জিডিপি নিয়ে সতর্কতা নারায়ণমূর্তির, রাহুলের কটাক্ষ, মোদী হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত সোমবার ইনফোসিসের প্রতিষ্ঠাতা এন আর নারায়ণমূর্তি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, কোভিড অতিমহামারীর প্রেক্ষিতে ভারতের জিডিপি ব্যাপক হারে কমছে। হয়তো স্বাধীনতার পরে চলতি আর্থিক বছরেই সবচেয়ে হ্রাস পাবে দেশের মোট জাতীয় উৎপাদন। এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বুধবার কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে টুইট করেছেন, ‘মোদী হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়।’

২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দল বিজেপি স্লোগান দিয়েছিল, ‘মোদী হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়।’ অর্থাৎ মোদী থাকলে সবই সম্ভব। সেই স্লোগান নিয়েই এদিন কটাক্ষ করেছেন রাহুল।

নারায়ণমূর্তি মন্তব্য করেন, অর্থনীতিকে যে করেই হোক আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে হবে। ভাইরাসের সঙ্গেই বাঁচতে হবে মানুষকে। ইনফোসিসের প্রতিষ্ঠাতা লেখেন, “ভারতের জিডিপি কমপক্ষে পাঁচ শতাংশ কমবে। ১৯৪৭ সালের পরে হয়তো সবচেয়ে কম জাতীয় উৎপাদন হবে এই বছরে।”

এরপরে নারায়ণমূর্তি লিখেছেন, “বিশ্ব জুড়ে জিডিপি-ও কমেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমেছে যথেষ্ট পরিমাণে। পর্যটন প্রায় বন্ধই হয়ে গিয়েছে। আন্তর্জাতিক জিডিপি সম্ভবত পাঁচ থেকে ১০ শতাংশ কমতে চলেছে।”

অগাস্টের শুরুতেও অর্থনীতির হাল নিয়ে মোদীর সমালোচনা করেছিলেন রাহুল। তিনি টুইট করেন, “দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে যে যোগ্যতা দরকার তা মোদী বা তাঁর টিমের কারও নেই।”

বুধবারই অবশ্য জানা গিয়েছে, কোভিড ১৯ অতিমহামারীর ধাক্কায় বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে কয়েকটি বড় প্রকল্পের কথা ঘোষণা করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। সম্ভবত ১৩ অগাস্ট মোদী নতুন পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করবেন।

‘আত্মনির্ভর ভারত অভিযান’-এর অংশ হিসাবেই নতুন অর্থনৈতিক প্যাকেজের কথা ঘোষণা করা হবে। অর্থমন্ত্রকের এক উচ্চপদস্থ অফিসার জানিয়েছেন, কোভিড সংকটের হাত থেকে যাতে ইন্ডাস্ট্রি রেহাই পায়, অর্থনীতি ফের গড়ে ওঠে, সেজন্যই নতুন পলিসি তৈরি হয়েছে।

এর আগে জানা গিয়েছিল, সরকার চায়, ডিজিটাল মাধ্যমে কর আদায় করা হোক, করদাতাদের অধিকার সুরক্ষিত থাকুক, পরিকাঠামো সংক্রান্ত যে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলি এখন চালু রয়েছে, সেগুলি শেষ করে ফেলা হোক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে।

মঙ্গলবার সরকার জানিয়েছে, জুনে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকে শিল্পোৎপাদন কমেছে ৩৬ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে সরকার সমীক্ষা করে দেখেছে, কোন পদক্ষেপ নিলে আন্তর্জাতিক শিল্পমহল ভারতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে। একইসঙ্গে দেশীয় শিল্পকে চাঙ্গা করার জন্য কয়েকটি পণ্যের ওপরে আমদানি শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। কয়েকটি পণ্যের ইমপোর্ট লাইসেন্সের ফি বাড়ানো হয়েছে। সরকারের আশা, এর ফলে বিদেশি পণ্যের দাম বাড়বে। দেশে উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে।

এর আগে সরকার দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছিল। প্রথমত, মার্চের শেষে দেশ জোড়া লকডাউন জারি হওয়ার পরে প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ যোজনায় মহিলা, গরিব ও প্রবীণ নাগরিকদের অর্থ ও খাদ্যশস্য দেওয়ার কথা বলা হয়। দ্বিতীয়ত, মে মাসে ২০ লক্ষ কোটির আত্মনির্ভর প্যাকেজ ঘোষণা করে সরকার। তাতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ঋণ পাওয়া সুনিশ্চিত করা হয়। কৃষিক্ষেত্রেও কয়েকটি বড় সংস্কারের কথা ঘোষণা করা হয়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More