মসজিদে অচেনা ব্যক্তিকে পিটিয়ে মেরে পোড়ানো হল দেহ! ধর্ম অবমাননার গুজব বাংলাদেশের লালমণিরহাটে

৫,১০৭

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধর্ম অবমাননার ‘গুজব’ ছড়িয়ে পড়ায় গণহত্যার শিকার হলেন এক ব্যক্তি! বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের লালমণিরহাট জেলার এই ঘটনায় পুলিশ জানিয়েছে, তাঁকে পিটিয়ে মেরে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে দেহ। সে ভিডিও আবার কেউ বা কারা সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোডও করেছে। তবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি এখনও।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত কিছু মানুষ পুলিশের কাছে বয়ান দিয়ে জানিয়েছেন, লালমণিরহাটের পাটগ্রাম এলাকার বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে একটি মসজিদে নামাজ পড়তে এসেছিলেন নিহত ওই ব্যক্তি। তাঁর সঙ্গে আরও একজন ছিলেন। নামাজের পরে কোথাও একটা পা ঠেকে যাওয়া নিয়ে কথাকাটাকাটি হয় ওই দুই ব্যক্তির সঙ্গে মসজিদে উপস্থিত অন্যদের। গুজব ছড়িয়ে পড়ে, কোরানে পা দিয়েছেন তাঁরা।

জানা যায়, এর পরেই বহু লোক জড়ো হয়ে দুজনকে  ধরে ফেলে। তাঁকে পুলিশে দেওয়া হবে বলে ঠিক হয়। কিন্তু পুলিশ আসার আগেই আরও বহু লোক জড়ো হয়ে পেটাতে শুরু করে দুজনকে। পুলিশ এসে পৌঁছলে এক জনকে কোনও রকমে উদ্ধার করতে পারলেও, উন্মত্ত জনতার ভিড়ের মধ্যে থেকে আর একজনকে বার করতে পারেনি। কার্যত পুলিশের সামনেই ওই ব্যক্তির দেহ নিয়ে গিয়ে জ্বালিয়ে দেয় তারা।

প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তির কথায়, “৫-৬ হাজার মানুষ জড়ো হয়ে যায়। কারও কোনও নিয়ন্ত্রণ ছিল না। কাকে মারা হচ্ছে, কেন মারা হচ্ছে, কেউ কিছু না জেনেই ঝাঁপিয়ে পড়ে। রাস্তার ওপরেই পুড়িয়ে দেওয়া হয় ওই ব্যক্তিকে। উনি আদৌ মুসলিম কিনা, মসজিদে গিয়েছিলেন কিনা, কোরানে পা দিয়েছিলেন কিনা, কিছুই স্পষ্ট নয়। শুধুই শোনা গেছে কোরান শরীফে পা দিয়েছেন তিনি।”

ঘটনার পরেই তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় গোটা এলাকায়। পুলিশ ঘিরে ফেলে মসজিদ। নিহত ব্যক্তির পরিচয় জানার চেষ্টা করা হয়। তবে দেহটি একেবারেই পুড়ে যাওয়ায় পরিচয় বার করা মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতিমধ্যে তৌহিদুন্নবী বলে এক ব্যক্তি নিজেকে নিহতের ভাই বলে দাবি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, লোকমুখে খবর পেয়েছেন তাঁর ভাইয়ের গণহত্যার।

তিনি জানিয়েছেন, তাদের বাড়ি রংপুরে। তাঁর দাদা কেন লালমণিরহাটে গেছিলেন, তা জানেন না তাঁরা। দাদা স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। কারও সাতে পাঁচে থাকতেন না, স্কুল থেকে অবসরও নিয়েছেন। এই খবর পেয়ে তাঁর বাড়িতে ভেঙে পড়েছেন সকলে। তবে নিহত ব্যক্তি সত্যিই তৌহিদুন্নবী নামের ওই ব্যক্তির দাদা কিনা, সেবিষয়ে কোনও তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তির সঙ্গে থাকা একজন, পুলিশ যাঁকে রক্ষা করতে পেরেছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এ বিষয়ে জানা যেতে পারে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More