি জ্যুস পান করবেনই।

Leave A Reply