রবিবার, জানুয়ারি ১৯
TheWall
TheWall

আরও খারাপ হচ্ছে বৌবাজার পরিস্থিতি, এবার ঘর ছাড়তে হল মন্ত্রী তাপস রায়কেও!

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৌবাজারে স্বস্তি ফিরবে কত দিনে, জানে না কেউই। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে বই ভাল হচ্ছে না। যদিও সরকারি ভাবে তাঁদের কিছু জানানো হয়নি এখনও। যে ৩৫-৪০টি পরিবার নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে ধর্মতলা ও চাঁদনি চক চত্বরের হোটেলে গিয়ে রয়েছেন, তাঁরা এখনও জানেন না, কত দিন থাকতে হবে এ ভাবে। যাঁদের হোটেলে সরানো হয়নি, তাঁদের মধ্যে অনেকেই সতর্কতা নিয়ে আগেই ঘর ছাড়ছেন। অন্য জায়গায় থাকতে শুরু করছেন। যে বাড়িগুলি ভেঙে যায়নি, সেগুলির মধ্যে অনেকগুলিই ক্রমে বসে যাচ্ছে।

যেমন ১/৫বি, দুর্গা পিথুরি লেনের বাসিন্দা সোনালি পাল। আঝ, বৃহস্পতিবার, কিছু ক্ষণের জন্য বাড়িতে ঢুকে দরকারি জিনিস বার করে আনার অনুমতি পেয়েছিলেন অন্য ঘর-ছাড়াদের মতোই। কিন্তু ঘরে ঢুকে দেখলেন, অনেকটা বসে গেছে মেঝে। “সোমবার আমাদের যখন জোর করে বার করা হল, আমরা বলেছিলাম বাড়ি একদম ঠিক আছে, কেন জোর করে বার করছে পুলিশ। কিন্তু আজ দেখছি, ভেঙে না গেলেও, বাড়ির অবস্থা ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। বাড়িটাকে যেন কেউ চেপে বসিয়ে দিচ্ছে মাটিতে। খুব ভয় করছে এবার।”– বললেন সোনালি।

তবে এ বাড়িতে যদি ফেরা না-ও হয়, তা হলেও কোথায় থাকা হবে জানেন না সোনালি। সোনালি তো নেহাৎ সাধারণ মানুষ। তৃণমূলের মন্ত্রী তাপস রায়েরও বাড়ি এই বৌবাজার এলাকাতেই। ১০৫ বিপিন বিহারী গাঙ্গুলি স্ট্রিটের আবাসনে থাকেন তিনি। বৃহস্পতিবার ঘরছাড়াদের তালিকায় নাম উঠল তাঁরও।

টেলিফোনে দ্য ওয়াল-কে তাপসবাবু বললেন, “বুধবার রাতেই পুলিশ জানিয়েছিল ঘর ছাড়তে। আজ সকাল ১১টায় বেরিয়ে পড়তে হল সপরিবার। আপাতত আছি, পার্ক সার্কাসের কাছে একটি ফ্ল্যাটে, বিধায়ক-সাংসদদের জন্য সংরক্ষিত আবাসে। জানি না কত দিন থাকতে হবে। গত পাঁচ দিন ধরেই চোখের সামনে দেখছি একের পর এক বাড়ি ভেঙে পড়ছে। আমাদের ফ্ল্যাটের অবস্থাও ভাল নয়। তাই ঘর ছাড়তে হল। কিছু জিনিসপত্র নেওয়া সম্ভব হয়েছে। সব তো আর নেওয়া যাবে না। খুব জরুরি আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রগুলিই নিয়েছি শুধু।”

বৌবাজারের মত ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় টানেল বোরিং মেশিন নিয়ে কাজ করার সময়ে কি আরও একটি সতর্ক থাকার কথা ছিল না প্রশাসনের? এই প্রশ্নের উত্তরে তাপসবাবু বলেন, “আমি টেকনিক্যাল ব্যাপারস্যাপার বুঝি না। এখন যেটা হয়ে গেছে, সেটা কী করে মোকাবিলা করা যায়, সেটাই দেখার। এত এত পরিবার ঘরছাড়া, কবে ফিরতে পারবেন বা আদৌ ফিরতে পারবেন কি না কেউ জানে না। তাঁদের পুনর্বাসন নিয়ে ভাবনাচিন্তা করতে হবে।”

বৌবাজার পরিস্থিতি নিয়ে এ দিন নবান্ন-তে বৈঠক করেন ফিরহাদ ববি হাকিম। দু’তিন দিনের মধ্যেই সরকারের তরফে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে দিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন, “কারা টাকা পাবেন আর কারা পাবেন না, সেটা স্থানীয় কাউন্সিলর ও পুলিশ মিলে ঠিক করবে। যাঁদের কাগজপত্র হারিয়ে গেছে, তাঁদের স্থানীয় থানায় এফআইআর করতে হবে।”

ববি জানিয়েছেন, কোনও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার বাদ পড়বে না। সকলে ক্ষতিপূরণ পাবে। কিন্তু যত ক্ষণ না বিশেষজ্ঞ কমিটি অনুমতি দিচ্ছে, তত ক্ষণ বৌবাজার থেকে ধ্বংসস্তূপ সরানো হবে না। তিনি এ-ও জানান যে, পুরসভার তরফে এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, ঠিক কত দিন লাগতে পারে সমস্যা মিটতে।

Share.

Comments are closed.