বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

ধর্ষিতার বোনেরও শ্লীলতাহানি, বাবাকে গাছে বেঁধে মার, উন্নাওকাণ্ডের তদন্তে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত রবিবার দুর্ঘটনার পরেই উন্নাওয়ের ধর্ষিতার মা বলেছিলেন, জেল থেকে বিধায়ক কুলদীপ সেনগারই তাঁদের মারার চক্রান্ত করেছেন। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে উঠে এল আরও চমকপ্রদ তথ্য। তিনি বলেছেন, কুলদীপের ঘনিষ্ঠরা তাঁর আর এক মেয়েরও শ্লীলতাহানি করেছে। তাঁর স্বামীকে গাছে বেঁধে মারধর করেছে। তাতে তাঁর কিডনির গুরুতর ক্ষত হয়।

কিছুদিন আগে উইমেন রাইটস প্যানেলের প্রতিনিধিদের সামনে বিধায়কের অত্যাচারের কথা জানিয়েছেন নিগৃহীতার মা। তিনি বলেন, কুলদীপের গুন্ডারা আমাদের বাড়িতে এসে হুমকি দিত। বিধায়কের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে বলত। সেই সময় তারা আমার ছোট মেয়েরও শ্লীলতাহানি করেছিল। তাঁর কথায়, গুন্ডারা একবার আমাদের বাড়িতে হানা দিয়ে আমার শাশুড়িকেও মারধর করেছিল। আমার স্বামীকে গাছে বেঁধে বেধড়ক মেরেছিল। পরে গুন্ডারা তাঁকে ধরে নিয়ে যায়। সরকার আমাদের কোনও সাহায্য করেনি। কোনও ক্ষতিপূরণও দেয়নি।

গত বছর ৩ এপ্রিল উন্নাওয়ের ধর্ষিতার বাবাকে বিধায়কের ভাই অতুল সেনগার মারধর করে। পরে তার বাবাকেই বেআইনি অস্ত্র রাখার দায়ে গ্রেফতার করা হয়। জেলে এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি মারা যান। অভিযোগ, পুলিশের অত্যাচারেই তিনি মারা গিয়েছিলেন।

ধর্ষিতার মায়ের অভিযোগ, পুলিশ তাঁদের বিধায়কের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করতে বাধা দিচ্ছিল। এক বছর ধরে তাদের নানাভাবে পুলিশ হেনস্থা করেছে। পরে ধর্ষিতা ও তার পরিবারের লোকজন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বাড়ির সামনে গায়ে আগুন দিয়ে মরার চেষ্টা করেন। তখন উন্নাওয়ের ঘটনা জানাজানি হয়। তার পরে মামলার তদন্ত চলতে থাকে। এর মধ্যে ধর্ষিতার পরিবারের একজন রহস্যজনকভাবে মারা যান। গত রবিবার এক দুর্ঘটনায় মেয়েটির আরও দুই আত্মীয়ের মৃত্যু হয়। মেয়েটিও গুরুতর আহত হয়।

Comments are closed.